সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ভাংচুরের ৭ বছর : বিচারের অপেক্ষা

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ভাংচুরের ৭ বছর : বিচারের অপেক্ষা

প্রতিদিন প্রতিবেদক:: দিনটি ছিল শুক্রবার। ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর রেশ কাটতে না কাটতেই হামলার শিকার হয় শহীদ মিনার। সিলেটের ইতিহাসে সূচনা হয় এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের। জুমার নামাজ শেষে কয়েকটি ইসলামী সমমনা দলের ব্যানারে জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার কর্মী কোর্ট পয়েন্টে জমায়েত হয়। সেখানে সমাবেশ করে তারা শহীদ মিনারে গিয়ে হামলা চালায়। হামলায় ১ জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। এর মধ্যে সাংবাদিকসহ গুলিবিদ্ধ হন ১০ জন। এদিন পৌনে ৩টার দিকে মিছিলকারীরা শহীদ মিনারে ঢুকে পড়ে এবং ২১শে ফেব্রুয়ারির দিন দেয়া ফুলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে তারা সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট ব্যাংকে আগুন দেয়, শহীদ মিনরের সীমানা প্রাচীর, মুজিব-জাহান ব্লাড ব্যাংক ও বিএমএ ভবনে ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ বাঁধা দিলে হামলাকারীরা ব্যাপক ইটপাটকেল ছুড়ে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে জিন্দাবাজার থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
 
চোখের সামনে বাঙালির চেতনার প্রতীক শহিদ মিনার ভেঙে চুরমার করা হয়। আজও সেই বেদনার ক্ষত মুছতে পারেনি সিলেটের মানুষ। সেই ভয়াল স্মৃতির ৭ বছর হলেও শহিদ মিনার ভাংচুর মামলায় নেই কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি। মামলার আসামীরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্ষমতাসীনদের সাথে মিলে মিশে তারাও এখন হয়েছেন শহীদ মিনার প্রেমী।
 
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক জামাল উদ্দিন ও কমর উদ্দিন বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে (মামলা নং-২৫ ও ২৬) দুটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা ২৫নং মামলায় ৯৪ জনের নাম উল্লেখ করে ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর চার্জশিট (যার নং- ৩৫৪) দাখিল করে। মামলা নং-২৬ এ ৮৪ জনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট নং-৩৫৫ দাখিল করা হয়।
 
এ দুই মামলায় মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডাক্তার শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী, মহানগর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি ইনসান আলী, মহানগর ছাত্র শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দেলওয়ার, এমসি কলেজ ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি তোফাজ্জুল আহমদ, মদন মোহন কলেজ ছাত্র শিবির সভাপতি তানভীর আহমদ, সেক্রেটারি মাহবুবসহ মোট ১৭৮ জনের নাম উল্লেখ করে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত আসামি করে চার্জশিট গঠন করা হলেও অধিকাংশই রয়েছেন পলাতক।
 
এ ঘটনার হামলাকারীদের এখনও বিচারের আওতায় না আনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংষ্কৃতিকর্মীরা। তারা দ্রুত হামলাকারীদের আইনেও আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

সিলেটপ্রতিদিন/এসএ/এসএএম