বাংলাদেশি গৃহকর্মী হত্যার দায়ে সৌদি মহিলার শিরচ্ছেদ আদেশ

বাংলাদেশি গৃহকর্মী হত্যার দায়ে সৌদি মহিলার শিরচ্ছেদ আদেশ

প্রতিদিন ডেস্ক : সৌদি আরবে বাংলাদেশি গৃহকর্মী আবিরন বেগম (৪২)’র হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সৌদি নাগরিক গৃহকর্ত্রী আয়শো আল জিজানীকে কেসাস বা জীবনের বদলে জীবন নিতে শিরচ্ছেদ আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রিয়াদের ক্রিমিনাল কোর্টের আদালত স্থানীয় সময় গত রোববার এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত রায়ে প্রধান আসামী গৃহকর্ত্রী আয়শো আল জিজানীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করায় শিরচ্ছেদ আদেশ দেন।

রায়ে গৃহকর্তা বাসেম সালেমের বিরুদ্ধে আলামত ধ্বংসের অভিযোগ, আবিরন বেগমকে নিজ বাসার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় কাজে পাঠানো ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা- এমন আলাদা আলাদা অভিযোগে মোট ৩ বছর ২ মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানাও করেন।

এই মামলার আরেক আসামী সৌদি দম্পতির কিশোর পুত্র ওয়ালিদ বাসেম সালেমকে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করার প্রমাণ পায়নি বলে জানান আদালত। তবে, আবিরন বেগমকে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করায় তাকে সাত মাসের জন্য কিশোর সংশোধনাগারে থাকার আদেশ দেন।

রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত।

সৌদি আরবে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার বিচারে কোনো সৌদি নাগরিকের প্রাণদণ্ড হলো।
এর আগেই আবিরনের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন আদালত। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে সৌদি শরিয়া আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলেও আদালত উল্লেখ করেন।

২০১৯ সালের ২৪ মার্চ রিয়াদের আজিজিয়ায় আবিরন বেগম সৌদি গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনে নিহত হন। পরবর্তীতে তা হত্যাকাণ্ড বলে হাসপাতালের ফরেনসিক রিপোর্টে জানা যায়।

রোববার রিয়াদের ক্রিমিনাল কোর্টের ৬ নম্বর আদালতে আবিরন বেগমের মামলা পরিচালনার জন্য দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের প্রথম সচিব সফিকুল ইসলাম ও আইন সহায়তাকারী সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী আবিরন বেগম হত্যা মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এদিকে, সৌদি আরবে বাংলাদেশি গৃহকর্মী আবিরন বেগম হত্যা মামলার রায়ে গৃহকর্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে আবিরনের পরিবার। দ্রুত রায় কার্যকর করার প্রত্যাশা তাদের। সেই সঙ্গে যে দালালের মাধ্যমে আবিরন সৌদি যান তারও বিচার দাবি করেন তারা।

আবিরন বেগমের বৃদ্ধ বাবা আনছার আলী সরদার বলেন, এই রায়ে আমরা খুশি। আবিরনকে তো আর ফিরে পাব না, রায় কার্যকর যেন দেখে যেতে পারি। যে দালালের মাধ্যমে সৌদি গিয়েছিল তারও যেন বিচার হয়।

আবিরনের বৃদ্ধা মা নেছারুন বেগম ও বোন রেশমা আকতার জানান, আবিরন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেঠুয়া গ্রামের দালাল রবিউল ইসলামের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান।

তাদের পরিবারকে সহযোগিতার জন্য সরকার, মানবাধিকার কমিশন ও গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আবিরনের মা-বাবা ও বোন।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রামনগর গ্রামের আনছার আলী সরদারের ৬ মেয়ের মধ্যে আবিরন ছিলেন মেঝো। ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল গ্রামের কওছার আলী শেখের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু সন্তান না হওয়ায় তার স্বামী তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর আবিরন বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং সেখান থেকে ২০১৭ সালে দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে যান।

২০১৯ সালের ২৪ মার্চ রিয়াদের আজিজিয়ায় সৌদি গৃহকর্ত্রী তাকে পিটিয়ে ও গরম পানিতে ঝলসে হত্যা করে। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর তার লাশ দেশে আসে।

এ ঘটনায় রিয়াদের ক্রিমিনাল কোর্ট স্থানীয় সময় রোববার ওই সৌদি গৃহকর্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পাশাপাশি গৃহকর্তার কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হয়েছে। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিলেট প্রতিদিন/এমএনআই-০৪