কবি মিজান মোহাম্মদ এর 'মানুষমন্ত্র'

কবি মিজান মোহাম্মদ এর 'মানুষমন্ত্র'

ফকির ইলিয়াস

বইটি আজই হাতে পেলাম। বেরিয়েছে ২০১৯ এর একুশে বইমেলাকে ঘিরে। কবিতার বই। এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি'টি কবি আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তার অনুরোধ ছিল, আমি যেন বইটি সম্পর্কে কিছু লিখি। আমি লিখেছিলাম'ও। তা গ্রন্থের প্রথম ফ্ল্যাপে ছাপা হয়েছে।

মিজান মোহাম্মদ তরুণ কবি। তার জন্ম ১৯৮৫ সালের ২১ জানুয়ারি। কাকতালীয় ভাবে আজ আমেরিকায় ২১ জানুয়ারি ২০১৯। এই দিনেই আমি বইটি হাতে পেলাম। বলতে পারি, কবি'র জন্মদিন উপলক্ষে আমাকে পাঠানো উপহার।

স্মরণ করি, আমি ১৯৮৫ সাল থেকেই আমেরিকা অভিবাসী। কিন্তু আমাকে প্রীতি দেখিয়ে এই তরুণ কবি, আমাকে খুঁজেছেন। আমার কাছ থেকে তার বইয়ের ফ্ল্যাপ লিখিয়ে নিয়েছেন। এটা কি আমার কম অর্জন! না-মোটেও নয়।কারণ এই সময়ের একজন প্রতিভাবান তরুণ আমার মতো পরবাসী একজন প্রান্তিক'কে মনে রেখেছেন। এই সৌভাগ্য তো আমারই। মিজান কবিতার সাথে কথা বলেন। তার কথা, সর্বময় পাঠকের কথা।
তিনি লিখে রাখেন-

'ধরো, ব্যালকনিতে পাশাপাশি তুমি আর আমি মত্ত্ব জোছনাস্নানে। তুমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছো ভর করে আমার বাহুডোরে। এমন সময় রসিক চাঁদ তোমার কপালে টিপ আকঁলো । আমি মান করে জিজ্ঞেস করলাম - তুমি টিপ নিলে কেন? তুমি উত্তরে বললে- আশ্চর্য, আমি নিলাম কোথায়? বেচারা নিজেই তো দিয়ে গেল! আবারও প্রশ্ন করলাম, তুমি সায় না দিলে ওর সাহস হয় কেমন করে। তোমার উত্তর আমার সায়-সত্ত্বা সব শুধুই তোমার জন্য। সত্যি বলছো? হ্যাঁ গো হ্যাঁ, সত্যি ,সত্যি তিন সত্যি। তারপর আমার ওষ্ঠজোড়া তোমার কপাল , কপোল, তোমার সারা দেহে টিপ এঁকে দিলো।  আর  তুমি... 
প্রিয়তা এখানে স্বপ্নের ওড়াওড়ি । আমরা স্বপ্ন ওড়াই। স্বপ্ন বেচি। স্বপ্ন ধার দেই । স্বপ্ন নিয়ে খেলা করি।  তুমি কি স্বপ্ন নেবে ? 
[ কারিগর ]

এমন অনেক সাহসী পংক্তি আছে এই বইটিতে। আছে জাগতিক চেতনা ও আধ্যাত্মবোধও। তিনি যা ভেবেছেন তা লিখেছেন। আমাদের অনেক কাব্যকারই যা লিখেন- তা নিয়ে ভাবেন না। কিংবা যা বলেন, এর অর্থ জানেন না নিজেও। মিজান মোহাম্মদ তার পংক্তির পরতে পরতে নিজস্বতার সাক্ষর রেখেছেন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে।

যতই খুলে দেখো জীবনের খতিয়ান 
জোছনাধোয়া রাত, ভালোবাসার রোদ্দুর 
আঙুরী ঠোঁট, রক্তাক্ত চুম্বন, সল্টেড বুক 
                         সোমত্ত শরীর হিসাব 
কষে দেখো প্রিয়তা- জাগতিক সম্পত্তির মত 
অজাগতিক সকল সম্পদও অবচয়যোগ্য !
তাই জীবন বিবরণীতে সর্বদা 
ব্যয়সমূহ অতিক্রম করে আয়ের যোগফল।
[ অবচয় ]

এই গ্রন্থে ৪০টি কবিতা স্থান পেয়েছে। তিন ফর্মার বইটি প্রকাশ করেছে সৃজনশীল প্রকাশনী 'চৈতন্য'।খুবই নান্দনিক প্রচ্ছদ এঁকেছেন আমার অত্যন্ত প্রিয় শিল্পী তৌহিন হাসান। গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেছেন তার মা-বাবা কে।মূল্য- ১৫০ টাকা।

মিজান লিখছেন। তিনি আরও লিখবেন। তাকে কালিক চেতনা ধারণ করেই এগোতে হবে।তাকে থাকতে হবে মাটিবর্তী এবং ঋজু।

প্রিয় পাঠক, তার কবিতা পড়ুন। তার বইটি বহুল পঠিত হোক।

@ নিউইয়র্ক/ ২১ জানুয়ারি ২০১৯ 

সিলেট প্রতিদিন/এমএনআই-০৬