সিলেটে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে ‘বিদ্রোহী’ নেই, ডিসেম্বরেই কমিটি

সিলেটে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে ‘বিদ্রোহী’ নেই, ডিসেম্বরেই কমিটি

সাজলু লষ্কর ও এনামুল হক::
 
আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) সাখাওয়াত হোসেন শফিক দীর্ঘদিন মহামারী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। সুস্থ হয়ে কয়েক মাস পর যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলেক্ষে সিলেটের আলোচনা সভায় অংশ নিতে সিলেট সফরে আসেন তিনি। দুই দিনের সিলেট সফরের শেষ দিনে ১২ নভেম্বর বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেট প্রতিদিনের সাথে দীর্ঘ সময় একান্তে  কথা বলেন সাখাওয়াত হোসেন শফিক। 

এসময় তিনি জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতি, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি, দেশ পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা, ছাত্রলীগ সহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। 

আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক আলাপচারিতার শুরুতেই পূণ্যভূমি সিলেটের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, সিলেট আধ্যাত্মিক নগরী। এখানের মানুষ বেশি ধর্মপ্রাণ কারণ অসংখ্য অলি আউলিয়ার স্মৃতি ধন্য এই সিলেট। এখানে সব সময়ই আওয়ামীলীগের একটি দূর্জয় ঘাঁটি ছিল। যদিও মাঝেমধ্যে মৌলবাদী চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, সিলেটে আওয়ামীলীগের জেলা ও মহানগর পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ চলছে। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে শফিক বলেন, আওয়ামীলীগ শুধু দেশ নয় উপ মহাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এই দলের একেবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে। তবে কোন অবস্থাতেই এই প্রতিযোগিতাকে ’বিদ্রোহী’ বলা ঠিক হবে না। সিলেটের কমিটি নিয়েও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। সিলেট বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গির কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এবং সিলেট অঞ্চলের নেতা ডাক্তার মুশফিক সহ পুরো টিম মিলে খুব শীঘ্রই সব কিছু যাচাই বাছাই করে আগামি ডিসেম্বরের মধ্যেই কমিটি উপহার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেন তারা কখনো অন্যায় অপকর্মের সাথে জড়িত হতে পারেনা। বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামীলীগ  আজীবন গণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কাজ করেছেন । আজও বঙ্গবন্ধু কণ্যার নেতৃত্বে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চলছে। সেই সংগ্রামের অংশিদার হিসেবে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে পেরে আমরা নিজেরা গর্ববোধ করি। সুতরাং  আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে হলে এখন অবশ্যই পরিচ্ছন্ন্ রাজনীতি করতে হবে। তবে কোন অবস্থাতেই স্বাধিনতা বিরোধীচক্র কিংবা কোন অনুপ্রবেশকারী যেনো দলে জায়গা না পায় সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। 

এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন শফিক সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, আমাদেরও আত্মোপলব্ধির সময় এসেছে। আমাদেরকেও আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। আমাদেরও যে ভুল হচ্ছেনা তা নয়।  প্রতিটি ঘটনার যেখানে শেষ হয় সেখান থেকেই আরেকটি ঘটনার জন্ম নেয়। প্রতিটি ঘটনা থেকেই শিক্ষা নিতে হয়।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে সাখাওয়াত হোসেন শফিক বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। শেখ হাসিনা এখন বিশ্ব মানবতার নেত্রী। তার নেতৃত্বে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ এবং একটি আধুনিক বাংলাদেশে পরিনত হচ্ছে। দেশে এখন কোন জঙ্গিবাদ নেই, সন্ত্রাস নেই। সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে দেশের সর্বত্র এখন উন্নয়ন মহাযজ্ঞ চলছে।

আওয়ামীলীগের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রিয় এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন,  আওয়ামীলীগ গণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। আওয়ামীলীগ মানুষের জন্য কাজ করে । মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই আওয়ামীলীগের জন্ম ও এগিয়ে চলা। আগামী দিনের পথ চলায় আওয়ামীলীগের সর্ব স্থরের নেতাকর্মীদের ইস্পাত কঠিন ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এখন বিশ্ব স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু কন্যা যেভাবে যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন সেই দেশ গড়ার কাজে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের অংশ গ্রহণের আহবান জানান তিনি। 
 
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে সংঘটিত কয়েকটি ঘটনা নিয়ে আওয়ামীলীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে অপরাধ করে সে যেই হোক কেউ পার পাবে না। এমসি কলেজের ঘটনায় যারা অপরাধী তারা কেউ ছাত্রলীগের জনশক্তি নয়। তারা তাদের স্বার্থে ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করেছে। সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে অবশ্যই তাদের বিচার হবে।

দীর্ঘদিন ধরে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নেই। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কাঠামো না থাকায় অনেকেই নানা সময় জড়িয়ে পড়ছে বিতর্কিকত কর্মকান্ডে। কিন্ত কমিটি না থাকায় কেউ দায়িত্ব নিতে চাননা। ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে অবিভাবক সংগঠন হিসেবে আওয়ামীলীগের কোন উদ্যোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগের প্রাণ। আমি নিজে সহ বর্তমান আওয়ামীলীগের প্রথম সারির প্রায় সকল নেতা ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা। সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ন জায়গায় দীর্ঘদিন থেকে সাংগঠনিক কাঠামো না থাকাটা খুবই দূ:খ জনক।  আমরা ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে খুব শীঘ্রই জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি প্রদানের বিষয়ে কথা বলবো।