সিলেট যুবলীগে আশার আলো 

সিলেট যুবলীগে আশার আলো 

সাজলু লস্কর  : ঘোর কেটেছে জেলা যুবলীগে। এবার আশার আলো জ্বলছে সংগঠনে। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে চায় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সিদ্বান্তে সারাদেশে দায়িত্ব বণ্ঠন হয়েছে যুবলীগের। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের দায়িত্ব পেলেন দুই চৌকস যুব সংগঠক রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দ্দার ও ড. মো. রেজাউল কবির। প্রথমজন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং অপরজন সাংগঠনিক সম্পাদক। 

গ্রহনযোগ্য কমিটি গঠন, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভাবে যুবলীগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং যুবলীগকে ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তুলা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে যুবলীগকে প্রস্তুতিকরণে কাজ করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। 

এদিকে,সাংগঠনিক টিম দেওয়ায় সিলেটে যুবলীগ নেতা কর্মীদের মাঝে আশার আলো দেখছে। নতুন সাংগঠনিক টিম পূর্ণাঙ্গ  কমিটি গঠন গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখবেন - এই প্রত্যাশা করছেন তৃণমুল নেতাকর্মীরা। 

সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার দেড় বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়েও নানা কারনে  পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগ। নানা প্রতিবন্ধকতায় বারবার আটকা পড়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। তবে এবার আশার আলো দেখছে যুবলীগ। সিলেট যুবলীগকে গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রদান করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। 

এ বিষয়ে জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আহমদ বলেন,সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের পুন্যভূমি সিলেটে স্বাগতম জানাই।কেন্দ্রের নির্দেশনা পাওয়া সাথে সাথেই আমরা কমিটি জমা দিতে পারবো।তিনি ববলেন, দলের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা কর্মীদের জেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। 

মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুসফিক যায়গীরদার বলেন,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক এর নেতৃত্বে সিলেটেসহ সারা দেশে যুবলীগ একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবার। যুবলীগের সাংগঠনিক টিমের সদস্যদের পূণ্য ভূমি সিলেটে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন,কেন্দ্রের নির্দেশ পেলে আমরা পূর্ণাঙ্গ  কমিটি করতে প্রস্তুত রয়েছি। 

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, সাংগঠনিক টিমের নেতৃবৃন্দকে পূণ্যভূমি সিলেটে সুস্বাগতম জানাই। যুবলীগকে এগিয়ে নিতে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল যে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছেন- তা প্রশংসার দাবি রাখে। 

তিনি বলেন, সাংগঠনিক টিম যা বলবেন, তা আমরা করতে প্রস্তুত রয়েছি। মহানগর কমিটির খসড়া আমরা প্রস্তুত করেছি। যখনই বলবেন, আমরা তা জমা দিয়ে দিবো। 

সিলেট যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ ভিপি বলেন, দেশের যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় যুবলীগ কাজ করে যাচ্ছে। সিলেটেও এর ব্যতিক্রম নয়। যুবলীগকে এগিয়ে নিতে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল সাংগঠনিক টিম দিয়েছেন এ জন্য প্রিয় নেতাদের ধন্যবাদ জানাই। আশা করি তাদের নেতৃত্বে সিলেট যুবলীগ আরো এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাদেশ বিনির্মানে কাজ করতে সিলেট জেলা যুবলীগ প্রস্তুত রয়েছে। 

কমিটির ব্যাপারে ভিপি শামীম বলেন, যোগ্য, দক্ষ, ত্যাগী ও পরিক্ষীত নেতাদের দিয়েই জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হবে। 

সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দ্দার সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে সারাদেশের সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব দেয়া হয়।

পবিত্র নগরী সিলেটের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমি ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. রেজাউল কবিরকে । আমরা যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের পরামর্শ অনুযায়ী  পরবর্তী করনীয় ঠিক করবো।

সিলেট বিভাগের  দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. রেজাউল কবির সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, সিলেটে যুবলীগকে আরো এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাবো।যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশ ক্রমে পরবর্তী কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করবো । এব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সকল সাংগঠনিক রিপোর্ট নেব তার পর কমিটিসহ বাকি কাজগুলো হাত দেব।

উল্লেখ্য: গত ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেট জেলা  যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পান শামীম আহমদ ভিপি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শামীম আহমদ। কাউন্সিলরদের গোপন ভোটে তারা নির্বাচিত হন। 

এর আগে ২৭ জুলাই মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন আলম খান মুক্তি ও সাধারণ সম্পাদক হন মুশফিক জায়গীরদার।