ধর্মপাশায় ছাত্রলীগ নেতা আটকের ঘটনায় দুই পুলিশ প্রত্যাহার

ধর্মপাশায় ছাত্রলীগ নেতা আটকের ঘটনায় দুই পুলিশ প্রত্যাহার

ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হেফাজত ইসলামের আন্দোলনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ছবিসহ ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ঘটনায সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের জয়শ্রী বাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আফজাল খানকে (২৪) গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় জনতা আটক করেন। আফজাল ওই ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। 
 
ধর্মপাশা থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ আফজাল খান তাঁর নিজস্ব ফেসবুকে আইডি থেকে সম্প্রতি হেফাজত ইসলামের আন্দোলনের কর্মসূচির বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন এবং  ছবির ওপরের অংশে লিখে দেন ধর্মের নামে ব্যবসা। আর এই স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে জয়শ্রী বাজারে ওই ছাত্রলীগ নেতা এলে একই ইউনিয়নের বাদে হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেমের ছেলে আল মুজাহিদ ৩০-৩৫ জন লোক নিয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতার গতিরোধ করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আটক করে।

আটকের পরে ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেনসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতার হাতে হাতকড়া পড়িয়ে উপস্থিত তিন শতাধিক মানুষজনদের সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য ও হাতকড়া পড়িয়ে ধর্মপাশা থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায়  আসার পর রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই ছাত্রলীগ নেতা সুনামগঞ্জ জেলা পুৃলিশ সুপারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনাটি সাদা কাগজে লিখে তাতে স্বাক্ষর করে থানা পুলিশের কাছ থেকে মুক্তি পান। 
 
এ ঘটনায় রাতেই ধর্মপাশা থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেনকে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
 
ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খান বলেন, হেফাজত ইনলামের যেসব নেতাকর্মী জ্বালাও পোড়াও করে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই স্ট্যাটিসটি দিয়ে ছিলাম।  পুরো ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে জানিয়েছি। 
 
আল মুজাহিদ বলেন, ইসলাম ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গ করে স্ট্যাটাস ও অশালীন মন্তব্য করায় থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানিয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখেন। এর চেয়ে বেশি কিছু হয়নি। 
 
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সিলেট প্রতিদিনকে জানান, এ ঘটনার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেনকে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।
 
অন্যদিকে এ ঘটনার সাথে জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম আলমের ছেলে আল মুজাহিদ জড়িত থাকা ও তিনি নিজে উপস্থিত থেকে কোনো প্রতিকার না করতে পারায় বুধবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওইদিনেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুনামগঞ্জ ১ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পাদক বরাবর সিদ্ধান্তটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।

এসএএম