সোনারগাঁয়ে হেফাজতের তাণ্ডব: ৩ মামলায় গ্রেফতার ৩

সোনারগাঁয়ে হেফাজতের তাণ্ডব: ৩ মামলায় গ্রেফতার ৩

প্রতিদিন ডেস্ক ::  নারায়ণগঞ্জে হেফাজত নেতাকর্মীদের তাণ্ডবের ঘটনার তিন দিন পর হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে ৮৩ জনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে মামুনুল হককে এক নারীসহ স্থানীয় জনতার অবরুদ্ধ করার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এ তাণ্ডব চালায়। 

বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সোনারগাঁ থানায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। এছাড়া এক সংবাদকর্মীকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়েছে। সোনারগাঁ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান মামলার দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনটি মামলায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে ৫শ’-৬শ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পুলিশের দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি একজনের নাম মোস্তফা বলে জানা গেছে। মোস্তফাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৩ শনিবার এপ্রিল বিকালে সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অবকাশযাপনের জন্য রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এ খবরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মামুনুল হককে আটক করে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় নারীসহ হেফাজত নেতার রিসোর্টে অবকাশযাপন নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ফেসবুকে লাইভ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। সন্ধ্যায় হেফাজতের কয়েকশ’ কর্মী-সমর্থক রয়েল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুর করে মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় হেফাজত নেতাকর্মীরা রিসোর্টের নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ভাঙচুর করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায় ও পুলিশের যানবাহন ভাঙচুর করে।

পরে রাতে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন খান ও মাওলানা ইকবালের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নেমে আসে। মামুনুল হককে হেনস্তা করার প্রতিবাদে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পথচারী ও সংবাদকর্মীসহ ১৫ জন আহত হন। সড়কে টায়ার ফেলে তাতে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। ভাঙচুর চালানো হয়েছে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নুর রেস্তোরাঁ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ আরও কয়েকটি দোকান।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াউর রহমান বাদী হয়ে মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরিফ হাওলাদার বাদী হয়ে মামুনুল হকসহ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে শনিবার মাওলানা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করার ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া স্থানীয় সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি ও ১৭ জনকে নাম উল্লেখসহ ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়।

দুটি মামলায় মামুনুল হক ছাড়াও মামলায় মাওলানা মহিউদ্দিন খান, মাওলানা ইকবাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, মোক্তার, নাসির প্রধান, এনায়েত উল্লাহ, ইব্রাহিম মুন্সি, মোস্তাফিজুর রহমান, নূরে ইয়াছিনসহ ৮৩ জনের নাম রয়েছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হেফাজত নেতা মামুনুল হকের নারীঘটিত কাণ্ডে ও হেফাজত নেতাদের তাণ্ডবের ঘটনায়  তিনটি মামলা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


প্রতিদিন ডেস্ক/ইকে