পাঁচ ভাই ও পানসী রেস্টুরেন্টে র‌্যাব এর অভিযানে আদ্যপ্রান্ত

পাঁচ ভাই ও পানসী রেস্টুরেন্টে র‌্যাব এর অভিযানে আদ্যপ্রান্ত

ফাইজা রাফা :: বাহিরের রেস্টুরেন্টের খাবার খেতে আমরা সবাই খুব পছন্দ করি। সময় পেলে বা ছুটির দিনে প্রায়ই আমরা রেস্টুরেন্টে খেতে যাই ৷ রেস্টুরেন্টের মুখরোচক খাবার আমাদের সবার অত্যন্ত প্রিয়।

মুখরোচক খাবারের পিছনে কি আছে আমরা কেউই জানিনা। যাদের উপর ভরসা করে আমরা খাবার খেতে যাই তারা আমাদের সাথে কি খাওয়াচ্ছে বোঝা মুশকিল।

প্রত্যেক মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রথমেই থাকে খাদ্য। শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, শরীরের শক্তি, বিভিন্ন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ও শরীরকে রোগমুক্ত এবং সুস্থ রাখতে খাবার অত্যন্ত জরুরি। বেঁচে থাকার জন্য খাবার এর কোন বিকল্প নেই ।  তাই নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য পারে মানুষকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে। কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের দিক থেকে আমাদের দেশের চিত্র ভিন্ন। প্রায়ই অভিযানে রেস্টুরেন্টগুলোতে পঁচা বাসি খাবার বিষাক্ত রঙ কেমিক্যাল ইত্যাদি জিনিস পাওয়ায় মোটা অংকের জরিমানাও করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিবর্তন হচ্ছে না এই প্রতিষ্ঠানগুলোর।

ভোজনবিলাসি হিসেবে বেশ পরিচিত সিলেটের মানুষ। এবার সিলেটের রেষ্টুরেন্টগুলো সম্পর্কে জেনে নেই। সিলেটের জনপ্রিয় রেষ্টুরেন্ট হিসেবে সবার আগে যেগুলোর নাম উঠে আসে সেগুলো হলো পাঁচ ভাই ও পানসী। কিন্তু জনপ্রিয়তার আড়ালে আমাদের কি খাওয়াচ্ছে তারা? 

এই রেষ্টুরেন্টগুলোর রান্নাঘরের খবর কয়জনেবা জানি। সৌভাগ্যক্রমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে র‌্যাবের অভিযাননিজের চোখে দেখার সুযোগ হয়। সোমবার (৭ডিসেম্বর) দুপুরে পাঁচ ভাই ও পানসী রেস্টুরেন্ট র‌্যাব-৯ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক খাদ্যে ভেজাল বিরোধী খাদ্য অভিযান পরিচালিত হয়।

সেখানকার চিত্র একটু তুলে ধরছি -

ময়লা নোংরা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে  খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছিল ৷ রান্না করার যে চুলা ছিল সেগুলোর আশেপাশের ভীষণ পরিমাণের ময়লা-আবর্জনা ছিল৷ অপরিচ্ছন্ন ভাবে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল৷ এছাড়া ফ্রিজের মধ্যে রান্না করা খাবার, তাজা খাবার একই সাথে দেখা যায় ৷ খাবারের মধ্যে পাওয়া যায় কাপড়ের রঙ মেশানো,মেয়াদোত্তীর্ণ ফুড ফ্লেভারও পাওয়া যায় ।

কিচেনের পরিবেশ এতটাই খারাপ ছিল যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, খাবার যেখানে সংরক্ষণ করা হয় সেখানে  হাত দেওয়ার সাথে সাথে তার হাতের মধ্যে ময়লা লাগছিল ও হাত কালো হয়ে যাচ্ছিল৷ এরকম নোংরা অবস্থা ছিল৷

অভিযান চলাকালে  কর্তৃপক্ষকে এসকল বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে তখন তারা তাদের দায় স্বীকার তো দূরে থাক বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখাতে থাকেন। নিজেদের দোষ স্বীকার করতে অনেকটাই অনীহা প্রকাশ করেন ৷

এই অবস্থায় পঁচা বাসি খাবার , অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না, খাবারের কাপড়ের রং, বিষাক্ত কেমিক্যাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ  ফুড ফ্লেবার জন্য পাঁচ ভাই ও পানসী রেষ্টুরেন্টকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে র‌্যাব-৯এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.আক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সিলেটে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে যেখানে অনিয়ম হবে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

পঁচা বাসি খাবার যারা সাধারণ জনগণের কাছে পরিবেশন করছেন তাদের কাছে প্রশ্ন যে তাদের নৈতিকতা আজকে কোন পর্যায়ে ?

এ ধরনের বিষাক্ত খাবার এর ফলে  মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন ৷ বিশেষজ্ঞদের মতে এ ধরনের খাবার নিয়মিত খাবার ফলে কিডনি ফেইলিওর , ক্যান্সার  এ ধরনের মরণব্যধি রোগ হতে পারে৷

আমরা প্রায়ই এ ধরণের অভিযান লক্ষ্য করে থাকি৷ যেখানে অনিয়ম পাওয়া যায় সেখানে জরিমানা করা হয়৷ কিন্তু কোন কিছুতেই যেন কোনো কাজ হচ্ছে না ৷ বারবার জরিমানা করার পরেও তারা তাদের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকছেন না ৷

পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট এর কথা যদি আপনাদেরকে মনে করিয়ে দেই, তাহলে আপনারা জানেন যে কিছুদিন আগেও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট কে জরিমানা করা হয়েছিল। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করার জন্য । আবারো সেখানেই  অভিযান পরিচালিত হল একই জিনিস আবারো পাওয়া গেল। তারা তাদের কার্যকলাপ বিন্দু পরিমানও পরিবর্তন করেননি। তারা তাদের নিজের লাভের স্বার্থের সাধারণ জনগণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন সেটা হয়তো তাদের বোধগম্য হচ্ছে না ৷

বিবেক-বুদ্ধি নৈতিকতা আজ কোন পর্যায়?

এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করছেন তারা আসলে অনেক ভালো কাজ করছেন ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকুক  সাধারণ জনগনের এটাই চাওয়া। যারা অনেক কষ্ট করে সাধারণ জনগণের কথা চিন্তা করে অভিযান পরিচালনা করেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই ।  

খাদ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনার ফলে সামরিক হয়তো শাস্তির ব্যবস্থা হচ্ছে কিন্তু এর শেষ কোথায় ? কবে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়া যাবে ?

কবেই বা মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হবে ?

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার সিলটিভি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী