রেল যাবে ছাতক টু সুনামগঞ্জ

রেল যাবে ছাতক টু সুনামগঞ্জ

প্রতিদিন ডেস্ক :: সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সুনামগঞ্জ জেলা সদরে রেললাইন স্থাপন প্রকল্পটি বিশেষ একটি এলাকার পাশ ঘেঁষে নিয়ে যাওয়ার ‘পরিকল্পনা’ প্রকাশের পর জেলাজুড়ে বিতর্কের ঝড় বইছে। এ নিয়ে চলছে পরিকল্পনামন্ত্রী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ এমএ মান্নান ও জেলার বাকি ৫ সাংসদের রশি টানাটানি।

জানা যায়, ১৯৫৪ সালে সিলেট থেকে রেললাইন স্থাপিত হয় জেলার শিল্পনগরী খ্যাত ছাতকের সঙ্গে। এরপর থেকে হাওরের এ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ হয়ে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ যোগাযোগ স্থাপনের।

স্বাধীনতার পর এ দাবিটি জোরালো হয় কিন্তু কোনো সরকারই এতে কর্ণপাত করেনি। অবশেষে ২০১১ সালে এ জেলা থেকে নির্বাচিত সাংসদ প্রয়াত জাতীয় নেতা বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত রেলমন্ত্রী হিসাবে দ্বায়িত্ব নিলে এ দাবিটি প্রাণ ফিরে পায়। ২০১২ সালে ছাতক শহরে তাকে দেয়া এক গণ সংবর্ধনায় লাখো মানুষের উপস্থিততে তিনি ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের ঘোষণা দেন।

মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দীর্ঘ সমীক্ষা শেষে ছাতক- সুনামগঞ্জ- মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের অ্যালাইনমেন্ট তৈরি করেন। পরবর্তীতে পরিকল্পনামন্ত্রীসহ সুনামগঞ্জের সকল এমপিরা এর পক্ষে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী ভোল পাল্টে গোবিন্দগঞ্জ থেকে তার নিজ এলাকা শান্তিগঞ্জ হয়ে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পক্ষে কথা বলেন। এবং এর প্রেক্ষিতে চলে পুনরায় সমীক্ষা। এতে জেলাব্যাপী তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এব্যাপারে গত সোমবার সুনামগঞ্জের পাঁচজন সংসদ যথাক্রমে মুহিবুর রহমান মানিক, পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জয়া সেন গুপ্তা ও শামিমা শাহরিয়ার খানম রেলপথমন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটার দিয়েছেন।

এমপিরা বলছেন, আগের অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী কাজ না হলে ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর পর্যন্ত রেললাইন টানার যে সুলভ ও সহজ পথটি রয়েছে, সেটি রুদ্ধ হয়ে যাবে। ছাতক থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার লাইন টানলেই রেলের সঙ্গে সহজে যুক্ত হবে সুনামগঞ্জ জেলা সদর। এর বিপরীতে ঘোরানো-পেঁচানো ৫০ কিলোমিটার হাওরের দুর্গম এলাকা দিয়ে নির্মাণ করতে হবে রেললাইন। ফলে নির্মাণ ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নাও হতে পারে। সরকারের কোটি কোটি টাকা বাড়তি ব্যায়ে এটি বাস্তবায়িত হলেও কতটুকু জনবান্ধব হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

জেলার জেষ্ঠ সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক জানান, এ অঞ্চলের মানুষের শত বছরের দাবি ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ হয়ে মোহনগঞ্জে রেলপথ স্থাপনের জন্য। কিন্তু বলা হচ্ছে, ছাতক ও দোয়ারাবাজার এলাকায় মানুষ নাই। অথচ যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রথম যে বৃহত্তর একটি কাজ করেছিল সেটা ছিল দোয়ারা বাজারে সুরমা নদীর উপর পান্ডার খাল বাঁধ। সেখানেও ছিল দোয়ারাবাজারের উন্নয়নে যোগাযোগ বৃদ্ধি প্রসারের সাথে রেললাইন সংযোগ। আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলের জনদাবিকে গুরুত্ব দিয়ে এই রুটে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিবেন।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ