এ কোন সাংবাদিকতা?

এ কোন  সাংবাদিকতা?
এনামুল হক:
সাংবাদিকতার একটি উৎস বা সোর্স হলো ফেসবুক। কিন্তু ফেসবুক কোন সাংবাদিকতা নয়। যদিও এখন 'সিটিজেন জার্নালিজম' এর আওতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবুও 'মেইন স্ট্রিম" বা মূল ধারার গণমাধ্যমের সাথে একে একাকার করার মিনিমাম কোন সুযোগ নেই।
কিছু দিন আগে এক ফেসবুক পেইজের উপস্থাপককে দেখলাম ধর্ষিতা কিশোরীর মাকে প্রশ্ন করছেন 'আপনার মেয়েকে কিভাবে ধর্ষণ করেছে', এরপর জিজ্ঞাসা করছে 'ধর্ষণ করার পর আপনার মেয়ে এসে আপনাকে কি বলেছে'?  একটি আঞ্চলিক ভাষায় এক ফেসবুক টিভির উপস্থাপককে দেখলাম কানাইঘাটে রহিম নামক এক ব্যক্তির সাথে কথা বলতে গিয়ে এমন ভাবে তাকে মুখোমুখি করা হয়েছে যা কখনোই কোন জার্নালিজম এথিক্স এর মধ্যে পড়েনা।
হাতে কলমে শিক্ষা, বিষয় ভিত্তিক যথাযথ প্রশিক্ষণ, উচ্চ শিক্ষা, উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি, বিনয়, বডি ল্যংগুয়েজ, স্মার্টনেস, ভাষা জ্ঞান, শব্দ চয়ন, ইনোভেটিভ মাইন্ড এসব গুলোই একজন ভাল মানের সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য। ফেসবুক লাইভে এসে যাচ্ছেতাই বলা, মূল ধারার গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ ভাবা, হঠাৎ গজিয়ে উঠে ক্যমেরার সামনে নিজেকে মস্তবড় সাংবাদিক ভাবা আজকাল কিছু ভুইফোড় এর স্পর্ধা হয়ে গেছে।
গতকাল পুলিশ সুপারের প্রেস কনফারেন্সে মূল ধারার গনমাধ্যম ছাড়া কোন ভুইফোড় বা 'ভেদভেদি'কে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এজন্য পুলিশকে ধন্যবাদ।
প্রতিটি গণমাধ্যমের একাধিক নির্ভরশীল অথরিটি রয়েছেন। আছেন একাধিক ইডিটর। কিন্তু এসব তথাকথিতদের কোন নিয়ন্ত্রক নেই। তারা "যখন যা পায় তাই দেখায়" এই সূত্রে নিজেদের গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো সিটিজেন জার্নালিজম এর দোহাই দিয়ে আপনি কি যাচ্ছেতাই করতে পারেন?
মূল ধারার গণমাধ্যমে কোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার হলে আপনি সংশ্লিষ্ট অথরিটির কাছে প্রকাশিত সংবাদে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন, আপনার বক্তব্য নেওয়া না হলে আপনি প্রতিবাদ বার্তা পাঠাতে পারেন, আপনার মনোপুত না হলে আপনি প্রেস ইনস্টিটিউট বা তথ্য মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দিতে পারেন সব পথ বন্ধ থাকলেও আপনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
কিন্তু ফেসবুক সাংবাদিকতার নামে এখন যা চলছে তার কোন অথরিটি না থাকার ফলে ইডিটর না থাকার ফলে ভুল এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ হরহামেশা প্রচার হচ্ছে। এতে লংঘন হচ্ছে সাংবাদিকতার নীতিমালা। এটি গণমাধ্যমের জন্য এক ধরনের হুমকি।
কোন কোন ক্ষেত্রে সুস্থ রাজনীতির অনুপস্থিতির কারনে কিছু কিছু পদলেহনারী আত্মপ্রচারকারী রাজনৈতিক নেতা সেই সব মিডিয়া পরিচয়ধারীদের কাছে নিজের চেহারা প্রদর্শন ও ছবি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট দিতে এই বিষয় গুলোকে গুরুত্ববহ করে তুলেছেন।
এদের নিয়ন্ত্রণ রেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য প্রশাসনকেই এগিয়ে আসতে হবে।
সিলেটের শতাধিক বছরের সাংবাদিকতার ঐতিহ্যের স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য পদ পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি গ্রাজুয়েশন নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি অপ-সাংবাদিকতা রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠন যেগুলো রয়েছে সেগুলোতেও এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া সময়ের দাবি। অথচ কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের নেতৃত্ব করায়ত্বে রাখতে নামে বেনামে ভুইফোড়দের এনে কথিত পত্রিকার কার্ড দিয়ে ভোটার বৃদ্ধির নামে অপ সাংবাদিকতার বিস্তারে তলে তলে ভূমিকা রাখছেন। সেই সব লোকদের মুখোশ সময়ে সময়ে জাতির সামনে প্রকাশ হচ্ছে।
ইংরেজিতে একটি কথা আছে 'হিষ্ট্রি রিপিট ইট সেলফ',  আজ আপনি একজনকে কলঙ্ক দিয়ে নিজেকে সুফি প্রমাণ করতে যাবেন কাল প্রকৃতি নিজস্ব শক্তির বলে আপনার কপালে কলঙ্কের তিলক বসিয়ে দিবে। ইতিহাস স্বাক্ষী সিলেটের সাংবাদিকতার রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। সেই দীর্ঘ ইতিহাস ঐতিহ্যকে গুটি কয়েক ভেদেভেদির জন্য ম্লান হতে দেওয়া যায় না। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসনকে এসব নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাই।
লেখক- বার্তা সম্পাদক, সিলেট প্রতিদিন
এএইচ