এসপি ফরিদের ক্যারিশমেটিক জালে গ্রেফতার আকবর!

এসপি ফরিদের ক্যারিশমেটিক জালে গ্রেফতার আকবর!

প্রতিদিন প্রতিবেদক:: সিলেটে চাঞ্চল্যকর রায়হান হত্যা ঘটনার মুল আসামী এসআই (বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তাকে কানানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। বর্তমানে আকবর জেলা পুলিশের কাছেই রয়েছে। 


গত ১০ অক্টোবর শনিবার রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

মামলার পর থেকে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আকবরকে গ্রেপ্তারে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। এসপি ফরিদ উদ্দিনের নেটওয়ার্কের জাল সীমানার ওপারে বিস্তার করে। সেই জালে অত্যন্ত সু কৌশলে আটক করা হয় আকবরকে। 

নির্ভযোগ্য সূত্র জানায়, ভারত  ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী খাসিয়া পূঞ্জিতে নিজস্ব সোর্স নিয়োগ করেন এসপি ফরিদ। এ সোর্সের মাধ্যমেই গ্রেপ্তার হয় আকবর।

এদিকে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদের পরিবারের সদস্যরা আজ সোমবার (৯ নভেম্বর) সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। রায়হান হত্যা মামলার তদন্ত ও প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আলাপ করতে সোমবার ঢাকায় গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করবেন তারা।

জানা যায়, স¤প্রতি আমেরিকা থেকে রায়হানের চচা আব্দুল কুদ্দুস ও ইংল্যান্ড থেকে রায়হানের বোন জামাই দেশে এসেছেন। সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করতে তারা দুজনই ঢাকায় যাচ্ছেন । তাদের সাথে স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরানও ঢাকা যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মখলিছুর রহমান কামরান বলেন, রায়হানের চাচা ও বোনের জামাই স¤প্রতি দেশে এসেছেন। তারা প্রধান অভিযুক্ত বহিষ্কৃত এসআই আকবরসহ সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি নিয়ে সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সোমবার দেখা করতে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে স্থানীয় মুরুব্বি শওকত হোসেন ও আমি যাবো।’

এর আগে গত ২০ অক্টোবর সিলেট নগরের আখালিয়ায় রায়হানের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমার ধারণা পুলিশের বহিস্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভ‚ইয়া এখনো দেশ ছেড়ে পালাতে পারেনি। তবে দেশ ছেড়ে চলে গেলেও তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। 


উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

এদিকে, সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. আজবাহার আলী শেখের তত্ত¡াবধানে মহানগর পুলিশের তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভ‚ঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২১ অক্টোবর ফাঁড়ির আরেক এসআই হাসানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে গত ১৩ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বাতেন। পরে গত ১৫ অক্টোবর পিবিআই সিলেটের আখালিয়া নবাবি মসজিদ কবরস্থান থেকে রায়হানের মরদেহ উত্তোলন কাজ শেষ করে। ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা যায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু হয়।

পুলিশ থেকে পিবিআইর কাছে তদন্ত হস্তান্তরের পর এঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন উর রশিদকে দুই দফায় আটদিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে তারা কেউ স্বীকারোক্তিম‚লক জবানবন্দি দিতে সম্মত হননি। এছাড়া রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী সাইদুর শেখ নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।