কারাগারে আটক মাধবপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরখাস্ত

কারাগারে আটক মাধবপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরখাস্ত

মাধবপুর প্রতিনিধি:: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি রোববার রাত ১১টার দিকে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসে পৌঁছেছে। মাসুদুল ইসলাম বর্তমানে হবিগঞ্জ কারাগারে আটক আছেন।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে— ৭৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের টাকা বিভিন্ন সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করে আত্মসাৎ করেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলাম।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরার নজরে এলে ৩০ এপ্রিল তিনি এ বিষয়ে মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে তাকে চুনারুঘাটের একটি চা বাগান থেকে আটক করে মাধবপুর থানা পুলিশ।

শনিবার ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। এদিকে পিআইও মাসুদুল ইসলামের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে। রোববার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করতে মাধবপুর আসেন ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আতিকুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ একটি প্রতিনিধিদল।

প্রাথমিক তদন্তে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুল ইসলামকে আটক করা হয়। মামলাটি যেহেতু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করবেন, তাই তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।

দুদকের হবিগঞ্জ সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. এরশাদ মিয়া জানান, তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

সিলেট প্রতিদিন/এমএনআই-০২