কত বৃষ্টিতে ভিজলে, রোদে পুড়লে মিলবে একটি ঘর

কত বৃষ্টিতে ভিজলে, রোদে পুড়লে মিলবে একটি ঘর

প্রতিদিন ডেস্ক :: ভাঙা জরাজীর্ণ ঘরে থেকেও সরকারি সহায়তার ঘর পায়নি জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলা অসহায় বিধবা ফুলমতি। এ গৃহহীন বিধবা ফুলমতি মেম্বারদের কাছে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, জেলার মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের ছবিলাপুর গ্রামের মৃত ফজল উদ্দিনের স্ত্রী ফুলমতি। দুই সন্তানের জননী বিধবা ফুলমতি। দুই বছর আগে স্বামী হারিয়ে বিধবা হয়েছে তিনি। স্বামীর ভিটা-বাড়ি ছাড়া তার আর কিছুই নেই। একমাত্র ছেলে শাহাবুদ্দিন অন্যের বাড়িতে ক্ষেত-খামারে কাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্রে জীবন যাপন করছে। সেই ছেলেও তার খোঁজ রাখে না। তার এমন বিপদে এগিয়ে আসেননি জনপ্রতিনিধিরা। স্বামীর রেখে যাওয়া একমাত্র সম্বল বসত ভিটাতে কোন রকমে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবন যাপন করছে বিধবা ফুলমতি। এখন পর্যন্ত তিনি পায়নি বিধবা, ভিজিডি কার্ড।

বিধবা ফুলমতি পাটকাঠি দিয়ে ঘর বানিয়ে কোন রকমে জীবন যাপন করলেও সরকারি সহায়তার ঘর জোটেনি তার। তাই মৃত্যুর আগে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানের জন্য স্থায়ী একটি ঘর চান তিনি।

সরেজমিনে বিধবা ফুলমতির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ আর পাট কাঠি দিয়ে কোনও রকমে তৈরি করেছে ছোট একটি ঝুপড়ি ঘর। সেই ঘরের বেড়া দেয়া হয়েছে পাট কাঠি দিয়ে। যখন আকাশে মেঘ জমে, তখন ফুলমতি চোখে মুখেও দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ঝেঁকে বসে। ঝড়-বৃষ্টিতে পাটকাঠি আর বাঁশ দিয়ে তৈরি ঘরটি বয়স্ক মানুষের মতোই থরথরিয়ে কাঁপে। যে রাতে বৃষ্টি আসে সে রাতে আর ঘুমানো হয় না ফুলমতির। বিছানার এক কোনে বসে রাত কাটিয়ে দেন তিনি। বৃষ্টি এলে সব কিছু ভিজে যায় তার।

ফুলমতির সঙ্গে কথা হলে কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, আমার খোঁজ খবর নিয়ে কি হবে। দুই বছর আগে স্বামী মারা গেছে। একমাত্র ছেলেটাও বউ-বাচ্চা নিয়ে অন্যত্রে সংসার করছে। আয় রোজগারের কেউ নেই। এ বয়সে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনও রকম জীবন চলে। এ পরিস্থিতিতেও সরকারি কোন সাহায্য মিলে না। এ বয়সেও বয়স্ক, বিধবা আর ভিজিডি কার্ড মিলে না। আর কত বয়স হলে বয়স্ক আর বিধবা ভাতার কার্ড মিলবে। আর কত বৃষ্টিতে ভিজলে, রোদে পুড়লে একটি ঘর মিলবে।

তিনি বলেন, করোনার জন্য সরকার অনুদান হিসেবে ২ হাজার ৫শ’ করে টাকা দিয়েছেন। মেম্বারের কাছে কত বলছি আমার একটা নাম দিতে। কিন্তু মেম্বাররা নাম দেয়নি।

বয়স্ক বিধবা ফুলমতির প্রতিবেশী আলম মিয়া জানান, বৃষ্টি বাদলের দিনে খুব কষ্ট করে ফুলমতি। তার ভাগ্যে এখন পর্যন্ত জোটেনি কোন ধরনের সরকারি সহায়তা।

ছবিলাপুরের স্থানীয়রা জানান, মেম্বার চেয়ারম্যানরা টাকার বিনিময়ে বয়স্ক, বিধবা ভাতার কার্ড দিয়ে থাকেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ লুটেপুটের ঘটনার অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। তাদের কারণে গরীব অসহায় মানুষগুলো সঠিকভাবে সরকারি কোনও সহায়তা পায় না।

ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, বিধবা ফুলমতি আমার কাছে এসেছিল। সে সময় তার বিধবা ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছি। এদের মধ্যে যাদের বিধবা ভাতার কার্ড হয়ে গেছে, তাদের "নগদ" একাউন্ট খোলা হয়েছে। তবে অনলাইনে আবেদনকারী সকল বিধবা পর্যায়ক্রমে বিধবা ভাতার কার্ড পাবে।

ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান জানান, বিধবা ফুলমতির বিষয়টি অবগত ছিলাম না। যেহেতু এখন বিষয়টি অবগত হয়েছি তার জন্য সরকারি সকল সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়টি জানা ছিল না। পরবর্তীতে নতুন ঘরের বরাদ্দ আসলে তার জন্য একটি ঘরের করে দেয়া হবে। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তার থাকার ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ