যেমন আছেন এটিএম শামসুজ্জামান

 যেমন আছেন এটিএম শামসুজ্জামান

বিনোদন ডেস্ক :  বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দাপটের সঙ্গে অভিনয় জগতে তার পদচারণা। এক সময় তুমুল ব্যস্ত থাকা এই অভিনেতা দীর্ঘদিন অভিনয়ের বাইরে। দেখা নেই সিনেমাপাড়াতেও। কেমন আছেন? কি করছেন? অভিনয়ে কি আর দেখা যাবে না তাকে? স্বাভাবিকভাবেই এমন নানা প্রশ্ন সারাক্ষণ ঘুরপাক খাচ্ছে সিনেমাপ্রেমীদের মনে। জানা যায়, আশি ছুঁই ছুঁই বয়সে এটিএম শামসুজ্জামানের একমাত্র সঙ্গী তার স্ত্রী রুনি জামান। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ভালো লাগা-মন্দ লাগা সব কিছুরই ভাগিদার তিনি। বর্তমানে দু’জনেই পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের বাসায় থাকেন।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া অভিনেতা এখন শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র ছাড়া কথা শুনতে পান না। এমনকি পরিষ্কারভাবে কথাও বলতে পারেন না। এসব কিছুই বয়স বাড়ার কারণে। তবে স্ত্রী তার সব কথা ও চোখের ভাষাই বুঝতে পারেন। যার
কারণে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তার স্ত্রী রুনি জামান জানান, বর্তমানে এটিএম শামসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালোই। তেমন কোনো গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন না। তবে মহামারি করোনার কারণে অভিনেতাকে নিয়ে চিন্তায় আছেন। বললেন, বয়স্ক লোকরাই তো বেশি মারা যাচ্ছেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। তাই তাকে নিয়ে আমি খুব সতর্ক। রুমি জামান আরো জানান, চার দেয়ালের ভেতরেই সময় কাটছে এ অভিনেতার। ঘর থেকে বের হন না অনেকদিন। টিভি দেখে গল্প করেই সময় কাটে। তবে এখনো অভিনয় করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আছে। মাঝে মাঝেই অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এটিএম শামসুজ্জামান একটি নামই শুধু নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটি দুর্দান্ত ইতিহাস। মঞ্চে কাজ করতেন অভিনেতা হিসেবেই। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন তিনি। এরপর আসেন খল অভিনয়ে। অসংখ্য চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের খল চরিত্রগুলো আজও জীবন্ত। হাসির ছলে কূটচালে মানুষের ক্ষতি করতে সিনেমার পর্দায় এটিএম’র জুড়ি মেলা ভার। তার চরিত্রগুলো চিত্রনাট্যে সেভাবেই লেখা হতো। দীর্ঘ একটা সময় তিনি খল চরিত্রে সিনেমার নির্মাতাদের কাছে সেরা ভরসা হিসেবে ছিলেন। এরপর তিনি ঝুঁকে পড়েন কৌতুক প্রধান চরিত্রের অভিনয়ে। বেশির ভাগ সময়ই তাকে দেখা যেতো হাস্যরসের সংলাপে। ধীরে ধীরে তিনি কমেডি চরিত্রে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে গেলেন। সিনেমার পাশাপাশি টিভি নাটক ও টেলিফিল্মেও এটিএম শামসুজ্জামান নতুন করে সারা দেশের মানুষকে বিনোদিত করতে শুরু করেন

সিলেট প্রতিদিন /টিআই