কানাইঘাটে স্ত্রী শাশুড়ি ও শালিকাকে নির্যাতন : ২ জনকে গ্রেফতার

কানাইঘাটে স্ত্রী শাশুড়ি ও শালিকাকে নির্যাতন : ২ জনকে গ্রেফতার

কানাইঘাট প্রতিনিধি: কানাইঘাটে লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির ডেওয়াটিলা গ্রামে স্ত্রী, শাশুড়ি ও শালিকাকে নির্যাতন ও মারধরের ঘটনায় কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত ২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে।
 
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার গভীর রাতে থানা পুলিশ ডেওয়াটিলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তছির আলীর পুত্র স্ত্রী, শাশুড়ি ও শালিকাকে নির্যাতনের মূল হোতা নজমুল আহমদ(২৫) ও তার ভাই দুদু মিয়া (৩০) কে গ্রেফতার করে।
 
জানা যায়, গ্রেফতারকৃত নজমুল আহমদ গত শনিবার গ্রামের হাওর এলাকায় বোরো ধান কাটছিল। তার স্ত্রী নাজমিন বেগম (২০) কে বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ধান কাটার স্থলে ইফতারের খাবার নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। সাড়ে ৪ মাসের কোলের বাচ্ছাকে বাড়িতে রেখে ইফতার নিয়ে যেতে না পারার কারণে বাড়িতে এসে নাজমিন বেগমকে বেদড়ক মারধর করে তার স্বামী নজমুল আহমদ। ঐদিন নাজমিনকে সেহরী খেতে দেয়নি স্বামীর বাড়ির লোকজন।
 
পরদিন রবিবার ইফতারের পর কোলের শিশুকে নিয়ে স্বামীর বাড়ির পাশে অবস্থিত পিত্রালয়ে চলে আসে নাজমিন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজমুল আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যরা নাজমিনের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়ে তার সাড়ে ৪ মাসের বাচ্ছাকে জোরপূর্বক ভাবে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে নাজমিন ও তার মা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪০) ও তার কিশোরী মেয়ে শারমিন বেগম (১৩) কে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর করে রক্তাক্ত যখম ও শারীরিক নির্যাতন করে নজমুল আহমদ ও তার পরিবারের লোকজন। তারা কিশোরী শারমিন বেগমের মাথায় কাঠ দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত যখম করে এবং তার মা ফরিদা বেগমকে প্রচন্ড মারধর করে আহত করে।
 
আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করে কানাইঘাট থানায় সোমবার রাতে নজমুল আহমদ সহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরোদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ফরিদা বেগম। এমন অমানষিক নির্যাতনের ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে পেরে তুলে ধরে সোমবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় লাইভ করেন। বিষয়টি তাৎক্ষনিক কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আব্দুল করিম ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তাজুল ইসলাম পিপিএম আমলে নিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করার জন্য থানার এসআই পার্থ সারতি দাস ও এএসআই শুভাশিষকে নির্দেশ দেন। তাদের নির্দেশে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে নজমুল আহমদ ও তার ভাই দুদু মিয়াকে গ্রেফতার করেন তারা। আসামীদের বিরোদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
 
এদিকে এ নির্যাতনের ঘটনার সাথে জড়িতদের তাৎক্ষনিক গ্রেফতার করায় থানার ওসি তাজুল ইসলাম পিপিএম এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা পুলিশের ভুমিকার প্রশংসা করেন।
 
এসএএম