‘আবোল তাবোল লকডাউন’

‘আবোল তাবোল লকডাউন’

নীরব চাকলাদার ::
বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সিলেটে প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারেও পৌছলেও সিলেটে এ বিষয়ে সচেতনতা নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে। সরকার সারাদেশে করোনা বৃদ্ধির হার প্রতিরোধে এক সপ্তাহের লক ডাউনের নির্দেশনা দিলেও তাতে সায় নেই সাধারণ মানুষের। তবে, সিলেটের সুশীল সমাজ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবে সরকারি নির্দেশনা একেবারেই ভেস্তে গেছে। সিলেটে লকডাউনের শুরু থেকেই প্রশাসনের দায়সাড়া ভাবকেই দায়ি করছেন তাঁরা। 
 
লকডাউনের ৩য় দিনেও সরব ছিল সিলেটের রাস্তাঘাট। যান চলাচল ছিল আগের মতোই। যার ফলে স্থানে স্থানে লক্ষ করা গেছে যানজটও। মোট কথা লকডাউন ঘোষণা করা হলেও যানজট ও জনজটের সেই চিরচেনা চিত্র দেখা গেছে বুধবার।  চলেছে রিক্সা, সিএনজি অটোরিকশা, মোটর সাইকেল রাইড ও বাসহ গণপরিবহন। দিনভর বেচা-কেনা হয়েছে ফুটপাতে।

নগরীর সোবহানীঘাট কাঁচাবাজারে কথা হয় সবজী ব্যবসায়ী আবদুল আলীমের সাথে। তিনি বলেন, লকডাউন কাঁচা বাজারে নেই। স্বাভাবিক দিনের মতোই এখানে যাওয়া আসা করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। তিনি বলেন, এটি লক ডাউন নয়, আবোল তাবোল লকডাউন’
 
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সকাল থেকে বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের আঞ্চলিক সড়কে বাস চলাচলের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই আসনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করেছে বাসগুলো। কোনো কোনো বাসে দাঁড়িয়ে ঠাসাঠাসি করেও যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। প্রথম দু’দিনের মতোই আদায় করা হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। তবে দুপুরের দিকে পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধের ভিত্তিতে বাস বন্ধ করা হয় বলে জানান সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।
 
সকাল ৮টা থেকে সিলেটে টাউন বাস চলাচলও শুরু হয়। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে টাউন বাস সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরেও যাত্রী পরিবহন করে। নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক সিট খালি রেখে যাত্রী পরিবহনের কারণে ৬০ ভাগ ভাড়া বেশি নেওয়ার কথা থাকলেও টাউন বাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এদিকে, লকডাউনের মাঝে ব্যবসায়ীরাও দোকান-পাট চালু করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা জানিয়েছেন, রোববার থেকে সিলেটে সব দোকান-পাট চালু করা হবে।

এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে, আসলে কোন দিকে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতি, কোন দিকে যাচ্ছে দেশ!