কবি শঙ্খ ঘোষ আর নেই 

কবি শঙ্খ ঘোষ আর নেই 

প্রতিদিন ডেস্ক :: বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কবি শঙ্খ ঘোষ আর নেই। শক্তিমান এ কবির বয়স হয়েছিলো ৯০ বছর।

বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে নিজ বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান ওই কবির।

বেশ কিছুদিন সর্দি-কাশিতে ভোগার পর গত সপ্তাহেই করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন কবি। এছাড়াও একাধিক বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন কবি। বাড়িতেই তিনি আইসোলেশনে ছিলেন। তবে, ক্রমেই তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমছিল। বুধবার সকালে ঘুমের মধ্যেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

শঙ্খবাবু জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারিতে। ২০১১ পদ্মবিভুষণে সম্মনিত হন তিনি। ২০১৬ সালে পান জ্ঞানপীঠ পুরস্কর। তারা সাদামাঠা জীবনে চিরকালই প্রচার বিমুখ ছিলেন তিনি। তবে, সর্বদা শাসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কথা বলতেন তিনি। নিজে বামপন্থি মনভাবাপন্ন হলেও বাম আমলে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুরের জমি অন্দোলনে গর্জে উঠেছিলেন কবি। তৎকালীন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হয়ে বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে পথেও নেমেছিলেন। পরবর্তীতে মমতার বিরুদ্ধেও শঙ্খবাবুকে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। দূরত্ব তৈরি হয়েছিল শাসক দলের থেকেও।

বলা হয় বাংলা লেখনী জগতে শক্তি-সুনীল-শঙ্খ-উৎপল-বিনয় সাহিত্য আকাশের উজ্জল নক্ষত্র। জীবনানন্দর পরবর্তীতে বাংলা কবিদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হতো। বাকি চারজন আগেই চলে গিয়েছিলেন। বুধবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন শঙ্খবাবুও।

কবির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘শঙ্খদার মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করছি। তার পরিবার এবং শুভানুধ্যায়ীদের সবাইকে সমবেদনা জানাই। কোভিডে মারা গেছেন শঙ্খদা। তা সত্ত্বেও যাতে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়, মুখ্যসচিবকে তেমন নির্দেশ দিয়েছি। তবে শঙ্খদা গান স্যালুট পছন্দ করতেন না। সেটা বাদ রাখছি। তবে, পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই সব ঠিক করা হবে। পরিবার না চাইলে আমরা কিছুই করবো না। ’

শঙ্খবাবুর মৃত্যুতে শোকাহত বাংলার সাহিত্য ও নাট্য জগত। কবি জয় গোস্বামী বলেছেন, জাতির বিবেক ছিলেন শঙ্খঘোষ। এভাবে চলে যাবে ভাবতে পারিনি। সাহিত্যিক তিলোত্তমা বলেন, বাঙালির অভিভাবকের মত ছিলেন তিনি।  

নাট্যকার কৌশিক সেন বলেন, সাধারণ বাঙালির সাহসের আর এক নাম শঙ্খঘোষ। কোনো দিনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত করেননি।

নাট্যব্যাক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, সমাজের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বক্তা ছিলেন শঙ্খদা। শাসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা স্পষ্ট বক্তা ছিলেন তিনি।  

নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী বলেন, ওনার কবিতা বাঙালির সামাজিক শেকড়ে গাঁথা। কোনোদিনই মেরুদণ্ডহীন ছিলেন না তিনি। প্রকৃত অভিভাবকে হারালাম। তার ব্যক্তিত্ব পরিচিতি এক অন্য মাত্রা ছুঁয়ে ছিলো।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ