কলমের শক্তি দেখাবেন না, কলম ঘূর্নায়মান!

কলমের শক্তি দেখাবেন না, কলম ঘূর্নায়মান!

শামীম আহমদ ভিপি :: কবির উদ্দিন আহমদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আমার ভাই। তাঁর জীবনের অনেকটি বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করার অপরাধে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট প্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে হত্যার পর কবির আহমদ প্রতিবাদ করেছিলেন এবং মিলাদ ও দোয়া করিয়েছিলেন। সেই অপরাধে তাঁকে ১১ মাস জেল খাটতে হয়।

 ১৭ দিন তাঁকে  কারাগারে না দিয়ে  কতোয়ালী থানা হাজতে রেখে অমানষিক নির্যাতন করা হয়। সে সময় তিনি বালাগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ছিলেন। তার উপর অসংখ্য মামলা দেয়া হয়। মামলা, হামলা, নির্যাতন সইতে সইতে পরবর্তীতে ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হোন। অভ্যন্তরীন কোন্দল ও ষড়যন্ত্রের  কারনে দল ক্ষমতায় থাকার পরেও মার্ডার মামলার আসামী হোন তিনি নিজে তাঁর তিন ছেলে, তিন ভাগনা সহ সিলেট জেলা যুবলীগ নেতা রেজা, বিপ্লব, তাজপুরের রাসেল সহ   নির্দোষ অনেকেই। তাঁদের অপরাধ ছিলো তাঁরা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে ভালবাসতেন বা আনোয়ার বলয়ের মানুষ । 

তৎকালীন সময়ের সিলেটের  জাতীয় পর্যায়ের অনেক বড় নেতা, জেলার দায়িত্বশীল নেতা ও লকাল কিছু  নেতার ইন্ধনে আমার পরিবার ও সিলেট,তাজপুরের নেতাদের  এই দশা হয়েছিল। আজ এই নেতারা  প্রায় অস্তিত্ব হারা । বাদীনির ভিডিও রেকর্ড আমার কাছে এখনও আছে, সেটা সংরক্ষন  করে রেখেছি যা আজ পর্যন্ত প্রকাশ করিনী  নিজের চক্ষু লজ্জায়, যে-  আমার প্রকাশের কারনে তাঁদেরকে মানুষ ঘৃনা করবে ।After all তারা আমাদের নেতা।   রাজনীতিতে গ্রুপিং থাকবে, সেটা বন্ধ হবেনা, তাই বলে ক্ষমতা আছে বলে নিজের দলের লোকের জীবন নষ্ট হয়ে যাবে এ জাতীয় কাজ করা তো কোন ভাল নেতার কাজ হতে পারেনা। 

এ থেকে শিক্ষা পেয়েছি যে- কলম কখনও এক হাতে থাকেনা, সেটা ঘূর্নয়মান সুতরাং কলমের জোর দেখাতে নেই। এটা শিখিয়েছে  এ পরিস্থিতি। এক পর্যায়ে আল্লাহ প্রেরিত একজন ভাল অফিসার এস,পি ফরিদ উদ্দিন সাব আসলেন সিলেট জেলার দায়িত্বে । যিনি তাঁর নীতিতে অটল থাকার কারনে আজ অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। মানুষের মুখে মুখে তাঁর জয়গান। 

উনাকে শুধু বলেছিলাম আপনী তদন্ত করে যদি -যারা আসামী তাদেরকে মার্ডার এ জড়িত পান, তাঁদের ফাঁসি দেন আমার কোন অসুবিদা নেই। আমার আবেদন হলো যদি না পান তাহলে তাঁদের বাঁচতে দিন। তিনি পন্খানুপন্খ ভাবে তদন্ত করে নির্দোষীদের মুক্তি দিয়েছেন যার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি এস,পি ফরিদ উদ্দিন সাবকে যেনো আল্লাহ  নেক হায়াত দান করেন। 

 আমাদের পরিবার খুবই নির্যাতিত। দীর্ঘদিন পর কবির ভাইকে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে প্রস্তাবিত কমিটিতে নাম দেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সভাপতি কবির ভাইর রাজনৈতিক গুরু  এ্যডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খাঁন । আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সর্বোপরি কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রতি । তিনি সেটা অনুমোদন দিয়েছেন এবং দলের জন্য কাজ করার একটি ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছেন।  আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইল।

লেখক: সভাপতি সিলেট জেলা যুবলীগ।