রাবিদের শেষ এসএমএস কি ছিল!

রাবিদের শেষ এসএমএস কি ছিল!

প্রতিদিন প্রতিবেদক :: সিলেট মহানগরীর কাজিটুলায় ৫তলা ভবনের সামনে থেকে উদ্ধার হওয়া রাবিদের মৃত্যুর ঘটনা এখনো রহস্যাবৃত। দুদিনেও কোন কিনারা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। 
 
বিশেষ করে তার মৃত্যুর ঘটনাটা হত্যা না আত্মহত্যা, রাবিদের মাদক সেবন, শ্রবণ প্রতিবন্ধী যুবতি শাহনিয়া ও তার ভাই আকবরের সাথে তার পরিচয়, কাজিটুলার ফ্ল্যাটে তার থাকা  বা আসা যাওয়া- ইত্যাদির চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে সচেতন মহলে। সোমবার ভোর ৫টায় তার মোবাইল থেকে একটি ম্যাসেজও দিয়েছিলেন তিনি আকবর ও ইয়ামিনকে। ম্যাসেজে তারা ঘুমিয়ে কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন রাবিদ।
 
এদিকে আইনশৃঙখলা বাহিনী এ মামলায় গ্রেফতারকৃত শ্রবণ প্রতিবন্ধী যুবতি শাহনিয়া ও তার দুই ভাইকে রিমা-ে নেয়ার অপেক্ষায়। তাদের বক্তব্য, শাহনিয়া, তার ভাই আকবর ও ইয়ামিনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হতে পারে। 
 
তবে বুধবারও তাদের রিমা- মঞ্জুর হয়নি। আংশিক শুনানী হয়েছে। বৃহস্পতিবার রিমা- মঞ্জুর হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
 
সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পিরেরবাজার এলাকার নূর মিয়ার ছেলে ৩ সন্তানের জনক রাবিদ আহমদ নাজিমকে সোমবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কে বা কারা নিয়ে যায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার পিতাকে মোবাইলে কল দিয়ে জানানো হয় আপনার ছেলে ৫তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত। তারা ওসামানীতে গিয়ে রাবিদের লাশ পেয়েছেন। সেদিনই তার বাবা নূর মিয়া তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এরপর কোতোয়ালী থানা পুলিশ গ্রেফতার করে ত্রিশ বছরের শ্রবণ প্রতিবন্ধী শাহনিয়া বেগম ও তার দুই ভাই আকবর ও ইয়ামিনকে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে তেমন কোন তথ্য আদায় সম্ভব হয়নি।
 
কাজিটুলার চৌধুরী ভিলায় শাহনিয়ার মা ও তার দুই ভাই থাকতেন। তিনি বিবাহিত। মাঝে মাঝে মা ভাইদের দেখতে এই বাসায় আসতেন বলে জানিয়েছে তার পারিবারিক সূত্র। 
 
রাবিদ তাদের ফ্লাটে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় একটি কক্ষ সাবলেট নিয়ে থাকতেন। তার মোবাইল ফোন ও এসংক্রান্ত অন্যান্য পণ্যের একটি দোকান আছে নগরীর বন্দরবাজারের করিম উল্লাহ মার্কেটে। সেখানে যাতায়াতের সুবাদেই রাবিদের সাথে আকবরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এমনকি এই ঘনিষ্ঠতা পারিবারিক পর্যায়েও ছিল বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
 
তার শরীরে উঁচু থেকে পড়ে যাওয়ার মতো আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
 
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সচেতন মহল মনে করছেন, অতিরিক্ত নেশাগ্রস্ত হওয়ার পর ৫তলা থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। মাদক নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের একাধিক সূত্রের সাথে আলাপে জানা যায়,  কিছুদিন আগে ঢাকা এলসিডি নামক এক ধরণের নেশা সেবন করে এক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা ঘঠেছে। রাবিদের ক্ষেত্রেও সেরকম কিছু ঘটলো কি না, সেটিও মাথায় রেখে এগুতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তাছাড়া তার কক্ষে থেকে ইয়াবাসহ অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য ও সেবনের উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
 
এদিকে রাবিদকে সকালের দিকে উদ্ধার করে  হাসপাতালে নেয়া হয়। আর ভোর ৫টার দিকে তিনি একাধিকবার আকবর ও তার ভাই ইয়ামিনের নম্বরে কল দিয়েছিলেন। ফোন না ধরার পর তিনি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। ইয়ামিন ও আকবর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে জানায়, ভোর ৫টার দিকে পাঠানো এসএমএসে সে জানতে চেয়েছিল তারা ঘুমিয়েছে কি না- ‘ঘুমাইছো’!
 
এদিকে এসএমপির কোতোয়ালী থানার ওসি, এএসএম আবু ফরহাদ স্বীকার করেছেন সকাল পৌণে ৯টার দিকে উঁচু থেকে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে চৌধুরী ভিলার নিচের ফ্লোরের অধিবাসীদের নিদ্রাভঙ্গ হয় বলেও জানিয়েছেন তারা।
 
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। তবে রাবিদের পরিবারের সদস্যরা নেশা সেবনের বিষয়টিকে জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে সে সিগারেটও সেবন করতোনা। সেখানে ইয়াবার মতো  মাদক সেবন করবে কিভাবে?
 
রাবিদের মৃত্যু শুধু রহসেই আবৃতই নয়, খুব জটিলও। তবে আইনশৃঙখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করলে এই রহস্য উন্মোচনও সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
 
সিলেট প্রতিদিন/ইকে