জিন্দাবাজারে নতুন আতঙ্ক!

জিন্দাবাজারে নতুন আতঙ্ক!

প্রতিদিন প্রতিবেদক: নগরীর নতুন আতঙ্কের নাম জিন্দাবাজার। নান্দনিক রূপে সাজানো হচ্ছে নগরীর চৌহাট্টা থেকে কোর্ট পয়েন্ট পর্যন্ত। কিন্তু দিনের যে কোন সময় জিন্দাবাজারে নেমে আসে জনমনে আতঙ্ক। কি মোটর সাইকেল, কি রিকশা বা ভ্যান অথবা পথচারি সবাই আছেন অজানা আতঙ্কে। গলির ভেতরে ছুটছেন ভ্যান চালক, মোটর সাইকেল সরাতে লাগছে হুড়োহুড়ি, দৌড়াচ্ছে হকার এমন আতঙ্কিত পরিস্থিতি এখন জিন্দাবাজারের পরিচিত রুপ।

জানা যায়, বিগত কয়েক দিন থেকে নগরীর চৌহাট্টা থেকে কোর্ট পয়েন্ট পর্যন্ত ডিভাইডার রোড নির্মান করে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছিল। সম্প্রতি এই রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করার উদ্যোগ নেয় সিটি কর্পোরেশন। পহেলা জানুয়ারী থেকে এই রাস্তায় রিকশা চলাচল বন্ধ করতে মাইকিং করে প্রচারনা চালানো হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এই নির্দেশনার প্রতি এক ধরনের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে জিন্দাবাজার সড়কে বীরদর্পে রিকশা চালাচ্ছিলেন চালকরা।  

সরেজমিনে দেখা যায়,  কোর্ট পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত পুরােপুরি রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। পহেলা জানুয়ারী থেকে এই সড়কে রিকশা চলাচলের ঘোষনা দেয় সিটি কর্পোরেশন । কিন্তু প্রথম দুই দিন রিকশা চালকরা অনেকটাই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রিকশা চলাচল স্বাভাবিক রাখেন। কিন্তু ৩ জানুয়ারী রবিবার থেকে কোর্ট পয়েন্ট ও চৌহাট্টা পয়েন্টে নিজস্ব সিকিউরিটি নিয়োগ করে রিকশা প্রবেশে কঠোরতা এনেছেন সিসিক কর্তৃপক্ষ।  ভুল করে কোন রিকশা চালক রিকশা নিয়ে প্রবেশ করলেও তাদের ধাওয়া করছে নিরাপত্তারক্ষী।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোন মার্কেট বা দোকানের সামনে কোন মোটর সাইকেল রাখতে দেওয়া হচ্ছেনা। এমনকি রাস্তার পাশে ভ্যান গাড়িতে করে নানা পণ্য সামগ্রি বিক্রয় করতে দেখা যায় অনেককে। কিন্তু যখনই সিটি কর্পোরেশনের অভিযান আসে তখনি শুরু হয় দৌড়। অলি গলিতে ভ্যান ওয়ালারা দৌড়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। 

তবে  সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা মানতে বাধ্য করা হচ্ছে রিকশা চালকদের কিন্ত উল্টো  সিটি কর্পোরেশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাস ব্যপী কর্মসূচী ঘোষনা করেছে রিকশা-ভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।    

দেখা যায়, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে জিন্দাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হলে রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা মোটর সাইকেলে রাখা হেলমেট নিয়ে যাচ্ছেন স্বয়ং মেয়র ও তার সাথে থাকা লোকজন।  
গোটা জিন্দাবাজার এলাকায় বিরাজ করছে এক অজানা আতঙ্ক। কোন বাশির আওয়াজ শুনলেই সবাই উকি দিয়ে তাকিয়ে বলেন ’অউ আইচ্ছে, তাড়াতাড়ি হরাও’ । 

তবে এসব অভিযান আর আতঙ্ককে স্বাগত জানিয়েছেন জিন্দাবাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ। 

জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী আশিক আহমদ বলেন, জিন্দাবাজারকে নতুর রুপে সাজানো হচ্ছে। আমরা সকলেই চাই সিলেট সুন্দর হোক সিলেট সুন্দর থাকুক। সুন্দর রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। 

তবে বাবুল মিয়া নামের একজন পথচারী বলেন, জিন্দাবাজারের  সৌন্দর্য বাড়ানো হচ্ছে। সবটিক আছে । কিন্তু তার আগে এই এলাকায় পর্যপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা থৈরী করা জরুরী ছিল। পার্কিং ব্যবস্থা তৈরী না করে এভাবে রাস্তা থেকে মোটর সাইকেল তুলে নিয়ে যাওয়া কাম্য নয়। 

অভিযানের সময় সার্বিক বিষয়ে মেয়র আরিফুল চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন,  রাস্তা মানুষ চলাচলের জন্য আর ফুটপাথ মানুষ হাটাচলা করার জন্য। আমরা আর দু একদিন মুখে বলব পরে একশনে যাবো।  এবিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, সমালোচনা থাকবেই। সামলোচনা না থাকলে আমরা আমাদের ভুল শুদ্ধ বুঝতে পারবোনা। এসব কাজে তিনি সকল নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।  

এএইচ