ছাতকে ২৪ ঘন্টায় করোনাক্রান্ত ১৫, ৭দিনে ১২ জনের মৃত্যু

ছাতকে ২৪ ঘন্টায় করোনাক্রান্ত ১৫, ৭দিনে ১২ জনের মৃত্যু

ছাতক প্রতিনিধি : ছাতকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সপ্তাহে এখানে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন অন্তত ১২ জন। 

সোমবার ছাতক হাসপাতাল থেকে ৪৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হলে মঙ্গলবার রিপোর্টে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয় ১৫ জনের। একদিনে সংক্রমণের হার প্রায় ২৫ শতাংশ। এখানে দ্রুত করোনার বিস্তৃতি লাভের কারণে শংকিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। 

গত ১ সপ্তাহে শিক্ষক আশরাফুল আম্বিয়া সোয়েব, ইউপি সচিব দিলোয়ার হোসেন, কারখানা শ্রমিক শাহ আলতাব আলী, ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, গৃহিণী মিনতি রানি দাস করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। 

করোনা উপসর্গ নিয়ে ছাতক সদর ইউনিয়নে ১ জন, দোলারবাজার ইউনিয়নে ১ জন, জাউয়াবাজার ইউনিয়নে ১ জন সহ আরো কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী গত ১ সপ্তাহে এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬৭ জন, সুস্থ হয়েছে ৬৭৬ জন, বাসায় চিকিৎসাধীন ৬৩ জন, অন্যান্যরা বিভিন্ন হাসপাতাল ভর্তি আছেন। 

এদিকে বাসায় বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন আক্রান্তদের এমন অনেকেই ফেইসবুকে এ বিষয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এর মধ্যে ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোস্তফা আহসান হাবিবের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছেন। নিটল-নিলয়, আকিজ প্লাস্টিক, লাফার্জ-হোলসিম কারখানার অনেক শ্রমিক করোনা আক্রান্ত। নিটল-নিলয় কার্টিজ মিলে প্রায় ২০ জন করোনা আক্রান্ত। আক্রান্ত হয়ে ১০ শ্রমিক ছুটিতে গেছেন বলে জানা যায়। অন্যান্যরা কারখানা ও আশপাশ এলাকায় রয়েছেন।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব চক্রবর্তী জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে ছাতক হাসপাতালে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ১ হাজার ৭০০ জন। 

তিনি জানান, আক্রান্তের সংখ্যা দিন-দিন বেড়েই যাচ্ছে। আক্রান্ত যারা সিলেটে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং মৃত্যুবরণ করছেন তাদের হিসেব এ হাসপাতালে নেই। আগে সিলেট থেকে মৃত্যুর সংখ্যা পাঠানো হতো। বর্তমানে এ পরিসংখ্যান হাসপাতালে দেয়া হয়নি। উপজেলার সকল এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ছাতক ও কৈতক হাসপাতাল থেকে সিলেটে রোগী পাঠালে সেখানে কোনো হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছে না তারা। হাসপাতালে সিট না থাকায় অক্সিজেনের অভাবে এক রোগী মারা গেছেন বলে তিনি জানান। 

ডা. রাজীব চক্রবর্তী জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল ছাড়াও করোনা আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। সিলেটে অন্তত ২০০ শয্যার একটি করোনা আইসোলেশন ইউনিট খোলা হলে হাসপাতালে বেডের অভাবে যারা চিকিৎসা নিতে পারছেন না তারা অন্ততপক্ষে কিছুটা হলেও চিকিৎসাসেবা পাবে। 

তিনি করোনাকালীন এ সময়ে সিলেটের যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে করোনা আইসোলেশন ইউনিট চালু করার দাবি করেন।


সিলেট প্রতিদিন/এমএ