‘সবকিছু থমকে আছে’

‘সবকিছু থমকে আছে’

বিনোদন ডেস্ক :: র‌্যাম্প মডেল ও প্রশিক্ষক বুলবুল টুম্পা নানা বিষয়ে কথা বললেন একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদকের সাথে।  

কেমন কাটছে সময়?

বাসাতেই আছি। লকডাউনে কোথাও বের হই না। আমি তো যৌথ পরিবারে বাস করি। ফলে বেশ ভালোই কাটছে দিন। আমি পরিবারের সঙ্গে ঘরে থাকতে পছন্দও করি। তাদের সঙ্গে আড্ডা গল্প তো হচ্ছেই। এর বাইরে যেসব সিনেমা দেখা হয়নি সেগুলো দেখার চেষ্টা করি। এ ছাড়া বই পড়ি, নামাজ কালাম পড়ি। এভাবেই দিন কেটে যায়। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথাও বলি। এ সময়ে বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্কটা আবার গাঢ় হচ্ছে।

কাজ কর্মের কি খবর?

করোনার কারণে সবকিছুই তো বন্ধ। সবকিছুই থমকে আছে। হাতে যে কাজগুলো ছিল সেগুলোও স্থগিত রয়েছে। লকডাউনের পরে সবকিছু খুললে কাজ শুরু হবে। এখন তো আর কাজ নেই। অন্যদের বিষয়ে বলতে পারব না। আগে ১০০ পারসেন্ট যে কাজ করতাম সেটা ১০ পারসেন্টে নেমে গেছে। দুই বছরের কাছাকাছি সময় ধরে চলছে এই অবস্থা। করোনা পরিস্থিতি কবে নাগাদ ঠিক হবে? কবে নাগাদ আবার কাজ শুরু করতে পারব, আল্লাহই ভালো জানে।

করোনার এই ধাক্কা কি মডেল ইন্ডাস্ট্রি সামলে উঠতে পারবে?

করোনার কারণে শুধু ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি না, পুরো পৃথিবীই থমকে গেছে। এখন আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি সেটা আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যেভাবে দেশটাকে রিপেয়ার করতে হয় তেমনি করোনা-পরবর্তীও সব সেক্টরকে রিপেয়ার করতে হবে। সব যখন নরমাল হয়ে যাবে ফ্যাশন ডিজাইনাররা আবার কাজে ফিরবেন তখন তারা শুট  করবে, র‌্যাম্প শোর আয়োজন করবে। তখন হয়তো মডেলরাও আবার কাজে ফিরতে পারবেন।

আপনার মডেল একাডেমির কার্যক্রম কেমন চলছে?

লকডাউনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই স্কুল বন্ধ করে দিয়েছি। লকডাউনের পর সবকিছু স্বাভাবিক হলে আবার শুরু করব। আমি তো আসলে কোর্স হিসেবে করাই। আমার কাছে নতুনরাই বেশি আসে। কেউ র‌্যাম্পে কাজ করে আবার কেউ সিনেমা-নাটকে কাজ করে। নাটক-সিনেমার পরিচালকরাও আমার কাছে ছেলেমেয়ে চায়। পরিচালক রেদওয়ান রনি আমার কাছে বলেছিল একটা মুভি করছি আপনার কাছে নায়ক আছে কি না, আমি শরিফুল রাজকে পাঠাই। এরপর রাজ আইসক্রিম সিনেমার নায়ক হলো। নায়ক বাপ্পি, এবিএম সুমনসহ এ সময়ের বিখ্যাত অনেক তারকা আমার স্টুডেন্ট। আমরা তো অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে পারব না, মেধা দিয়ে চেষ্টা করছি। আমি সব সময় চেষ্টা করছি শোবিজে যাতে ভালো ছেলে মেয়েরা আসে। যেকোনো বয়সের লোকজনই এখানে ক্লাস করতে পারে। তবে এখানে তরুণেরাই বেশি আসে। কোর্স চার মাসের হলেও আমি সারা জীবনই সাপোর্ট দিই। আবার কেউ যদি শুধু নিজেকে গ্রুমিং করার জন্যও আসতে চায় তারাও আসতে পারে। আমি শুধু ক্যাটওয়াক করাই না কীভাবে কথা বলতে হবে, কীভাবে বসতে হবে, ড্রেসআপ কী হবে সবই শেখাই।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ