বিশ্বনাথে বিএনপি নেতার দায়েরকৃত মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমানিত

বিশ্বনাথে বিএনপি নেতার দায়েরকৃত মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমানিত

প্রতিদিন ডেস্ক :: সিলেটের বিশ্বনাথে দলিল জালিয়াতির এক মামলার ফাইনাল রিপোর্ট (চার্জশীট) আদালতে দাখিল করেছে সিআইডি। ২০১৯ সালের ৬ জুলাই মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের বুবরাজান প্রকাশিত পালের চক গ্রামের মৃত ইরর্শাদ আলীর পুত্র ও বিএনপি নেতা জমির আলী, (বিশ্বনাথ সিআর-১৯৮/২০১৯)। মামলায় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা ছইল মিয়া ও মনজুর মিয়াকে আসামি করা হয়।

মামলা সূত্র জানা গেছে, উপজেলার বুবরাজান মৌজার জেএল নং ৬৩, বিএস খতিয়ান নং ১৯৭ এর অন্তগত ৯৯৭ দাগে ৩৩ একর ভুমিতে এককভাবে মালিক বুবরাজান গ্রামের ইয়াকুব আলী পুত্র ইলিয়াস আলী অর্থাৎ বাদীর চাচা এবং বিএস ২০৩ খতিয়ান ১০০০ দাগের ইরশাদ আলীর নামে চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়।

মামলার এজহারে আরো দেখা গেছে, ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বিবাদী ছইল মিয়া স্বাক্ষরিত নামজারি মোকদ্দমা নং -৩৮৩ এর প্রতিবেদনে দেখা যায় ১৯৯৫ সালের ৮আগষ্ট তারিখে বিশ্বনাথ সাব রেজিষ্ট্রি কবালা দলিল নং ২৫১০ মুলে রেকর্ডিয় মালিক ইলাছ আলী ও ইরশাদ আলী কাছ থেকে ১ ও ২ নং বিবাদী ৪ একর ও ৯৯৭ দাগের বাগানসহ মোট ২৬ একর ভূমি ক্রয় করেছে বলে নামজারি মোকদ্দমা দায়ের করেন। 

বাদি ২০১৯ সালে জাবেদা নকল সংগ্রহ করিয়া দেখিতে পান উক্ত দলিলের গ্রহীতা টেংরা গ্রামের মৃত হামিদ উল্লাহর পুত্র মন্তাজ আলী, সুনাহর আলী এবং দাতা মৃত নৈমুল্লার পুত্র সরিফ উল্লাহ এ দলিলটি ৯৫ সালে রেজি: জেএল নং ৬৮ স্থির ২৭০ ও ৩৭২৩ হাল দাগে ৫২০ খতিয়ানে ৩৮৪৭ নং দাগে সাড়ে তিন শতক ভুমি ১ ও২ নং বিবাদী পরস্পরের সহযোগীতায় মন্তাজ আলী গংদের নামে রেজিষ্ট্রি দলিলের নাম্বার ব্যবহার করে বাদির পিতা ও চাচার নামে মোট ২৬ একর ভুমি উল্লেখ করিয়া দলিল তৈরী করে ভুমি অফিসে জাল দলিলকে খাটি হিসেবে ব্যবহার করে নামজারি মোকদ্দমা তৈরী করে মালিকানা স্বত্ব করার জন্য চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে মামলাটি সঠিক তদন্তের জন্য সিআইডতে প্রেরণ করা হলে, সিআইডির তদন্তকারি কর্মকর্তা রোকেয়া বেগম মামলাটি দীর্ঘ তদন্তের পর কোন প্রকার সত্যতা না পেয়ে আদালতে চুড়ান্ত (ফাইনাল) রিপোর্ট দাখিল করেন। এতে মামলার বাদি জমির আলী রিপোর্টের উপর সন্তুষ্ট না হওয়ায় আদালতে পুণরায় আপত্তি করে নাজারি প্রদান করেন। 

বিজ্ঞ আদালত মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার নথিপত্র ও চুড়ান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে নারাজি না মঞ্জুর করেন এবং আসামি প্রবাসী ছইল মিয়া ও মনজুর মিয়াকে মামলা হতে অব্যহতি প্রদান করা হয়। এদিকে, বিজ্ঞ আদালত মামলার বাদি জমির আলীর বিরুদ্ধে ২১১ প্রসিকিউশন দাখিলের আবেদন মঞ্জুর করেন।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ/ইকে