সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন


একজন সফল মানুষ: ড.আহমদ আল কবির

একজন সফল মানুষ: ড.আহমদ আল কবির

  • 496
    Shares

প্রতিদিন ডেস্ক : ড. আহমদ আল কবির রুপালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান। চাকরি জীবনের পাশাপাশি নানা দিক বিবেচনায় সফল মানুষদের তালিকায় তার নাম এমনিতেই চলে আসে। একাডেমিক ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে রেখে চলছেন সফলতার ছাপ।
ঢাকা: ড. আহমদ আল কবির রুপালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান। চাকরি জীবনের পাশাপাশি নানা দিক বিবেচনায় সফল মানুষদের তালিকায় তার নাম এমনিতেই চলে আসে। একাডেমিক ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে রেখে চলছেন সফলতার ছাপ।

তিনি একাধারে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী, মিডিয়া ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ভূমিকা রেখেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধেও।

ড. আহমদ আল কবিরের জন্ম হযরত শাহজালালের পূণ্যভূমি সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে নূরপুর গ্রামে।১৯৫২ সালের ৩০ মে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ড. আহমদ আল কবির জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বাবা তোফাজ্জল আলী ছিলেন একজন ডাক্তার, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজকর্মী ও শিক্ষানুরাগী। মাতা মিসেস রহিমা খানম ছিলেন স্বাধীনচেতা মুক্ত মনের মানুষ, শিক্ষানুরাগী এবং সমাজকর্মী।

৬ ভাই ও দু’ই বোনের মধ্যে ড. কবির বড়। তাঁর পরিবারের সবাই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্র্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ড. কবিরের দাদার নাম হাজী মুজাম্মেল আলী। তাঁর দাদার নাম ছিল নূর মোহাম্মদ। নূর মোহাম্মদের নাম অনুসারেই তার গ্রামের নাম নূরপুর গ্রামের নামকরণ করা হয়।

দু’মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে ড. কবিরের সংসার। স্ত্রী মমতাজ শামীম ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যাপক। দু’ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে তুহ্ফাত উল কবীর। তিনি তার স্বামী (পেশায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার) নিয়ে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত। আর ছোট মেয়ে মায়িশা কবির আইন বিভাগে অধ্যয়ণরত।

ড. কবির ঢাকায় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকলেও তাঁর নিজ এলাকার জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল জীবন:
জকিগঞ্জ উপজেলার ইছামতি প্রাইমারি স্কুল থেকে প্রাথমিক লেখাপড়া শেষ করেন ড. কবির। প্রাইমারি শিক্ষা শেষ করে ১৯৬২ সালে ইছামতি হাইস্কুলে ভর্তি হন। তিনিই এই স্কুলের প্রথম ছাত্র ছিলেন যে অংকে লেটার মার্কসসহ কলা বিভাগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। মাধ্যমিকে কলা বিভাগ থেকে পাশ করলেও পিতা-মাতার ইচ্ছায় তিনি এমসি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ:
১৯৬৯ সালে তখন ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন শুরু হয়। এসময় ড. কবির আন্দোলনের জন্য এলাকার জনগণকে সংগঠিত করেন। ১৯৭০ সালের মার্শাল-‘ল’ জারির পর পাকিস্তানি সেনারা ড. কবিরসহ প্রায় ১শ’ জনকে আসামি করে সামরিক আদালতে মামলা করেন।

পরে ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনের সময়েই ১৯৭০ সালে বিচার শুরু হয়। ওই মামলায় তাঁর অনেক বন্ধু জেলে যান। প্রায় ৫০-৬০ জন আইনজীবী তাদের মামলার জন্য লড়েছিলেন। এরপর তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ৬ই জুন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ড. কবিরের বাড়ি আক্রমণ করে। তবে তাঁর চাচা ছাড়া অন্য কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পাকিস্তানি সেনারা। তাঁর চাচা তজমুল আলীকে পাকবাহিনীর লোকেরা কালিগঞ্জ বাজারে গাছে ঝুঁলিয়ে অমানষিক নির্যাতন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজ এলাকায় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তিনি। পরিষদের আহবায়ক ছিলেন ড. কবির।

একজন মুক্তিযোদ্ধা
আহমদ আল কবির ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর বাবাও ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সরকারি কর্মকর্তা (ডাক্তার) হয়েও ডাঃ তোফাজ্জল আলী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভারতে গিয়ে আসামের লোহারবন্দে (শিলচর) ড. কবির প্রশিক্ষণ নেন। ভারতে ক্যাপটেন রাজা রাম তাঁকে প্রশিক্ষণ দেন। পরে তিনি ৪ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সাব সেক্টরে যোগদান করেন।

যুদ্ধকালীন সময়ে স্থানীয় নেতাদের ডাকে জকিগঞ্জ ফিরে ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব নেন কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বর্তমান জকিগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খলিলুর রহমান, প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান বন্ধুবর মাসুক উদ্দিন আহমদ ও এনাম আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন তারা।

শিক্ষায় আন্দোলন:
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সিলেটের বর্তমান এমসি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তরের মাধ্যমে স্নাতকোত্তর ক্লাস চালুর জন্য আন্দোলন শুরু হয়। ওই আন্দোলনে ড. কবিরের সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।

বিশেষ যোগ্যতা:
ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন বিষয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭টি দেশে বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন ড. কবির। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৪টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বাংলাদেশে শহর এলাকায় ‘সূর্যের হাসি’ কার্যক্রমের প্রধান হিসাবে ইউ.এস.এ.আই.ডি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

বর্তমানে সরকার কর্তৃক গঠিত অনেকগুলো জাতীয় কমিটির সদস্য তিনি। ২০০৯ সাল থেকে আমেরিকার জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির এডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি হিসাবে মনোনীত হন ড. আহমদ আল কবির। বর্তমানে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন খণ্ডকালীন ফ্যাকাল্টি মেম্বার।

অন্যান্য পরিচয়:
রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান। পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। আরটিএম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজিং পার্টনার ও প্রধান নির্বাহী। ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের পরিচালক ও সহ-সভাপতি। ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির পরিচালক। রিসার্চ, ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি। সিলেটের আইডিয়াল টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। জাতীয় বেসরকারি সংস্থা সীমান্তিকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া তিনি আমেরিকার জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি মেম্বার।

দক্ষ সংগঠক:
১৯৭৯ সাল থেকে সিলেটের সর্ববৃহৎ এনজিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. কবির। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ২ হাজারের অধিক কর্মচারী কর্মরত আছেন। চারটি স্কুল ও কলেজ, সিলেট শহর এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ উপজেলায় ক্লিনিক ও হাসপাতাল চালু করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের সদস্য। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ইউএসএআইডি, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএনএফপিএসহ অনেক প্রতিষ্ঠান -এর উপদেষ্টা হিসাবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে ড. কবিরের।

বাংলাদেশের শহর ভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্যক্রমের অন্যতম রূপকার হিসাবে ড. কবির পরিচিত।

রাজনৈতিক পরিচয়:
আদর্শিক ও প্রগতিশীল চিন্তার কারণেই ১৯৬৯ সাল থেকে মূলত রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ড. কবির। সিলেট মুরারী চাঁদ কলেজে ভর্তি হয়ে যখন হোস্টেলে ওঠেন তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা হোস্টেলে এসে তাদের ব্যানারে সাধারণ ছাত্রদের নেওয়ার চেষ্টা করতো। তিনি তখন প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে ১১ দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হলেন। সঙ্গতকারণেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

এরই ধারাবাহিকতায় পেশাগত কাজের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নির্বাচনে সিলেটে তার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে মুক্তিযোদ্ধা, গরীব ও যুব সমাজকে সংগঠিত করে সমাজ সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার জনগণের কাছে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে কাজ ও হাফিজ আহমদ মজুমদার এম,পি, ও নূরুল ইসলাম নাহিদের নির্বাচনী কাজে সক্রিয় অংশ নেন। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসাবে কর্মরত ড. কবির।

উল্লেখ্য, তিনি ১৯৭৫ বাকশালের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। বিশেষ করে কৃষি বিপ্লবের কাজ করার জন্য বাকশালের সঙ্গে অন্তর্ভূক্ত হন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শহীদ হওয়ার পরে সেটি আর হয়নি। তবে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিষয়টি তিনি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধূর মৃতুর পর তিনি সীমান্তের ওপারে ভারতে পালিয়ে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ায় যারা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁদের অনেককে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজে ভূমিকা রাখেন।

সেবামূলক কাজ:
বাংলাদেশের গরীব ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের বিশেষ করে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের মানুষের উন্নয়নে গত ১০ বৎসর গড়ে সিলেট বিভাগেই ১০ কোটি টাকার সেবামূলক কাজ তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালনা করেছেন। এলাকার বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব তিনি।

সকলের সাথে সু-সম্পর্কের জন্য এলাকায় অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনায় বিশ্বাসীদের চাকরি ও বিভিন্ন প্রকার সহায়তা দিয়ে থাকেন তিনি। সিলেট বিভাগের কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ লোককে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়েছেন। এছাড়া তিনি অনেক স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

কর্ম পরিচয়:
১৯৭৮ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও গবেষণা কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ জনসংখ্যা কার্যক্রমে প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবে চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত লন্ডনে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান। ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক ভিত্তিক “এনজেন্ডার হেলথ্” নামক প্রতিষ্ঠানের এশিয়া অঞ্চলের প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত আমেরিকার বোস্টন ভিত্তিক ইউ.এস.এ.আই.ডি “সূর্য্যরে হাসি” কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

২০০২ সাল থেকে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত “আর.টি.এম ইন্টারন্যাশনাল” এর প্রধান হিসাবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এশিয়া অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কাজের স্বীকৃতি:
ড. কবির ১৯৯৩ সালে আমেরিকা ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘এনজেন্ডার হেলথের’ ‘মেরিটরিয়াস সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। মহাত্মা গান্ধী রিসার্চ কাউন্সিল থেকে ২০১০ সালে তিনি ‘মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

প্রতিভা বিকাশ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ভলান্টারি অ্যাসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশ থেকে সমাজসেবার জন্য ‘গুণীজন সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড-২০০৯, ইউনানী চিকিৎসা উন্নয়ন ও বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জাতীয় সমন্বিত উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ২০০৯-১০ অ্যাওয়ার্ড, ব্যাংকিং খাতে উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ লেখক ফোরাম থেকে বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী সম্মাননা পদক-২০১০, স্বাস্থ্যসেবামূলক কাজে অবদান রাখার জন্য ২০১১ সালে সাপ্তাহিক সমধারা’ পদক ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ‘বিশেষ মানবাধিকার পদক-২০১০’ লাভ করেন।

ব্যাংকিং খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ বিজনেস ডাইজেস্টের ২০১৩ সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটির ‘কবি নজরুল পদক ২০১৪’ লাভ করেন। অথনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে এ পদক দেওয়া হয়।

এছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থা সিমান্তিক পর পর ৪ বার সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ এনজিও হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার অর্জন করে।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়:
ড. আহমদ আল কবির জকিগঞ্জ এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কো-এ্যাডমিনিস্টার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসন পরিচালনা করার লক্ষ্যেই তা গঠন করা হয়েছিল। ওই প্রশাসন রাজাকারদের দিয়ে রাস্তা-ঘাট মেরামত ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করাতো। প্রশাসন গঠনের উদ্দেশ্যের মূলে ছিল বিশ্ব-মিডিয়াদের বোঝানো যে দেশে প্রশাসন চলছে।

মুক্তিযুদ্ধের পর সিলেট ব্লুবার্ড স্কুলে (তৎকালীন অস্থায়ী আঞ্চলিক সেনা-সদরে) গিয়ে অস্ত্র সমর্পণ করেন তিনি। ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রশাসনে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ড. কবির এএসপি হিসেবে পুলিশ বিভাগে নিয়োগ পান। তবে উচ্চ শিক্ষার কারণেই তাঁর বাবা চাকরিতে যোগদান করতে দেননি। পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে যায়। পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য লেখাপড়া শুরু করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (অনার্স), এম.এ (অর্থনীতি) ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার ওপর বৃটেনের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল ডেমোগ্রাফিতে এম.এস.সি এবং আমেরিকার প্যাসিফিক ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে পপুলেশন ও ডেভেলপমেন্টে পিএইচডি ডিগ্রি(অর্থনীতি) অর্জন করেন।

চাকরির খোঁজে…
লেখাপড়া শেষ করে ১৯৭৭ সালে চাকরির জন্য ঢাকায় আসেন তিনি। ঢাকায় এসে সরাসরি একটি মেসে বন্ধুদের সাথে ওঠেন। বর্তমান ওই মেসটি ক্যাপিটাল হোটেল (জোনাকি সিনেমা হলের কাছে)। ওই মেসটি ছিল সিলেট অঞ্চলের লোকদের রাজনৈতিক আড্ডাখানা।

ড. কবির মেসে থাকা অবস্থায় দেখে তাঁর বন্ধুরা বিভিন্ন চাকরি করছেন। তিনিও চাকরির জন্য চেষ্টা করলে অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক চাকরি হয়নি। এভাবে চাকরি খুঁজতে গ্রিন রোডের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মহাপরিচালক আবেদন নিয়ে কর্নেল হাসমত আলীর কাছে যান। মৌখিত পরীক্ষাতে একটি গবেষণা প্রকল্পে তাঁর চাকরি হয়।

এরপর মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইংয়ে নিয়োগ পান।

খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর ভাল কাজের স্বীকৃতি পেতে থাকেন। তখনই বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা কার্যক্রমের প্রধান ড. রিচার্ড মোর তাকে ইউএনএফপিএ -এর চাকরির প্রস্তাব দেন উচ্চ বেতনে।

১৯৮০ সালের শেষের দিকে বৃটিশ কাউন্সিলের বৃত্তি নিয়ে বৃটেনের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে পপুলেশন ও ডেভেলপমেন্টের উপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা পাস করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে আমেরিকা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এভিএসসি নামক প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তার স্ত্রী অধ্যাপিকা মমতাজ শামীমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

একই সালের শেষের দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন লন্ডন স্কুল অব হাইজিন ও ট্রপিকেল মেডিসিনে মেডিকেল ডেমোগ্রাফিতে এম,এস,সি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁদের লন্ডনে থাকার সময়ই তাঁদের বড় মেয়ে তুহ্ফাত উল কবীরের জন্ম হয়।

আন্তর্জাতিক কার্যক্রম:
১৯৮৩ সালে দেশে ফিরে আবারও তিনি এভিএসসি’র আন্তর্জাতিক কাজে যোগ দেন ড. কবির। এরপর এভিএসসি’র হয়ে পুরো এশিয়া-অঞ্চলের দায়িত্ব নেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ভূটান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ অনেক দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে কাজের জন্য এভিএসসি’র বিশ্বব্যাপী মেরিটরিয়াস সার্ভিস পুরস্কার গ্রহণ করেন। যেটি আমেরিকার বাইরে কোন রাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে তাঁর এ অর্জন প্রথম। পাকিস্তানের মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার কারণেই এ পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার দেওয়ার সময় ড. কবিরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্টরা তুলে ধরেন।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সূর্য্যরে হাসি চিহ্নিত ক্লিনিক চালু এবং আমেরিকা ভিত্তিক জন ¯েœা ইনকরপোরেটেড নামক প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পান।

১৯৯৬ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত এই সংস্থার (জেএসআই) প্রথমে উপ-প্রধান ও পরে প্রধান হিসেবে সূর্য্য হাসিকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করেন ড. কবির।

এটি ছিল ইউএসএইড এর শহর অঞ্চলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কার্যক্রম। যেটি ২০০২ সালে শেষ হয়। পরবর্তীতে সংস্থাটি কাজ সমাপ্ত করে দেশ থেকে চলে যায়। এই সময়ে বাংলাদেশ জেএসআই নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন নেয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ২০০২ সালের অক্টোবর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

২০০৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করার ব্যাপারে জে এস আই- ইউএসএ এবং ড. কবির সিদ্ধান্ত নেন ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান রিসার্চ, ট্রেনিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট (আরটিএম) এন্টারন্যাশনাল নামে আত্মপ্রকাশ করে। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র পাঁচজন লোক নিয়ে কাজ শুরু করলে ও এখন তা একটি বড় প্রতিষ্ঠান হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

সীমান্তিক গঠন:
১৯৭৯ সালে ড. কবির তাঁর নিজ এলাকার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও বন্ধুদের নিয়ে সীমান্তিক নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘবদ্ধ করে যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকা, বৃহত্তর সিলেটে ১৩টি উপজেলা ও ঢাকা শহরের বস্তি অঞ্চলে সীমান্তিকের ২০টি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনসাধারণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ১ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী সার্বক্ষণিক, সক্ষম দম্পতি, মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় সীমান্তিক প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নয়নের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা বিস্তারে সীমান্তিকের অর্জন খুব সামান্য নয়। ব্র্যাক সহযোগিতায় ১৫টি অনানুষ্ঠানিক বিদ্যালয় চালু আছে, যাতে প্রতি বছরে ১ হাজার ৩’শ জন ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা লাভ করছে।

এছাড়া কালিগঞ্জে একটি উন্নতমানের বিদ্যালয় ও সিলেট শহরে আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সিলেট শহরে একটি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালু রয়েছে। গত কয়েক বছর সিলেটের শ্রেষ্ঠ এনজিও হিসেবে সীমান্তিক প্রধানমন্ত্রী পদক পেয়েছে।

আরটিএম:
এ প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ ছিল স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম বিচার-বিশ্লেষণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ড. কবির কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সাধারণ ও দুস্থ্য মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্যই আরটিএম কাজ করছে। জাপান সরকারের অর্থায়নে আরটিএম সিলেটে একটি মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা-স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপনের কাজে হাত দিয়েছে।

আরটিএম -এর পাশাপাশি বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন তিনি। তাঁর মায়ের প্রতিষ্ঠিত ডা. টি আলী ও রহিমা আলী ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। এর সঙ্গে কিন্ডার গার্টেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এবং টিচার্স ট্রেনিং কলেজসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন।

এর পাশাপাশি ২ বছর মেয়াদী কমিউনিটি প্যারামেডিক ট্রেনিং কোর্স, ৪ বছর মেয়াদী মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং কোর্স, এবং ৩ বছর মেয়াদী মিডওয়াইফারী ট্রেনিং কোর্সের মাধ্যমে কর্মমূখী বাস্তব শিক্ষা চালু করেন ড. কবির।

ব্যাংক চেয়ারম্যান ও সাফল্য:
২০০৮ সালের নির্বাচনে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পান। নির্বাচন পরিচালনার কাজটি তিনি যথাযথভাবে সম্পন্ন করে তিনি তাঁর ব্যবস্থাপনা কাজে দক্ষতার পরিচয় দেন। পরবর্তীতে সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০০৯ সালে ডিসেম্বর মাসে নিয়োগ করেন ড. কবিরকে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় ব্যাংকের প্রায় ১২০০ কোটি টাকা পূঞ্জিভূত লোকসান ছিল। যে কারণে ব্যাংকটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।

তবে ওই অবস্থা থেকে পর্যদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন ব্যাংকে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছেন। নতুন লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের সকল ক্ষেত্রেই সংস্কার করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী ঋণ (এসএমই) বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে।

নতুন শাখা খোলা হয়েছে এবং ব্যাংকটিকে সার্বিক ভাবে আধুনিকায়নের ব্যবস্থা সফলতার সাথে করা হয়েছে।

বর্তমানে রূপালী ব্যাংক এখন একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটি প্রত্যেক বছরই মুনাফা করছে। তারল্য সংকট নেই ব্যাংকে। বিনিয়োগ করার মত পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে।

ড. আহমদ আল কবিরের স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের যুব সমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা। এছাড়াও জনগণকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা, কর্মমূখী শিক্ষা দেয়া, মাথা পিছু আয় বাড়ানো, জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন ঘটানো। সিলেট বিভাগের সামগ্রিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করে আমূল পরিবর্তন ঘটানো।

নিজ এলাকার পাশাপাশি দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করতে চান এ মানুষটি।

সিলেট প্রতিদিন/ এস/আর


  • 496
    Shares




পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com