সড়ক যেনো মরণফাঁদ!

সড়ক যেনো মরণফাঁদ!

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ::

সিলেটের সড়কগুলো যেনো মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে।  প্রতিদিনই কোন না কোন স্থানে ঘটছে দূর্ঘটনা। ঝরছে প্রাণ। খালি হচ্ছে কোন না কোন মায়ের বুক কিংবা পঙ্গুত্ব ভরণ করতে হচ্ছে কাউকে না কাউকে। বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সিলেটে একই দিনে পৃথক ৩টি সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এসব দূর্ঘটনায় ১জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১২ জন আহত হযেছেন। এর মধ্যে ২জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।  

ঘন ঘন সড়ক দূর্ঘটনায় আতংকিত সাধারণ মানুষ। সড়ক দূর্ঘটনাকে এখনই রোধ করা না গেলে তা আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তারা এ ব্যাপারে প্রসাশনসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানান।

জানা যায়, বুধবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমার অতির বাড়ি এলাকায় হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের একটি বাসের সাথে সিলেট মুখী একটি ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টায় সংঘঠিত এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সিলেট প্রতিদিনকে জানান, সকাল বেলা ঘন কুয়াশা থাকার কারনে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কেউ হতাহত হননি। বাসের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার আধাঘন্টার মধ্যে ওসমানীনগরের ইলাশপুরে ঘন কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাজারগামী একটি বাস খাদে পড়ে যায়। এতে আহত হয়েছেন ১০ জন যাত্রী। 

জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে ওসমানীনগরের ইলাশপুর নামক এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। তবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে খাদে পড়া বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে ওসমানীনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক জানান, বগুড়া থেকে সিলেটে মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আসছিলেন যাত্রীরা। ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারের ইলাশপুরে ঘন কুয়াশার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি খাদে পড়ে যায়। পরে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা বাসের ভেতর থেকে আহতদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করে।

একই দিন অপর একটি ঘটনায়, সিলেটের বিশ্বনাথে বাস অটোরিকশা সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। গুরুত্বর আহত হয়েছেন অটোরিকশা সিএনজির এক যাত্রী ও ড্রাইভার। বুধবার দুপুরে বিশ্বনাথ রামপাশা সড়কের নরশিংপুর নামক স্থানে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে। 

নিহত ব্যক্তির নাম সাইদুর রহমান (২৫)। তিনি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দশপাইকা গ্রামের আব্দুস সোবহানের পুত্র এবং গুরুত্বর আহতরা হচ্ছেন, একই গ্রামের ছমক আলীর পুত্র কবির হোসেন (২৬) ও অটোরিকশা চালক মীরগাঁও গ্রামের ময়না মিয়ার পুত্র আব্দুল মতিন (২৭)। তারা দুজনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিলেট-জ ০৪-০০৭৯ মিনিবাস ও নাম্বার বিহীন অটোরিকশা সিএনজিটি আটক করে। তবে, বাসে থাকা কোন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা একটি মিনিবাস বিশ^নাথ বৈরাগী সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। অপর দিকে উপজেলার দশপাইকা থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএসজি বিশ^নাথের দিকে আসছিল। নরশিংপুর নামক স্থানে আসা মাত্র দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ছাইদুর রহমান। এবং সিএনজির ড্রাইভার ও এক যাত্রী গুরুত্বর আহত হন। মূমূর্ষ অবস্থায় দু’জনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শামিম মুসা জানান, দুটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সিলেট প্রতিদিন/এমএনআই-১৫