বন্ধ বার-রেস্তোরাঁ, কেমন করে খাচ্ছেন ফরাসিরা

বন্ধ বার-রেস্তোরাঁ, কেমন করে খাচ্ছেন ফরাসিরা

শাহ সুহেল আহমদ

মধ্যাহ্নভোজ কিংবা নৈশভোজ। রেস্টুরেন্ট, বারে বসে খুব আয়েশ করে খেয়ে অভ্যস্ত ফরাসিরা। কাজে যাওয়া–আসার পথে দৌড়ের ওপর গোগ্রাসে কিছু একটা গিলে ফেলার অভ্যাস তাদের নেই বললেই চলে। খাবারটা বসে ধীরেসুস্থেই খেতে চায় ফরাসিরা।

বিশেষ করে নৈশভোজ তো ফরাসিদের কাছে আলিশান ব্যাপার–স্যাপার। দীর্ঘ সময় নিয়ে দুজন বা দলবদ্ধভাবে আলাপ–সালাপ করতে করতেই রাতের আহার সারে তারা। অনেকটা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ এটি। বাসায় রান্না করে খাওয়ার সংস্কৃতি ফরাসিদের খুবই কম।

কিন্তু করোনা মহামারিতে ফরাসি সংস্কৃতির এই খাবারব্যবস্থা এখন কেমন? গত মার্চের মাঝামাঝি ফ্রান্সে রেস্টুরেন্ট, বার বন্ধ হয়। তারপর মাঝখানে মাত্র কয়েক দিন পরীক্ষা মূলক ভাবে খুলে দিলেও পরিস্থিতির অবনতি হলে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অদ্যাবধি বন্ধই রয়েছে।

লকডাউনের পর কিছুদিন ডেলিভারি সার্ভিসের মাধ্যমে খাবার এনে খেলেও গত কয়েক মাস থেকে বাসায় রান্না করে খাচ্ছেন বলে জানালেন ফরাসি তরুণী মানোঁ জিয়ো। শুধু মানোঁই নন, করোনার কারণে যেসব ফরাসি বাড়িতে বসে কাজ করছেন, তাঁদের অনেকেই বাসায় রান্না করে খাওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন বলে জানা গেছে।

এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেল প্যারিসে ডেলিভারি সার্ভিসে কর্মরত একাধিক বাংলাদেশি প্রবাসীর কাছ থেকে। লাভলু চৌধুরীর মতে, করোনার আগে রেস্টুরেন্ট খোলা থাকা অবস্থায় যে পরিমাণ ডেলিভারি হতো, বন্ধ হওয়ার পর এ সংখ্যা বাড়ার পরিবর্তে উল্টো কমে গেছে।

পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক হয়ে যায়, করোনা যদি দূরে চলে যায়, তবে এসব ফরাসি কি বাসায় রান্নার সংস্কৃতি ধরে রাখবে, নাকি আবারও তাদের পুরোনো ঐতিহ্যের দিকে যাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে ফরাসি অধ্যাপক জেরেমি পারদোঁ বলছিলেন, ‘এটা বলা খুব মুশকিল যে ফরাসিরা বাসায় রান্না অব্যাহত রাখবে। তবে যেহেতু একটু একটু রান্না তারা শিখে ফেলেছে, একেবারেই যে এটা বাদ দিয়ে দেবে, এটাও বলা যায় না।’

তবে যাঁরা বাইরে কাজ করেন, তাঁরা খাবার নিয়ে অনেকটা সমস্যায় পড়েছেন। কখনো জিরো ডিগ্রি, কখনোবা মাইনাস ডিগ্রির এই কনকনে শীতে পার্কে বা অন্য কোথাও বসে খাওয়া প্রায় অসম্ভব। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার পৌরসভাগুলোকে উষ্ণতার ব্যবস্থা রেখে বহুমুখী কক্ষ নির্মাণের আদেশ দিয়েছে। তবে এসব স্থান ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে বসতে হবে।

* লেখক: শাহ সুহেল আহমদ, প্যারিস, ফ্রান্স

সিলেট প্রতিদিন/এমএনআই-০৪