চলতি মাসেই আসছে সিলেট ছাত্রলীগের কমিটি!

চলতি মাসেই আসছে সিলেট ছাত্রলীগের কমিটি!

সাজলু লস্কর :: চলতি মাসেই অচলাবস্থা কাটতে পারে। আসতে পারে সিলেট জেলা ও মহানগর  ছাত্রলীগের কমিটি। এমন লক্ষ্য নিয়েই এগুচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

বুধবার ( ৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট প্রতিদিনের সাথে আলাপকালে এমন আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

এ ব্যাপারে আলাপকালে সিলেট প্রতিদিনকে তিনি  বলেন, আমরা কাজ করছি। নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুকদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষের দিকে। যাচাই-বাছাইটাও প্রায় শেষ। যতদ্রুত সম্ভব আমরা সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বসবো। বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হবে। এর পরপরই সর্বজন গ্রহণযোগ্য কমিটি ঘোষণায় প্রস্তুত আমরা। এই ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তা হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিট। এ দুটি ইউনিটে নেতৃত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনে  সুনামের সাথে কাজ করছেন অনেক নেতা।

তবে দীর্ঘদিন এ দুটি ইউনিটের কমিটি না থাকার কারণে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারাতে বসেছে। আছে আরও নানা বিতর্কিত ।

জানা যায়, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর।  শাহরিয়ার আলম সামাদকে সভাপতি ও এম. রায়হান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটি গঠনের পর থেকে বিতর্ক লেগেই ছিল। এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের মার্চে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। এরপর ১ ডিসেম্বর কমিটির ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার  করলেও তেমন কোন সুূফল মিলেনি। ফলাফল, ২০১৭ সালের অক্টোবরে এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা হয়।

একই অবস্থা সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের। ২০১৫ সালের ২০ জুলাই আব্দুল বাছিত রুম্মানকে সভাপতি ও আব্দুল আলীম তুষারকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর ছাত্রলীগের ৪ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় সাড়ে ৩ বছরেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে না পারা এবং আরও একাধিক কারণে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। 

এরপর এ দুটি ইউনিট কমিটি গঠনের জন্য কয়েক দফা সিলেটের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুকদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু কমিটি আর হয়নি।

এতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়তে থাকে। তাদের কেউ কেউ  আয়-রোজগারের আশায় পাড়িয়ে জমাচ্ছেন বিদেশে, আর কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন অন্যান্য কাজকর্ম নিয়ে।

আর সিলেট জেলা ও মহানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইউনিটে কমিটি না থাকার কারণে দলও তৃণমূল পর্যায়ে নানা ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে সচেতন নেতাকর্মীদের ধারণা।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের এ ঘোষণায় হতাশা কাটিয়ে আবার প্রাণসঞ্চার হতে পারে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে।

সিলেট প্রতিদিন/এসএল/ ইকে