হেফাজতে তীব্র অসন্তোষ, কপাল পুড়তে পারে মামুনুলের!

হেফাজতে তীব্র অসন্তোষ, কপাল পুড়তে পারে মামুনুলের!

প্রতিদিন ডেস্ক :: সোনারগাঁও রয়্যাল রিসোর্টে নারীসঙ্গীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে হেফাজতে। কৌশলগত কারণে মামুনুল হককে বাইরে সমর্থন জানালেও ভেতরে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা কোনো অবস্থাতেই মামুনুল হকের কর্মকাণ্ড মেনে নিতে পারছেন না। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে হেফাজতের ‘বিতর্কিত’ এই নেতাকে।

সংগঠনটির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তাদের কথপোকথন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁও রয়্যাল রিসোর্টে নারীসঙ্গীসহ অবরুদ্ধ হওয়া একদিন পর ৫ এপ্রিল মোহম্মদপুর জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রসায় জরুরি বৈঠকে বসেন হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম, উপদেষ্টা মাওলানা আবুল কালাম, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, অধ্যাপক ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা জসিমউদ্দীন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, অর্থ সম্পাদক মাওলানা মুনির হোসাইন কাসেমী, ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়সাল আহমদ, সহ-অর্থ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোসাইন কাসেমী, সহকারী সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা গাজী ইয়াকুব, ঢাকা মহানগর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা ফজলুর রহমান প্রমুখ।

দলীয় সূত্রমতে, নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য কয়েকজন অনুসারী নিয়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত হন হেফাজতের বিতর্কিত নেতা মাওলানা মামুনুল হক।

জানা গেছে, ওই বৈঠকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শীর্ষ নেতারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সস্তা জনপ্রিয়তা পেয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছিলেন মামুনুল হক। তিনি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। নিজেকে সর্বে-সর্বা মনে করছিলেন। সংগঠনের চেইন অব কমান্ড তিনি মানছিলেন না। অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তার কারণে হেফাজতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস উঠে যাচ্ছিল। অনাহুত ঝামেলা পাকিয়ে সরকারকে খেপিয়ে তুলছিলেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বৈঠকের এক পর্যায়ে হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল ও মালানা আব্দুর রব ইউসুফী মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার পার্লারে কাজ করার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এ ব্যাপারে মামুনুল হকে কাছে প্রকৃত সত্য জানতে চান। তখন মামুনুল হক তাদের জানান, জীবন এবং জীবিকার প্রয়োজনে তিনি নিজেই জান্নাত আরা ঝর্ণাকে ঢাকার একটি বিউটি পার্লালে কাজ জোগাড় করে দিয়েছেন।

সূত্র মতে, মামুনুলের এই স্বীকারোক্তির পর হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাকে বলেন- পার্লারে কাজ করা দোষের কিছু না। কিন্তু আপনি (মামুনুল হক) কোন পরিবারের সন্তান— সেটা আপনার মাথায় রাখা উচিত ছিল। তাছাড়া ভরণ-পোষণ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করা উচিত না।

এদিকে ওইদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল করিম কাশেমি সংগঠনটির নায়েবে আমির ড. আহমেদ আব্দুল কাদেরকে ফোন দিলে মামুনুলের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ তো সুযোগ পেয়ে গেল। সত্য কী মিথ্যা, সেটা পড়ের কথা। মানুষ তো এখন বলবে- যান, আপনারা মাওলানারা কেমন, তা বোঝা হয়ে গেছে…। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, আপনারা তাকে (মামুনুল হক) এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেন তিনি রাজপুত্র। ব্যাপারটা হয়েছে ঠিক তারেক রহমানের মতো।’

ফজলুল করিম কাশেমি ও ড. আহমেদ আব্দুল কাদেরের এই ফোনালাপ এখন নেট দুনিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। এ ছাড়া হেফাজতের আরও দুই নেতার ফোন আলাপ থেকে জানা যায়, সংগঠনের স্বার্থে আপাতত তারা মামুনুলকে ডিফেন্ড করবে। পরিস্থিতি শান্ত হলে হেফাজতের নেতৃত্ব থেকে তারে সরিয়ে দেওয়া হবে।

অবশ্য এসব ব্যাপারে মিডিয়াতে সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে চান না হেফাজতের নেতারা। আপাতত তারা দেখতে চান মামুনুল হকের ব্যাপারে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

সেদিনের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী সারাবাংলাকে বলেন, ‘বৈঠক শুরুর দিকে আমি ছিলাম না। বেশ কিছুক্ষণ পরে আমি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলাম। ফলে সব আলোচনা আমি শুনিনি।’

‘অবশ্য মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা যে বিউটি পার্লারে কাজ করেন, সে বিষয়টি ওখানে গিয়ে আমি শুনেছি। আর উনি (মামুনুল হক) যে তাকে বিয়ে করেছেন, সে ব্যাপারে স্বাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দুজন লোককে তিনি (মামুনুল হক) বৈঠকে নিয়ে এসেছিলেন’— বলেন মুজিবুর রহমান হামিদী।

এসএএম