একই বিছানায় মানুষ ও কুকুরের ‘সুখনিদ্রা

একই বিছানায় মানুষ ও কুকুরের ‘সুখনিদ্রা


লাইফস্টাইল ডেস্ক :  পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠি উঠি ভাব। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘বৃক্ষমায়া’ নামে শরীরচর্চা করেন এমন একটি সংগঠনের সদস্যদের উচ্চস্বরে বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চা করতে ব্যস্ত দেখা যায়। উদ্যানে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণ করতে আসেন তারাও দ্রুত পায়ে হেঁটে ঘাম ঝরাতে ব্যস্ত।

ওয়াকওয়ের পাশে কাঠের তক্তা ও প্ল্যাস্টিকের ব্যানার বিছিয়ে আনুমানিক ছয়/সাত সদস্যের একটি ভাসমান পরিবারকে বেঘোরে ঘুমাতে দেখা যায়। কম্বল ও চাদর গায়ে মুড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর কারো পা বেরিয়ে আছে, কারো মাথা। ঘুমন্ত পরিবারটির পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে প্ল্যাস্টিকের দুই/তিন জোড়া পুরোনো জেন্টস ও লেডিস স্যান্ডেল, কয়েকটি মিনারেল ড্রিঙ্কিং ওয়াটারের খালি বোতল, শূন্য হাড়ি-পাতিল, মেলামাইনের প্লেট, কয়েকটি প্ল্যাস্টিকের বালতি। একটি বালতিতে বেশ কিছু লাল ও সাদা গোলাপ। পাশে মাটির তৈরি একটি চুলাও দেখা যাচ্ছে।

ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় প্রাতঃভ্রমণকারী অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছিলেন। কৌতূহলবশত সামনে এগিয়ে যেতেই দেখা যায়, উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা আনুমানিক তিন/চার বছর বয়সী একটি শিশুর পায়ের নিচে জবুথবু হয়ে ঘুমাচ্ছে একটি কুকুর। পরিবারটির সবার সঙ্গে কুকুরটির সুখনিদ্রায় যাওয়ার দৃশ্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল। ছোট শিশুটির গায়ের ওপর থেকে কম্বল সরে যাওয়ায় সে বারবার পা নাড়ালে তার পা বারবার কুকুরের গায়ে লাগছিল। কিন্তু তাতেও ঘুম থেকে উঠলো না কুকুরটি।


উদ্যানে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণকারী সারোয়ার আলম নামে এক ভদ্রলোক এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন, এ সমাজে কত পরিবার আছে যাদের নিজেদের বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট না থাকার জন্য আফসোস করে। আবার কারো একাধিক বাড়ি, গাড়ি ও অর্থ-সম্পদ রয়েছে। কিন্তু অনেকেই সুখে ঘুমাতে পারেন না। সেদিক থেকে ভাসমান এ মানুষগুলো অনেক সৌভাগ্যবান। নাওয়া-খাওয়ার ঠিক নেই, শীতের ভালো জামা-কাপড়, জুতা নেই কিন্তু ওরা শুয়ে পড়লেই ঘুমিয়ে পড়ে। পার্কের বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমায় ওরা। এক অর্থে ধনী ব্যক্তিদের চেয়ে ওরাই সুখে আছে- এ কথা বলে প্রাতঃভ্রমণকারী দু’জন সামনের দিকে এগিয়ে যান।

সিলেট প্রতিদিন /টিআই