সিলেটে ডিগ্রি না নিয়েও লাভলু নামকরা ডেন্টিস্ট!

সিলেটে ডিগ্রি না নিয়েও লাভলু নামকরা ডেন্টিস্ট!

রুমেল আলী, ফেঞ্চুগঞ্জ :: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের বাসিন্দা এম এস ইউ লাভলু। পেশায় একজন দন্ত ও মুখ গহ্বর চিকিৎসক। রয়েছে তার সুসজ্জিত চেম্বার। ওই চেম্বারে আছে দামি ডেন্টাল ইউনিট। চেম্বারে দামি আসবাবপত্রসহ সবই আছে। তবে নেই শুধু তার অনুমোদিত ডিগ্রি। পড়া শোনার দৌড় সর্বোচ্চ প্রাথমিক হলেও বর্তমানে তিনি ডেন্টালের নামকরা চিকিৎসক।

বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির (বিডিএস) সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী তিনি একজন ‘হাতুড়ে দন্ত চিকিৎসক’। 

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর সিলেটের গোয়াইঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভুয়া ডাক্তার লাভলুকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারপরও লাভলু নিজেকে ডেন্টিস্টের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সহ বিভিন্ন উপজেলায় চেম্বার খুলে ডেন্টাল কেয়ার চালাচ্ছেন লাভলু। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সদরের পশ্চিম বাজারে বর্তমানে তিনি এ্যাপেলো ডেন্টাল কেয়ার চালাচ্ছেন। ডেন্টাল কেয়ারের সাইনবোর্ডে ঢাকা থেকে আগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের দ্বারা চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলে লাভলু নিজের নামে প্রেসক্রিপশন দিয়ে থাকেন।

জানা গেছে, ওই ডেন্টালে দাঁতে ব্যথা, দাঁত তোলা, স্কেলিং, ফিলিং (লাইট কিউরসহ), দাঁত বাধানো (পিডি, সিডিসহ), উঁচু ও বাকা দাঁত সমান করা, রুচ ক্যানেল জিএনজি ভাইটিস, দাঁতের গোড়া হতে রক্ত পড়া সহ নানা রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয় বলে প্রচার করা হচ্ছে। মূলত সেখানে রোগীরা গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। নামের আগে ডেন্টিস্ট লিখে লাভলু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতো ফি নিয়ে রোগী দেখছেন।

লাভলুর অপচিকিৎসার শিকার হওয়া উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক এনাম বলেন, আমি দাঁত ফিলিং করতে লাভলুর কাছে গিয়েছিলাম। সে আমার ভালো একটি দাঁতকে কালো করে দিয়ে বলেছিলো এক সপ্তাহ ঔষধ সেবন করার জন্য। আমি তার কথা অনুযায়ী ঔষধ সেবন করেছি। তিন সপ্তাহ পর সে আমার দুটি দাঁত তোলে ফেলে। আমার দাঁতে নাকি চিকিৎসা করলে ভালো হবে না। এতে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির (বিডিএস) ও বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়া কেউ ডাক্তার সেজে চিকিৎসা দিতে পারবেন না। সে অনুযায়ী এম এস ইউ লাভলু ভুয়া ডাক্তার হিসেবে বিবেচিত।

এ ব্যাপারে এম এস ইউ লাভলুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কোর্স করে আমি ডি.ডি.টি ও এম.ভি.ডি উপাধি পেয়েছি। বিএমডিসি থেকে আমি রেজিস্ট্রেশন পেয়েছি।

এ বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা.প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, লাভলু তার নামে পাশে যে ডিগ্রিগুলো (ডি.ডি.টি ও এম.ভি.ডি) ব্যবহার করছে সেগুলো কোনো বড় ডিগ্রি না। যদি সে সাধারণ বা ডিপ্লোমাধারী কোনো কোর্স করে থাকে তাহলে সে ডাক্তারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারবে। সে কোনো রোগীর দাঁতে অস্ত্রোপাচার করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন লাভলুর ডিগ্রিগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারেন কোন নিয়মে তিনি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ