মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক বই প্রকাশের উদ্যোগ নিল

মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক বই প্রকাশের উদ্যোগ নিল

প্রতিদিন ডেস্ক ::
নতুন প্রজন্মের জন্য একাত্তরের স্মৃতিচারণমূলক বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের নেতৃবৃন্দরা। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের উদ্যোগে আয়োজিত  ভার্চুয়াল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় বই প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের সভাপতি মোঃ আবু হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশে) সংঘটিত আন্দোলনের মাধ্যমে মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে বাংলা ভাষাকে ঘিরে তদানীন্তন পাকিস্থান অধিরাজ্যের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহিঃপ্রকাশ ঘটে গণদাবীর। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলেও বস্তুত এর বীজ রোপিত হয়েছিল বহু আগে, প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল ছিল সুদূর প্রসারী। ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ,বুদ্ধিজীবী হত্যা,১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবার ও জেলের অন্তরালে চার নেতা হত্যা,সকল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ও আত্মাহুতি দিয়েছেন, যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করে জীবন দিয়েছেন আমরা তাদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে এবং মহান আল্লাহর কাছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। 

টিচার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল বাসিত চৌধুরী ও যুগ্ন সম্পাদক ডাঃ রোয়াব উদ্দিনের পরিচালনায়  স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্মৃতিচারণ মূলক আলোচনায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুলতান শরিফ তাঁর বক্তব্যে টিচার্স এসোসিয়েশনের প্রশংসা করে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের শিক্ষক পরিবারগুলোতে নেমে আসে কালো ছায়া।২৫শে মার্চের কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯ জন শিক্ষককে হত্যা করা হয়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডক্টর কবীর চৌধুরী বাংলাদেশ থেকে আলোচনায় অংশ গ্রহন করে তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রবাসী বাঙ্গালীদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আন্তর্জাতিক ভাবে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত সৃষ্টিসহ অর্থ সহায়তা প্রদান করে প্রবাসীরা স্বাধীনতায় রেখেছেন অনন্য ইতিহাস।স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ন অবদানকারীদের 'মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।  

আলোচনায় অনান্যদের মধ্যে  অংশ গ্রহন করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুলতান মো: শরীফ,শিক্ষাবিদ ডক্টর কবির চৌধুরী,ডক্টর সামসুল হক (বাংলাদেশ থেকে), লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন ডেপুটি হাই কমিশনার মোহাম্মদ জুলকারনাইন,মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল করিম ( আমেরিকা থেকে), মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান-ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যালামনাই ঢাকা ইউনিভার্সিটি, মোহাম্মদ আব্দুর রকিব,সাধারণ সম্পাদক ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই,শাহগীর বক্ত ফারুক,সাবেক সভাপতি ও বি বি সি সি আই উপদেষ্টা উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ হাসান,কমিউনিটি নেতা নাঈম উদ্দিন রিয়াজ,গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আতাউর রহমান,এ এফ এম শামসুদ্দোহা, সাবেক সভাপতি বিটিএ ( বাংলাদেশ থেকে) কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির, কমিউনিটি নেতা মির্জা আসহাব বেগ ও মফিজুর রব।বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন, লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির প্রিন্সিপাল আসিদ আলী,অ্যাডভোকেট শাহ ফারুক আহমেদ,ইকবাল হোসেন,কোষাধক্ষ্য মিসবাহ আহমেদ,সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুর রেজা চৌধুরী এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য মুনজেরিন রশিদ। আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয়  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মিলনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন,সাবেক ডিপ্লোম্যাট ডক্টর শ্যামল চৌধুরী, বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী তারেক (বাংলাদেশ থেকে) সৈয়দ জুবায়ের,মজিবুল হক মনি, ইকবাল হোসেন, মিসবাহ আহমেদ,সাইদা চৌধুরী, রেহানা খানম,সওদা মোমিন, রূবি হক ও মুনজেরীন রশিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে রক্ষায় বিশেষ মোনাযাত পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মমিনুল ইসলাম ফারুকী।

এসএএম