মায়ের রক্তের টাকা যোগাড় করতে ১৬দিনের নবজাতক বিক্রি

দুধ ও রক্তের টাকা এখনও যোগাড় হয়নি

মায়ের রক্তের টাকা যোগাড় করতে ১৬দিনের নবজাতক বিক্রি

প্রতিদিন প্রতিবেদক :: সন্তানের জন্য সবচেয়ে আপন হলো পিতা-মাতা। তদ্রুপ মা-বাবার জন্য সবচেয়ে আপন হলো সন্তান।একটি সন্তানের আশায় কত না স্বপ্ন দেখেন পিতা-মাতা। বাবা-মার জীবনকে আলোয় আলোকিত করে সন্তান। কোনো বাবা-মা চায় না তার সন্তানকে অন্যের কোলে তুলে দিতে। কিন্তু বাস্তবতা যে ভরই কঠিন তাই তো বুকভার ধনকে অন্যের কাছে তুলে দিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক দম্পতি। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজন টাকা। সামর্থ না থাকায় টাকার জন্যে বিক্রি করে দিলেন ১৬দিনের নবজাতক শিশুকে। 

শনিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু বাচ্চাটিকে টাকার বিনিময়ে বিক্রির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে এখনও যোগাড় হয়নি নবজাতকের জন্য দুধ এবং তার অসুস্থ মায়ের শরীর জন্য রক্ত কেনার টাকা।

জানা যায়, ১৬ দিন আগে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মন্দরী তেঘরিয়া গ্রামের রহিম উদ্দিনের স্ত্রী নিজের বাড়িতে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ হওয়ার পর শুক্রবার তাকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছিল।

হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক জানান, মায়ের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাই তার শরীরে পাঁচ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। বাচ্চার জন্যও বাইরে থেকে দুধও কিনে আনতে হবে। তখনও টাকা ছিল না নবজাতকের বাবা রহিম উদ্দিনের হাতে। 

নবজাতক কিনে নেয়া আছকির মিয়ার বোন শামছুন্নহার বেগম জানান, ‘আমার ভাই ১৮ বছর আগে বিয়ে করেছেন। কিন্তু তাদের কোন সন্তান হয়নি। হাসপাতালে এসে বাচ্চা বিক্রির কথা শুনে তা কিনে ভাই-ভাবীর কোলে তুলে দেই।

এব্যাপারে সিলেট প্রতিদিনের সাথে আলাপকালে রহিম উদ্দিন বলেন, সন্তান জন্মের পর তার নাম রাখা হয়েছিল চাঁদনূর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার মায়ের শরীরে পাঁচ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা পয়সা ছিল না।বাধ্য হয়ে দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে আধরের ধনকে বিক্রি করেছিলাম। পুলিশ আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

এই পর্যন্ত তিন ব্যাগ রক্ত জোগাড় হয়েছে। আরও কয় ব্যাগ লাগবে তা বলা যাচ্ছেনা। কাল রাতে একজন ৫শ টাকা দিয়েছিলেন।ওই টাকা দিয়ে দুধ কিনে এনেছি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রহিম উদ্দিন। 

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক জানান, দু’জনের সিদ্ধান্তেই শিশুটি হস্তান্তর হয়েছিল। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমাদের জানা নেই এবং নবজাতকটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।  

সিলেটপ্রতিদিন/এমএ