সিলেট চার উপজেলা আওয়ামীলীগ : পেতে পারে নতুন বছরের ‘উপহার’ 

সিলেট চার উপজেলা আওয়ামীলীগ : পেতে পারে নতুন বছরের ‘উপহার’ 

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম:
মহামারী করোনাকালের বিপর্যয়ে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। আটকে আছে রাজনীতি আর অর্থনীতির চাকা। বহু সংকট সীমাবদ্ধতা তবুও থেমে নেই সিলেট আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম। সারা দেশের ন্যায় সিলেটের তৃণমূলেও রয়েছে দলটির নানা কর্মসূচী। জেলা সহ বিভিন্ন উপজেলার পূর্নাঙ্গ কমিটি না থাকায় বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে দলটিকে। 
 
তবে জেলা কমিটি পূর্নাঙ্গ হওয়ার পর পরই আগামী বছরের শুরুতেই সিলেটের চার উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ। সংগঠনের একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায় আগামী জানুয়ারীর যেকোন সময় সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গেলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার এই চার উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হবে। 
 
জানা যায়, গত বছরের বিভিন্ন সময়ে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার এই চার উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে কমিটি হয়। উপজেলাগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি চার উপজেলা আওয়ামীলীগ।
 
সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ মফিজুর রহমান বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নিজাম উদ্দিন। দুজনকে গত বছরের শেষের দিকে সভাপতি সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দায়িত্ব প্রদানের বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি ক্ষমতাসিন দলের গুরুত্বপুর্ণ এ শাখা কমিটি।
 
শুধু সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ নয়, সিলেট মেট্টোসিটির গুরুত্বপূর্ণ অরেকটি উপজেলা দক্ষিণ সুরমা। এই উপজেলায় ২০১৯ খিষ্টাব্দের ২৫ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নির্বাচনের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলমকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট শামীম আহমদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
 
সভাপতি  ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও পুর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগ। এজন্য সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা অনেকটা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে মনে করেন উপজেলা আওয়ামীগের একাধিক নেতাকর্মী। তারা মনে করেন উপজেলা আওয়ামীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়াতে দিনে দিনে তাদের অনেকের মধ্যে হতাশা নেমে আসছে। 
 
এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও মোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম সাইস্তা বলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়াতে দলের কার্যক্রম অনেকটা জিমিয়ে পড়েছে। কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলে দলের কার্যক্রম গতিশীল হতো। নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসতো।
 
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম বলেন- সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলেও ধারাবাহিকতা থেমে নেই। সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সহযোগীতায় দলীয় সকল কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সিলেট জেলা কমিটি অনুমোদন হওয়ার পর আমরা যতো দ্রুত সম্ভব উপজেলা কমিটি অনুমোদন নিয়ে আসবো।

একই ভাবে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই প্রায় এক বছর থেকে। গত বছর ১৭ ডিসেম্বর এই উপজেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ রফিক আহমদ।
 
অপরদিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগেরও একই অবস্থা। এই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল। 
 
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান সিলেট প্রতিদিনকে জানান- এ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে তারা গত বছর নভেম্বরের শেষের দিকে দায়িত্ব নেন। এক বছরের বেশি সময় থেকে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলেও তাদের দলীয় কর্মসুচি পালন থেমে নেই বলেও জানান তিনি।
 
এ বিষয়ে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান সিলেট প্রতিদিনকে বলেন- সিলেটের চারটি উপজেলা কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশাকরি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি হয়ে গেলে পরবর্তী মাস খানেকের মধ্যেই উপজেলা আওয়ামীগের কমিটিগুলো অনুমোদন দেয়া সম্ভব হবে।

সিলেটপ্রতিদিন/এমএনআই/এসএএম