প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প বাস্তবায়নে পিছপা হবোনা : চৌহাট্টায় আজাদের হুংকার

প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প বাস্তবায়নে পিছপা হবোনা : চৌহাট্টায় আজাদের হুংকার

প্রতিদিন প্রতিবেদক :: প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প বাস্তবায়নে এক পা ও পছু হটবেন না বলে  বলে হুংকার দিলেন সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। দখলদার পরিবহন শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে আজ বুধবার দুপুরে তিনি এই হুংকার দেন। এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় কাউন্সিলর পরিবহন শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। সাথে ইটপাটকেল নিক্ষেপ। অবশ্য শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হয়েছে দখলদারদের।

সিলেট নগরীর চৌহাট্টার দখলদার পরিবহন শ্রমিকদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী।  ‘কোন পরোয়া নেই’- এমন একটা মনোভাব তাদের মধ্যে  কাজ করে প্রায় সবসময়। ক’দিন আগে তারা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেদিন কয়েকজন কাউন্সিলরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আজাদুর রহমান আজাদ।

বুধবার দুপুরেও বেপরোয়া পরিবহন শ্রমিকদের বাধায় উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা। খবর পেয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সদলবলে সেখানে উপস্থিত হন। মানে, মেয়রের সাথে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রায় সব কাউন্সিলর।

শ্রমিকদের সাথে চলে দীর্ঘ আলোচনা। কিন্তু  পাত্তাই দিচ্ছিলেন না তারা। এক পর্যায়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডিসি ফয়সল মাহমুদ তাদের বুঝিয়ে সুজিয়ে বেরিকেড প্রত্যাহারের চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হন তারাও। পরিবহন শ্রমিকদের একদফা দাবি, পাবলিক টয়লেটের পাশে তাদের স্ট্যান্ড দিতে হবে।

তাদের এমন নাছোড়বান্দা মনোভাবে চরম বিরক্ত হচ্ছিলেন উপস্থিত প্রায় সবাই। এরই এক পর্যায়ে বক্তব্য রাখছিলেন কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। বারবার তাদের বুঝানোর চেষ্টায় হোঁচটও খাচ্ছিলেন নানা উত্তেজক মন্তব্যে।

তিনি পরিবহন শ্রমিকদের সাথে অনুষ্টিত সিসিক’র আগের সভার প্রসঙ্গ টেনে বলতে থাকেন, সিটি কর্পোরেশন একটা প্রতিষ্ঠান। মেয়র সাহেব আজ আছেন কাল না ও থাকতে পারেন। আমি কাউন্সিলর আছি আবার না ও থাকতে পারি। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন থাকবে। এটি সবার।

তিনি বলতে থাকেন, আগের সভার বিষয়ে আপনারা বলেছিলেন সিটি কর্পোরেশনে যাবেন না। তবু আমরা রাজি হযেছিলাম। বসেছিলাম। সিটি কর্পোরেশনকে কেউ লেমটা ( ন্যাংটো) বুজিওনা। কমিটি নিয়ে আগের মিটিংয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা বাস্তবায়ন হয়নি।

সিলেট নগরীর উন্নয়ন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকল্প। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও রাস্তা প্রশ্বস্তকরণও প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা পিছপা হবোনা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা পিছপা হবোনা।

এর কিছু পর কথা আবার জটিল দিকে রূপ নেয়। শ্রমিকদের কয়েকজন উত্তেজনা ছড়াতে স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগান না দেয়ার অনুরোধ জানালে কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছকে ঘুষি মারেন জনৈক শ্রমিক নেতা। 

শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আর ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং সবশেষে পুলিশী হস্তক্ষেপে শান্ত হয় পরিস্থিতি।

সিলেট প্রতিদিন/ইকে-০২