কাল রায়হান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা

কাল রায়হান হত্যা  মামলার অভিযোগপত্র জমা

প্রতিদিন প্রতিবেদক :: সিলেট নগরের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

বুধবার (৫ মে) তা আদালতে জমা দেয়ার কথা জানিয়েছেন পিবিআই সিলেটেরে পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান।

সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদ হত্যাকাণ্ডের সাত মাস পেরোতে চলছে। এই দীর্ঘসময়েও চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দিতে পারেনি পুলিশ। 

অভিযোগপত্র প্রস্তুত হয়ে গেছে বলেও একমাস পার করে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে রায়হানের পরিবারের মধ্যে।

রায়হানের পরিবারের দাবি, নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তাঁরা।

গত বছরের ১১ অক্টোবর মধ্যরাতে নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ। নগরের কাষ্টঘর সুইপার কলোনি থেকে তাকে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যায় ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ও তার সহকারীরা। কয়েক ঘণ্টা চলে পাশবিক নির্যাতন। পরে ভোরে রায়হানের নিথর দেহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করে পুলিশ।

পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যু ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তারে দাবিতে চলে নানা কর্মসূচি।

১২ অক্টোবর রাতে হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন রায়হানের স্ত্রী।

আলোচিত এ মামলাটির আসামি পুলিশ হওয়ায় একটি নির্ভূল, ত্রুটিমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য চার্জশীট তৈরি করতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, করোনার বিরূপ পরিস্থিতি ও নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়েছে। তবে, চলতি মাসেই অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলেন জানান এই কর্মকর্তা।

পিবিআইয়ের সূত্র জানায়, মামলা তদন্তে রায়হানকে নির্যাতনের সাথে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, বরখাস্ত হওয়া টুআইসি এসআই হাসান আলীসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে তাদের আসামি করা হবে।

তবে রায়হান হত্যার পর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তন ও প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে পালাতে সহায়তাকারী কথিত সাংবাদিক কোম্পানীগঞ্জের আবদুল্লাহ আল নোমানকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

সূত্র আরও জানায়, রায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বন্দরবাজার ফাঁড়ির ৬ পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ৬ জন এখন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, টুআইসি এসআই হাসান আলী, এএসআই আশেকে এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল তৌহিদ মিয়া ও কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ