অভিশপ্ত রশিদপুর পয়েন্ট, এমপি মোকাব্বিরের খেদ

অভিশপ্ত রশিদপুর পয়েন্ট, এমপি মোকাব্বিরের খেদ

এনামুল কবীর :: আবার দুর্ঘটনা, আবার রশিদপুর! ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অভিশপ্ত সেই রশিদপুরেই আবারও মুখোমুখি দুটি বাসের সংঘর্ষে ৮ জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটলো, শুক্রবার সকালে। আহত প্রায় অর্ধশত। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে মনের ক্ষোভ আর খেদ উগড়ে দিলেন সিলেট-২ আসনের সাংসদ মোকাব্বির খাঁন।
 
শুধু এই এমপিই নয়, রাগ- ক্ষোভ ঝাড়লেন স্থানীয় সচেতন মানুষও। কারণ, ক’দিন পরপরই এই জায়গাটায় দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ অন্ধ বা কুম্ভকর্ণের নিদ্রায়। সচেতনতা সৃষ্টিতে কোন ভূমিকাই রাখছেন না তারা।
 
ঢাকা-সিলেট মহসড়কের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুর পয়েন্টের পাশেই বিশ্বানাথ বাইপাস সড়ক সংযুক্ত। রাস্তার এই অংশটি কিছুটা বাঁকা ও বিপদজনক! প্রায়ই এখানে দুই গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে প্রাণহানীর পাশাপাশি আহতের ঘটনাও প্রায় নিত্য-নৈমিত্তিক।
 
স্থানীয়রা বারবার এখানে একটি গোলচত্বর নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু কে শুনে কার কথা! এ ব্যাপারে তারা সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসসহ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রশিদপুর পয়েন্ট বছরের পর বছর ধরে রয়ে গেছে আগের অবস্থায় । আশ্বাসে আশ্বাসে দিনে দিনে জায়গাটি মৃত্যুপুরিতে পরিণত হলেও কারও কোন মাথা ব্যাথাই নেই। আর তাই নেই কোন উদ্যোগও।
 
শুক্রবার দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাংসদ মোকাব্বির খাঁন সেখানে উপস্থিত হন এবং গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। তিনি মনের খেদ ঝাড়তে ঝাড়তে বলেন, মাত্র কিছুদিন আগে এখানে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে আরও অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন।
 
তিনি বলেন, রাস্তাটি এখানে কিছুটা বাঁকা। আর তাই ঝুঁকিও বেশি। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন সতর্ক সংকেত নেই। এখানে সংশ্লিষ্টরা ‘রাস্তাটি বিপদজনক’, বা ‘আস্তে চলুন’ জাতীয় একটা সাইনবোর্ড টানাতে পারতেন। তাহলেও না হয় চালকরা কিছুটা সতর্ক হতেন।
 
তিনি নিজে এলাকাবাসীর সাথে একমত পোষণ করে বলেন, এখানে একটা গোলচত্বর খুব প্রয়োজন। অনেক আগেই সেটি নির্মাণ হওয়া উচিৎ ছিল। তাহলে দুর্ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পেতো। তিনি আরও বলেন, এলাকটি আমার সংসদীয় এলাকার বাইরে। কিন্তু তবু মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলব। যাতে এখানে একটা সতর্ক বাণী সংবলিত সাইনবোর্ড টানানো হয় এবং একটা গোল চত্বর নির্মাণ হয়, সেই চেষ্টা আমি চালিয়ে যাবো।
 
স্থানীয় লোকজন বলেন, বারবার অনুরোধ, আবেদন নিবেদন বা স্মারকলিপির মাধ্যমে গোলচত্বরের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বে সরকারের সংশ্লিষ্টরা নির্বিকার। আর তাই দিনের পর দিন লাশ ঝরছে। পঙ্গুত্বের যন্ত্রণায় অভিশপ্ত জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।
 
তারা আরও জানান, এবার স্থানীয় সচেতন মানুষজন আন্দোলনের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
 
সিলেট প্রতিদিন/ইকে