নির্বাচনে অনড় দুই বন্ধু, চ্যালেঞ্জে নৌকা

নির্বাচনে অনড় দুই বন্ধু, চ্যালেঞ্জে নৌকা

এনামুল হক

স্কুল জীবন থেকে তারা বাল্য বন্ধু। রাজনীতির মাঠেও তারা একই মতাদর্শের অনুসারী।ছাত্রজীবনে দুজনেই ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলেন। দুজনেই গড়েছেন শত শত কর্মী। রাজনীতির প্রতিযোগিতায় এক সময় তারা হয়ে উঠেন প্রতিদ্বন্দ্বী। তা গড়ায় নির্বাচন পর্যন্ত।  একাধিক নির্বাচনে মাঠে মুখোমুখি হয়েছেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু ও বর্তমান মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল। অপরদিকে রুহেলও ছিলেন তাদের সহকর্মী।

খবর নিয়ে জানা যায়, আগামী ৩০ জানুয়ারী গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে হেভিওয়েট দুই প্রার্থীকে পেছনে ফেলে নৌকার মাঝি হয়েছেন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রুহেল আহমদ। অনেকেই নৌকার প্রার্থী রুহেল আহমদকে ’লাকি ম্যান’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তবে নৌকা প্রতীক না পেলেও নির্বাচনে অনড় দুই বন্ধু জাকারিয়া আহমদ পাপলু ও আমিনুল ইসলাম রাবেল। অনেকের মতে নির্বাচনে মূল লড়াই হবে ’পাপলু ও রাবেল’ এর মধ্যে। তবে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রুহেল আহমদও কোন অংশে কম নয়। তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদি।

জানা যায়,  দলীয় প্রতীক না পেলেও স্থানীয় জণগনের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচনে অনড় দুই বন্ধু। পুরো গেলাপগঞ্জ জুড়ে আলোচনায় এখন পৌর নির্বাচন। 

কথা হয় গোলাপগঞ্জ পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী রুহেল আহমদের সাথে। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে এবার নৌকা প্রতীক পেয়ে চমক দেখিয়েছেন তরুন এই প্রার্থী । তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ও জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে গোলাপগঞ্জে  আওয়ামী পরিবারের কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন না। তিনি বলেন, উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। শেখ হাসিনাকে এই বিজয় উপহার দেওয়া হবে।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু বলেন,  দলীয় মনোনয়ন পেতে যতগুলো ক্রাইটেরিয়া রয়েছে আমি সব গুলোতে উত্তীর্ন। জেল জুলুম শুরু করে থেকে দলের জন্য আমি সব সময় ত্যাগ স্বীকার করেছি। বিগত নির্বাচনে আমি নৌকার প্রার্থী ছিলাম। কিন্তু পরিকল্পিত ভাবে ষড়যন্ত্র করে আমার নিশ্চিত বিজয়কে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। দলীয় প্রতীক না পেলেও এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  আমি দীর্ঘ ১৮ বছর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলাম। আমি আমার পৌর নাগরিকদের নিয়ে বসবো।  জনগন চাইলে অবশ্যই আমি নির্বাচন করবো এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেন,  যে অজুহাতে আমাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে সেটি আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারন আমি গত নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলাম না দল আমাকে বহিষ্কারও করেনি । কারন আমি দলের কোন পদে তখনও ছিলামনা। আমি ছিলাম যুক্তরাজ্যে । সেখান থেকে এসে আমি প্রার্থী হয়েছি এবং বিজয়ী হয়েছি। রাবেল বলেন, আমি বর্তমান মেয়র তাই অবশ্যই আমি এবারও প্রার্থী হবো এবং বিজয়ী হবো। 

এএইচ