গোলাপগঞ্জে প্রতীক নয়, প্রার্থীই ফ্যাক্ট

গোলাপগঞ্জে প্রতীক নয়, প্রার্থীই ফ্যাক্ট
আলোকচিত্রী : মো.আজমল আলী

প্রতিদিন প্রতিবেদক :: আগামী ৩০ জানুয়ারি গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রার্থীদের প্রচারণা। দিন-রাত সমানভাবে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের আদর্শের বয়ানসহ পৌরসভার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন। তবে- আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় দলীয় ভোটাররা মুখ খুলছেন না। 

গোলাপগঞ্জে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন রুহেল আহমদ। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করলেও তার সাথে বিএনপি ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের আরো দুই বিদ্রোহী প্রার্থী। তারা হলেন, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম রাবেল ও সাবেক মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ (পাপলু)। তারা দুজনই নির্বাচনী মাঠে পুরনো খেলোয়াড়। তারা দুজনই পৌরসভার মেয়র ছিলেন। নির্বাচনী মাঠে আটঘাট তাদের ভালোই জানা। অপরদিকে রুহেল আহমদ নির্বাচনে এই প্রথম। তবুও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই ভাবে বিএনপির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শাহিনের পক্ষে স্থানীয়  নেতাকর্মীরা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রচার প্রচারণা করছেন। 

শুক্রবার পৌরসভায় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহরের অলি-গলি, বাসা-বাড়ি, চায়ের দোকান, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে ভোটারদের চলছে কানাঘুষা। 

মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা দল বেঁধে প্রচার প্রচারনায় নির্বাচনী এলাকা সরগরম করে তুলছেন। তারা অটোরিক্সা, ইজিবাইক ও রিক্সায় মাইক বেঁধে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এবার এ পৌরসভায় ৬১ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। 

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৪জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ১০ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন প্রার্থীও মাঠে-ঘাটে কোমর বেঁধে অবিরাম প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসার সাথে পৌর শহরে অলি-গলি, চায়ের দোকান, হোটেল, রেস্তোরা, বিভিন্ন স্থাপনা ও বসত বাড়ির সামনে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। প্রার্থীরা সবাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। 

এদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থিত ও বিদ্রোহী ৩ প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপিতে রয়েছেন মাত্র একজন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শাহিন। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। একাধিক প্রার্থীর বিপরীতে তিনি একা হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

এব্যাপারে গোলাপগঞ্জে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত রুহেল আহমদ বলেন, জনগন উন্নয়নমুখ।দল আমাকে মনোনীত করেছে।  এখানে সবাই ঐক্যবোধ হয়ে কাজ করছেন নৌকাকে বিজয়ী করেত।  বিগত দিনে পৌরসভা উন্নয়ন থেকে দূরে ছিল।আমাকে আমার দল থেকে নৌকা দেওয়া হয়েছে।  ইন্নশাল্লাহ গোলাপগঞ্জে নৌকার বিজয় সুনিশ্চত।

বিএনপির মনোনীত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া শাহিন বলেন, এবার জনগন আমাকে নির্বাচিত করবে আশা রাখি।পৌরসভা উন্নয়ন বঞ্চিত । কে কোন দলের সেটা কেউ দেখছেনা ব্যক্তিকে সবাই সমর্থন করছেন। আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে এবার তাঁরা নির্বাচিত করবেন।   

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও সদ্য বহিষ্কৃত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেন, গোলাপগঞ্জের মানুষের প্রতীক নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই । গোলাপগঞ্জে প্রার্থী হচ্ছে ফ্যাক্ট। যে এখানে উন্নয়ন করতে পারবে তাকেই জনগণ নির্বাচিত করবে। আমি শতভাগ আশাবাদী এই দুইবছর কাজ করেছি। মানুষ আমাকে আরও ৫বছর কাজ করার সুযোগ করে দিবেন।

সাবেক মেয়র উপজেলা সদ্য বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ (পাপলু) বলেন,গত নির্বােনে আমাকে চক্রান্ত করে পরাজিত করা হয়েছে । আমি ওই নির্বাচনে বিজয়ী ছিলাম কিন্তু সেখানে চক্রান্তের শিকার হয়েছি। তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে জনগণ এবার ঐক্যবোধ্য। সার্বিক বিচেনায় আমি মনে করেছিলাম আমার দল আমেকে মনোনীত করবে। কিন্তু মনোনীত করেন নাই।তাই  আমি নির্বাচেন অংশগ্রহণের কোনো ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু আমার এলাকার লোকজন ও তৃণমূল আওয়ামীলীগ এটা প্রত্যাকখান করেছে।এখানে আমি যোগ্যতা দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করেছি। তাই আমাকে সবাই প্রার্থী করেছেন।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ