সিলেটে ১ কিলোমিটারেই ‌‘অপরাধের আখড়া’!

সিলেটে ১ কিলোমিটারেই ‌‘অপরাধের আখড়া’!
ভাসমনা পতিতাদের নিরাপদ স্থান সাইনবোর্ড। ছবি-রেজা রুবেল

মশাহিদ আলী :: সিলেট নগরের প্রথম ভিআইপি রোড তালতলা।  মন্ত্রী-এমপি থেকে সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা সিলেটে পা মাড়ালে সার্কিট হাউসে অবস্থানের জন্য এই রোডই ব্যবহার করেন। যে কারণে রোডটির নাম রাখা হয় ভিআইপি রোড। কিন্তু ভিআইপি সড়কের নামের পেছনে কলিমা লেপন করেছে এক কিলোমিটার এলাকায় গড়ে ওঠে হরেক রকমের অপরাধ।

নগরের সুরমা মার্কেট পয়েন্ট থেকে তালতলা হয়ে জিতু মিয়ার পয়েন্ট।অন্যদিকে তালতলা থেকে লামাবাজার পয়েন্ট এবং তালতলা থেকে ফাঁড়ি পড়ে মির্জাজাঙ্গাল জামতলা সড়কে প্রায় সময়ই ঘটে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এই সড়কেই আদালতপাড়া,ব্যাংকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় । কিন্তু নজরদারির অভাবে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেছে এক কিলোমিটার এলাকা। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে সব অপরাধ কর্মকান্ড।  অপরাধের ফাঁদে পড়ে সবস্ব খোয়ান লোকজন।  

তালতলা থেকে কোতোয়ালী মডেল থানা ১ থেকে দেড় কিলোকিলোমিটার জায়গা। এই জায়গার মধ্যে রয়েছে সিলেটের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যেখানে কোতোয়ালি মডেল থানা, উপ বিভাগ প্রকৌশলী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়, জালালাবাদ পার্ক, জেলা ও মহানগর দায়রা আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট সিটি করপোরেশন, বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ি, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।  

এসব গুরুত্বপূর্ণস্থান গুলোর চারদিক জুড়েই রয়েছে সিসি ক্যামেরা। কিন্তু এ যেনো বাতির নিচে অন্ধকারের মতো। সিসি ক্যামেরা থাকা সত্বেও সেই ক্যামেরার নিচেই চলে অপরাধীদের আনোগোনা। এমনকি সেখানে বসে থাকেন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর লোক।তালতলা পয়েন্টের বিপরীত দিকে রয়েছে কোট মসজিদ। মসজিদের গেইট ও জেলা আইনজীবী সমিতির বার হলে প্রবেশের প্রধান ফটকের মধ্যখানে রয়েছে যাত্রী ছাউনী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের রিকশা ভাড়া নির্ধারণের একটি সাইনবোর্ড। আর এই সাইনবোর্ডের আড়ালেই চলে ভাসমান পতিতাদের সঙ্গে খদ্দেরের দরদাম। ভাবতে পারেন এখানে আবার কিসের দরদাম চলে। 

সেদিকে আসছি। তার আগেই যেতে চাই পাশে থাকা সুরমা মার্কেটে। নাম এবং গুনে সবাই চিনেন। কি নেই এখানে। ভুয়া সিল তৈরি করা থেকে রয়েছে জাল দলীল,ভুয়া আইডি কার্ড তৈরির কার্যক্রম। এখানে শেষ নয়। রয়েছে আবাসিক হোটেল নিউ সুরমা রেস্ট হাউস,বদরুল রেস্ট হাউস,হোটেল মনোরম।

সূত্র জানা যায়, এগুলোতে চলে অসামাজিক সব কাজ। সুরমা মার্কেট থেকেই একটু এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অপর পাশে রয়েছে রহমানিয়া বোডিং (আবাসিক)। তার সামনে রয়েছে হোটেল গুলসান,সুফিয়া হোটেল, হোটেল বিলাস (আবাসিক) এই হোটেলগুলোতে চলে অসামাজিক কাজ। নন্দিতা সিনেমা হলের পাশেই চলে জুয়াড় আসর। একই ভাবে চলে আনা ম্যানশন। তবে কোতোয়ালী থানার একেবারেই পাশেই পশ্চিম কাজিরবাজারে নদীর তীর ঘেষা ঘরগুলোতে বসছে জুয়াড় আসর।

পরিচয় গোপন রেখে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে তালতলা গেলে যাত্রী ছাউনীর ওই সাইনবোর্ডের পিছনে দেখা মিলে কিছু নারী দালালদের। তাদের দেখে ওই স্থানে গেলেই এগ্রিয়ে আসেন এক ৩৫-৪০ বছরের নারী। পিছন দিকে দাঁড়িয়ে থেকে উদ্দেশ্যে করে বললেন কেমন চান? কোনটায় উঠবেন? যেমনটা চাইবেন পাবেন। এক প্রশ্নে ওই নারী দালাল বলেন, আশপাশের সব হোটেলেই আমাদের লোক রয়েছে কোনো সমস্যা হবে না।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে নন্দিতা সিনেমা হলের পাশেই ও পশ্চিম কাজির বাজার সরেজিমনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি বোর্ডে চলছে ভারতীয় শিলং তীরের খেলা। যেখানে রিকশা চালক থেকে শুরু করে যুবক ও মধ্যবয়সীরা রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের লোকজনকে টাকা দিয়ে এসব কাজ চলে। সেখানে সরকার দলীয় ও বিএনপির স্থানীয় বেশ কয়েটি গ্রুপের প্রভাবশালী নেতাদের নেতৃত্বে চলে শিলং তীরের বোর্ড।  

এব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এস এম আবু ফরহাদ সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, আবাসিক হোটেলে  আমরা অভিযানে শিগগিরই চালাবো। তীর জুয়াড়ীদের বির“দ্ধে অভিযান চলেছে।ধরাবাহিকভাবে এসব স্থানে অভিযান চালানো হবে।

সিলেট প্রতিদিন/এসএ/এমএ