পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রতিদিন ডেস্ক :  ওইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে/ তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’- চরণ দু’টি পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের ‘কবর’ কবিতার। কবির ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

জসীম উদ্‌দীন ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ি তাকে কবর দেওয়া হয়েছে ফরিদপুরে প্রিয় ‘দাদীর’ কবরের পাশে।

বাবার নাম আনছারউদ্দীন মোল্লা, মায়ের নাম আমেনা খাতুন। কবির জন্ম ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের ছায়াঢাকা পাখি ডাকা নিঝুম পাড়া গাঁ তাম্বুলখানা গ্রামে নানা বাড়িতে। 

১৯৩৯ সালে তিনি মমতাজ বেগমকে বিয়ে করেন। কবির ৪ ছেলে কামাল আনোয়ার, ড. জামাল আনোয়ার, ফিরোজ আনোয়ার ও খুরশীদ আনোয়ার। ২ মেয়ে হাসনা মওদুদ ও আসমা এলাহী। তারা সকলেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বনামধন্য। 

কবির শিক্ষাজীবন শুরু ফরিদপুর শহরের হিতৈষী স্কুলে। সেখানে প্রাথমিক শেষ করে তিনি ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি এবং একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।  তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দেন। 

জসীম উদ্‌দীন বাল্য বয়স থেকেই কাব্য চর্চা শুরু করেন।  ১৪ বছর বয়সে নবম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় তৎকালীন কল্লোল পত্রিকায় তার একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী। এরপর তার ৪৫টি বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

কবি ১৯৭৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার, ১৯৬৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি, ১৯৭৬ সালে ২১শে পদকে ভূষিত হন। 

তার অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকঁশী কাথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাশিঁ, রাখালি, বালুচর ইত্যাদি। তিনি আবহমান বাংলাকে তিনি তার কবিতায় তুলে এনেছেন। এ জন্যই তিনি পল্লীকবি উপাধিতে ভূষিত হন। তার ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ ১৯৪০ সালের মধ্যেই একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়ে বিশ্ববিখ্যাত হয়।  ১৯৬৯ সালে ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ ইউনেস্কোর অনুবাদ প্রকল্পের গ্রন্থ হিসেবে অনূদিত হয়।

পাক-রুশ মৈত্রী সমিতির সহ সভাপতি ড. গস্কোওস্কির আমন্ত্রণে জসীম উদ্‌দীন সোভিয়েত রাশিয়া যান।  কবির নিজের ভাষায়, ‘সারাজীবন আমার দেশের জনগণকে লইয়া সাহিত্য করিয়াছি। তাহাদের সুখ, দুঃখ, স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা, লইয়া কবিতা উপন্যাস লিখিয়াছি। আমার খুব বড় স্বপ্ন ছিল একবার সোভিয়েত দেশে যাইব। সে দেশের রাষ্ট্র কিভাবে তার জনগণকে সব চাইতে বড় আসন দিয়াছে ও কূপমণ্ডুকতা হইতে মুক্ত করিয়া উপরে তুলিয়া ধরিয়াছে’।

লেনিন, সোভিয়েত দেশ ও সমাজতন্ত্রের প্রতি কবির গভীর শ্রদ্ধা ছিলো। সোভিয়েতের সেই ব্যবস্থা দেখে কবি বলেছেন, ‘ইস্ আমার বাংলাদেশে যদি এমন ব্যবস্থা থাকতো সকলে সোভিয়েত দেশের মতো সুখে থাকতো’।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এক প্রবন্ধে লিখেন- তার কাব্যের আবেগের, ভাষার চিত্রকল্পের অকৃত্রিমতা মন জয় করে নিলো আধুনিকমনা বাঙালি পাঠকের, বিদগ্ধ ইউরোপীয়দের। জসীম উদ্‌দীনের আবির্ভাবের পর আধুনিক বাংলা কবিতার কোনো যোগ্য সঙ্কলনে তাকে অবহেলা করা অসম্ভব ছিলো। 

সিলেট প্রতিদিন /টিআই