১২ বছর পর বিদেশে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ

১২ বছর পর বিদেশে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ

স্পোর্টস ডেস্ক ::
এখন পর্যন্ত ৭৭ ওয়ানডে সিরিজ খেলে বাংলাদেশের জয় ২৭টিতে। এরমধ্যে ২২টিই নিজেদের মাটিতে। হ্যাঁ, পরিসংখ্যানটা পরিষ্কার একেবারেই পরিষ্কার। বিদেশের মাটিতে ৩৪ সিরিজের বিপরীতে জয় মাত্র ৫টিতে। এরমধ্যে কোনো দলকে হোয়াইটওয়াশ করে জয়ের রেকর্ড মাত্র দুটি। দেশের বাইরে এমন অর্জন ২০০৬ এ কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথম। আর শেষটি ২০০৯ এ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তার মানে ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদেশভূমে আর কোনো দলকে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ জিততে পারেনি টাইগাররা।
 
আজ জিতলেই সেই আক্ষেপ মেটানোর দারুণ সুযোগ তামিম ইকবালের দলের জন্য। টানা দুই ম্যাচ জিতে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজ নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। শুধু তাই নয় ২০১৩ পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ১৮ ম্যাচে জিতেছে বাংলাদেশ। আজ টানা ১৯তম জয়ের রেকর্ডও ডাকছে সফরকারীদের। বলার অপেক্ষা রাখে না সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে দারুণ আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা। শেষ ম্যাচে ১৭৩ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর শেষ ওভারে তুলে নিয়েছে ৩ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয়। রানের জন্য ফর্মে ফিরতে যুদ্ধ করতে থাকা সাকিব আল হাসান ফিরেছেন দারুণ এক ইনিংস দিয়ে। তিনে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৯৬ রান করে। তবে সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপ মিটেছে হারতে থাকা দলের জয়ে।
 
জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছিল ১৫৫ রানে। সেই ম্যাচে সাকিব বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে তামিমদের ২৪১ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় স্বাগতিকরা। জবাব দিতে নেমে ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারায় টাইগাররা। সেখান থেকেই সাকিব লড়াই চালিয়ে যান শেষ পর্যন্ত। এ বছরের শুরুতে তিনি শেষ ফিফটি হাঁকিয়ে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ৪ ইনিংস পর ফের ফিফটি। সবশেষ সাকিব সেঞ্চুরি করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে সাকিব নিজের ব্যাটিংয়ের চেয়ে সঙ্গী পেস অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিনকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন। সেঞ্চুরির জন্য তার চিন্তাও ছিল না। তিনি বলেন, ‘আফিফের সঙ্গেও একই কথা বলছিলাম, সাইফুদ্দিনের সঙ্গেও তাই। একটাই কথা বলছিলাম। আমরা ব্যাটসম্যানরা যদি ৪৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে পারি, তাহলে দেখতে পারবো আমরা কোথায় আছি। তখন ১৫-২০ বা ৩০ রান দুই-তিন ওভারেও করা সম্ভব, এখনকার ওয়ানডে ক্রিকেটে। সবসময় লক্ষ্য ছিল খেলা যতটা ক্লোজ করতে পারি। কখনই চিন্তা করিনি যে, ৬০-৭০ রান লাগে সেটা তাড়াতাড়ি তাড়া করতে হবে। সবসময় জানতাম, বলে বলে রান থাকলে খুবই সহজ।’
 
বাংলাদেশ দল হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে উইকেটের চরিত্র মাথায় রেখে লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে মাঠে নামছে। টেস্টে ৯ ব্যাটসম্যান নিয়ে একাদশ সাজানোতে শুরুতে সমালোচনা ছিল। কিন্তু জয়ের পর দেখা গেছে সেই পরিকল্পনাই কাজে এসেছে। ওয়ানডেতেও তাই করছে দল। সাকিব, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দু’জন সিনিয়র অলরাউন্ডার থাকার পরও শেষ দিকে আফিফ ও সাইফুদ্দিনের মতো তরুণ দুই অলরাউন্ডারকে রাখা হয়েছে। তাই টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার পরও দল লড়াই করতে পারছে অনায়াসেই। আজও শেষ ম্যাচে একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। কারণ এ টি-টোয়েন্টিও ২০২৩ এ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য কোচরা দলকে এখন থেকেই দেখে নিতে চাইছে। তবে আজ একটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। মোসাদ্দেক হোসেনের পরিবর্তে দলে খেলতে পারেন নূরুল হাসান সোহান।
 
ওয়ানডে সুপার লীগের ম্যাচ বলে শেষ ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একাদশ নিয়ে খুব একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই। ১১ ম্যাচে এখন ৭০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচ জিতলে জুটবে আরও ১০ পয়েন্ট। এরপর দেশের মাটিতে সুপার লীগে টাইগারদের শেষ তিন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান। তাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পয়েন্ট খোয়াতে চাইবে না তামিমের দল।
 
এসএএম