“ধর্মীয় মোড়কে ক্ষমতার রাজনীতি”

“ধর্মীয় মোড়কে ক্ষমতার রাজনীতি”

মুহিবুল ইসলাম মিছবা:: পৃথিবীতে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশা ও রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাজন যেমনি রয়েছে, তেমনি ভাল ও মন্দ লোকের মিশ্রনে মানব সমাজ গঠিত। এই বিভাজন বা মিশ্রন স্বাভাবিক হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। কিন্ত ক্ষেত্রবিশেষে অনেক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজ স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরী করে দেয় যা সমাজে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
 
বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক কারনে বিভাজন ও অস্থিরতা প্রকটভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেই অস্থিরতা গত ২৬শে মার্চে মহান স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে দৃশ্যমান হয়েছে। অথচ ৩০ লক্ষ শহীদ দুই লক্ষ মা বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের সকল মানুষ দল-মত নির্বিশেষে উৎফুল্ল থাকার কথা ছিলো। সে উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অনুষ্টানে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে অতিথি হিসেবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী এদেশে আগমন করেছেন। যা আওয়ামী লীগ না হয়ে অন্য দল ক্ষমতায় থাকলেও হয়তো অনুরুপ হতো।
 
এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। বানিজ্যিক সম্পর্কের সাথে আরো অনেক বিষয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময় থেকে। সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যেই হোক না কেন, এ দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমন্ত্রিত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। যারা রাজনীতি বুঝেন তারা সেটা অস্বীকারের সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনে দেশের একটি শ্রেনীর মানুষ ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠেন। এর ফলে একটি নাম সামনে চলে আসে আর সেই ব্যাক্তি আল্লামা মামুনুল হক, যার নেতৃত্বে সারা দেশে স্বাধীনতার সূবর্নজয়ন্তীতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ভাংচুর চালানো হয়। যা দেশপ্রেমিক অনেক মানুষকে মর্মাহত করেছে। অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর আগমনে নিজ দেশে এমন রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ অযৌক্তিক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে যে মানুষরা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে মামুনুল হক অন্যতম। হেফাজতে ইসলাম নামক অরাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলেরও নেতা। এই ঘটনার পর আরো বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়ে তিনি এখন কারাগারে আটক রয়েছেন।
 
সম্প্রতি মামুনুল হকের বিরুদ্ধে রিসোর্টের ঘটনার সঙ্গী কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা গুরুতর কিছু অভিযোগ এনে মামলাও দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, পূর্বের সংসার ভাঙ্গায় ইন্দন দেয়া এবং সরলতার সুযোগে প্রতারণার মতো অভিযোগ করেছেন তিনি। এছাড়া ইতোমধ্যে রিমান্ড থেকে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যা নিজ স্বার্থে অনেক ধরনের রাষ্ট্র বিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকার ইঙ্গিত দেয়। জনগন পূর্ণাঙ্গ সত্য জানায় অপেক্ষায় রয়েছে।
 
এসব ঘটনায় পক্ষে বিপক্ষে বিভাজন সৃষ্টি হয়ে সামাজিক অস্থিরতা বিরাজমান। অনেকেই উনাকে ভূল ত্রুটির উর্ধ্বে নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কটাক্ষ করছেন। কিন্তু তিনিও একজন মানুষ, রাজনৈতিক পরিচয়দারী নেতা, এবং সর্বোপরি ভূল ত্রুটির উর্ধ্বে উঠার মতো বিশেষ কোন ব্যাক্তি নন। সুযোগ পেলে হয়তো জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা পোষন করেন অর্থাৎ উনিও ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী একজন মানুষ। শুধু ইসলামকে সমুন্নত করতে নয় বরং ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার জন্যও রাজনীতি করেন। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন। উনার মতো আরো অনেকেই একই পন্থা অবলম্বন করেন। অপরদিকে তিনি ইসলাম ধর্মে পান্ডিত্য অর্জন করেছেন এবং ইসলাম প্রচারে কাজ করেছেন সেটা উনার মহৎ একটি অর্জন। এজন্য সম্মান ও ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন যা লোভের বশে হারিয়েছেন। কিন্ত শুরু থেকেই উনার মন্দ কাজগুলো যাচাই না করে অসংখ্য সমর্থকেরা অন্ধের মতো পক্ষে অবস্থান নিয়ে সবকিছু ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যারা উনার রাষ্ট্রবিরোধী বা রিসোর্টের কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলেছে তাদের ইসলামবিরোধী আখ্যাও দেয়া হচ্ছে।
 
কিন্তু সত্য তার নিয়মেই প্রকাশিত হয়। জন-সাধারণের ভাষ্যমতে এবং সাম্প্রতিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যের প্রেক্ষিতে উনার বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কাজে সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে। স্পষ্টতঃ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাষ্ট্ কে অস্থিতিশীল করে মানুষকে প্রাণ নাশের দিকে ঠেলে দেয়া উনার একটি ভূল স্বীদ্ধান্ত ছিলো। যার ফলস্বরূপ গোপন অপকর্মগুলো পরবর্তীতে প্রকাশিত হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডের সাথে আরো বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতাও প্রকাশিত হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম নামের অরাজনৈতিক সংগঠনটি এখন প্রকৃত দ্বীনী আলেম দের হাত থেকে ছিটকে বেরিয়ে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ন্ত্রনে চলে গিয়েছে। তাদেরকে উস্কানি দিচ্ছে অন্যান্য বিরোধী দলগুলো যারা রাজনৈতিকভাবে মানুষের আস্থা হারিয়ে এখন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে মত্ত। হেফাজতের উদ্দেশ্যকে ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে অনেকাংশে তারাই কলকাঠি নাড়ছে পেছন থেকে। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তের মধ্য দিয়ে এই ধারনার সত্যতা কিছুটা আচঁ করা যায়।
 
২. বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলিমরা দ্বীনি আলেম দের দল-মত নির্বিশেষে সম্মান করে, কিন্তু ভিন্ন উদ্দেশ্যের রাজনৈতিক নেতাকে নয়। অনেক ইসলামিক নেতাও মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতি করেন এবং তাদের বিষয়ে তেমন কোন বিতর্কও নেই। এ দেশে সকল মানুষের রাজনীতি করার অধিকার আছে কিন্তু ইসলামকে নামের সাথে ব্যবহার করলেই কোন দল পুরোটা ইসলামিক হয়ে যায়না। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগসহ অন্যান্য দলগুলোতেও অগণিত ধার্মিক মানুষ রয়েছেন। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ বা অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। সেসব দলের নামের সাথে ইসলাম শব্দ না থাকলেও ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অগণিত মানুষ নিয়োজিত রয়েছেন। অপরদিকে বিশেষ কোন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি কর্তৃক ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুফল ভোগ করার সংস্কৃতি এদেশে বহুযুগ ধরে চলমান। কারণ আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে সঠিক জ্ঞান অর্জন না করে ব্যক্তি-বিশেষ এর কথায় প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই জনপদের মানুষকে বিভিন্ন ধর্মীয় ইস্যুতে উত্তেজিত করে বিশেষ শ্রেনীর নেতারা স্বার্থ চরিতার্থ করে থাকেন।
 
ইসলাম নিজেই যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ ধর্ম, সেখানে ইসলাম কে রক্ষার নামে অগণিত রাজনৈতিক দল আর বিভাজনের প্রয়োজন কেন? ইসলাম ধর্মের ভিত্তি মহাগ্রন্থ আল-কোরআন এবং মহানবী (সঃ) এর হাদীস ও সুন্নাহ্, যা পৃথিবীর সকল মুসলমানের জন্য এক ও অভিন্ন। দুভার্গ্যবশতঃ এদেশে তুচ্ছ কারনেও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি হয়। এই বাড়াবাড়ির ঘঠনাগুলো কিছু রাজনৈতিক দলের উস্কানির কারনে সংগঠিত হয়। কিন্তু ভুলে যাওয়া উচিত নয় ইসলাম রক্ষার দায়িত্ব কোন বিশেষ দলকে দেয়া হয়নি, এটা সমগ্র মুসলমানদের উপর অর্পন করা হয়েছে। মহান আল্লাহ্ নিজেই এর রক্ষক।
 
৩. কিছু আলেম দাবী করা মানুষের খারাপ কাজের সমালোচনা মানে পুরো আলেম সমাজ এর বিরুদ্ধে যাওয়া নয়। অভিযুক্ত এই কতিপয় মানুষ দেশের সকল আলেমের প্রতিনিধিও নন। বর্তমানে হাজতে থাকা একজন শিশু বক্তার ভাইরাল হওয়া ওয়াজের ভিডিওতে শুনা যায় (ক্ষেত্রবিশেষে) তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি কাউকেই মেনে নিতে রাজি নন। যে কোন প্রক্ষাপটে এটা সরাসরি দেশদ্রোহী ও রাষ্ট্রবিরোধী গর্হিত বক্তব্যের মধ্যে পড়ে যায়। দেশের প্রচলিত আইন, সার্বভৌমত্ব ও সরকার কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন তথা দেশপ্রম ঈমানের অঙ্গ। এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাজনৈতিক মাঠে না দিয়ে ওয়াজ মাহফিলে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দেয়া ছাড়া কিছুই নয়। এরকম কিছু মহল যেভাবে দেশে সহিংসতাকে উস্কে দিয়েছে তা আমাদের ধর্ম ও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর নির্দেশনায় সমর্থিত নয়।
 
আল্লামা মামুনুল হক ও শিশু বক্তার দ্বারাও ভূল ব্যাখ্যা দেয়া বা রাজনৈতিক কূটকৌশল অবলম্বন করা খুবই স্বাভাবিক বিষয় যেহেতু তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। তারা হেফাজতকে নিজের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাটাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অনেক সমর্থক উনাদের বুঝে বা না বুঝে সমর্থন দিয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শান্তি বিনষ্ট করে চলছেন। তাঁদের নিজেদের এই বিশ্বাসের ভিত্তি যে ভুল তা ইতোমধ্যে প্রমানিত হয়েছে। এই সমর্থনের অপর একটি কারণ হিসেবে রাজনৈতিক স্বার্থকে উল্ল্যেখ করা যেতে পারে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বিরোধী দলগুলো। পূর্বেও অনুরূপ কর্মকাণ্ডের নজির রয়েছে। কিন্তু এর ফলে  নতুন প্রজন্ম দেশের অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ দেখতে পায়। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত জনসাধারণ ও নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ দেশ গঠনে বলিষ্ট ভূমিকা রাখা। তা না করে রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম প্রগতিশীল মানুষদের জন্য হতাশা বয়ে নিয়ে আসে।
 
ইসলামকে রক্ষা করার দায়িত্ব সকল মুসলমানদের, নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়। জান্নাত এবং জাহান্নাম মানুষের নিজ কর্মফলের উপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে। ইসলাম ধর্মে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে জাহান্নামের সূচনা হবে বিশেষ তিনটি শ্রেনীর বিপথগামী কিছু মানুষ কে নিয়ে। আর সেসব ব্যাক্তি পৃথিবীতে নিজেকে শহীদ, আলেম এবং দানকারী ব্যক্তি দাবী করে এমন তিন শ্রেনীর মধ্য থেকে বাচাই করা হবে। এখানে আলেম বলতে এখানে কাদের বোঝানো হচ্ছে? আলেম শব্দের অর্থ জ্ঞানী। শরিয়তের পরিভাষায় আলেম বলা হয় তাঁকেই যিনি দ্বীন ও শরিয়তের গভীর জ্ঞান রাখেন ও সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেন। পাশাপাশি মহানবী (সঃ) এর সুন্নতের অনুসরণে নিজের জীবনকে পরিচালিত করেন এবং আল্লাহ্'র ভয়ে সদা সন্ত্রস্ত থাকেন। যে কোনো প্রকৃত আলেমের কাছ থেকে ইলম শিক্ষা নেয়ার কথা বলা হয়েছে ইসলামে। তাই কারো দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার পূর্বে সে ব্যাক্তি প্রকৃত আলেমে দ্বীন কিনা সেটা বিবেচ্য বিষয়।
 
এই বিষয়ে আরো বেশ কিছু ধর্মীয় ব্যাখ্যা আছে সে দিকে আলোকপাত করা উদ্দেশ্য নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই ইলম শিক্ষার আতুড়ঘর বলা হয় কওমী মাদ্রাসাগুলোকে। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তাদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শুধু কওমী মাদ্রাসা নয় ইসলাম ধর্মে আরো অনেক ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আলেম তৈরি হচ্ছেন। প্রসঙ্গতঃ আলেম শ্রেনী থেকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ জাহান্নামে সর্বপ্রথম যাওয়ার কারণ হচ্ছে তারা অর্জিত জ্ঞান আল্লাহ্'র সন্তুষ্টির চেয়ে অধিক ব্যাবহার করেছেন ব্যাক্তিগত স্বার্থে। আরো একটি বিষয় এখানে স্পষ্ট, আর তা হলো কোন শ্রেনী-পেশার মানুষই ভূল ত্রুটির উর্ধ্বে নয়। কোন ব্যাক্তি আলেম হলেও সে সঠিক পথে না থাকলে তাকে পরিত্যাগ করার নির্দেশনা ইসলাম ধর্মে রয়েছে।
 
৪. পূর্বেই বলা হয়েছে কতিপয় ব্যাক্তির অপকর্মের সমালোচনা করা মানে ইসলাম ধর্ম বা সকল আলেম দের বিরুদ্ধাচারণ নয়। বাংলাদেশে প্রকৃত দ্বীনি আলেম দের সকলেই শ্রদ্ধা করে এবং উনাদের কাছ থেকে ধর্মীয় রীতি-নীতি বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করে। অপরদিকে ইসলাম ধর্মের সবকিছু সত্য, স্পষ্ট, যুগোপযোগী ও যৌক্তিকতার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম নিয়ে গুড়ামী, অন্ধবিশ্বাস ও গোয়ার্তমি তে যারা ডুবে থাকে তারা বিপথগামী হিসেবে গণ্য হয়। যে কোন বিষয়ে কারো কথায় অন্ধ বিশ্বাস না করে সত্যের সন্ধান করার নির্দেশনা রয়েছে ইসলাম ধর্মে। কারন, অন্ধবিশ্বাস ভালো কিছু বয়ে আনেনা বরং বৃহৎ মাত্রায় সমাজে ক্ষতির কারণ হয়।  
 
এ দেশে ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে তাদেরকে বিভ্রান্ত করার সংস্কৃতি বহু পুরনো। এর ফলে সাম্প্রদায়িক আক্রমনের ঘঠনাও বেশ কয়েকবার সংগঠিত হয়েছে। তাই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে ইসলামেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শান্তিপ্রিয় ভাবে ইসলাম এর প্রচার ও প্রসার সকলের কাম্য। জীবদ্দশায় যাবতীয় সঠিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও পূণ্য রয়েছে। জীহাদের ডাক দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্টার হুংকার যারা দেন তারাই ইসলামিক আর বাকীরা অনৈসলামিক সেই ধারনার কোন ভিত্তি নেই। সকল কিছুর জন্যই নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ইসলামে দেয়া রয়েছে। ইসলাম বিষয়ে আমার জ্ঞান অনুযায়ী অনুধাবন হলো মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য ইবাদতের পাশাপাশি নিজের কথা, কর্ম, মানবপ্রেম, ও স্বদেশে শান্তি নিশ্চিতে ইসলামকে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
 
এ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখতে মানবিক হওয়া বেশী প্রয়োজন। সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা সবার আগে বর্জন করা প্রয়োজন। ভুলে গেলে চলবে না শান্তি প্রতিষ্টা করাই ইসলামের লক্ষ্য। যারা বাংলাদেশকে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাও অধিকাংশ মুসলমান। ইসলাম কে সমুন্নত করতে তাঁরাও বিভিন্ন মাত্রায় অবদান রাখেন। ইসলাম রক্ষায় কাজ করতে কোন নির্দিষ্ট দলের পরিচয় প্রয়োজন হয়না, প্রয়োজন হয় স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা।
 
লেখক:
মুহিবুল ইসলাম মিছবা
সমাজবিজ্ঞানী
 
সিলেটপ্রতিদিন/এসএএম