বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১২ অপরাহ্ন


জেলার নেতৃত্বে ছন্দপতন : যারা আসছেন

জেলার নেতৃত্বে ছন্দপতন : যারা আসছেন


প্রতিদিন প্রতিবেদক :: সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের  আসন্ন সম্মেলনে ছন্দপতন ঘটছে নেতৃত্বের। আসছে নতুন মুখ। আগামী ৫ ডিসেম্বর সম্মেলনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নেতৃত্বের দৌড়ঝাঁপ। এর ফলে একদিকে দলীয় কর্মীরা উজ্জীবিত হলেও কৌতুহলের মাত্রাও বেড়ে গেছে অনেকগুন। জেলা নেতৃত্বের বিগত কার্যক্রমের চুলছেড়া সমালোচনাও চলছে গভীরভাবে। জেলার সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে দলকে তৃণমূলে চাঙ্গা করতে দক্ষ নেতৃত্বের দাবি তৃণমূলের।

মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সাথে কথা বলে জানাযায় নতুন নেতৃত্ব আসছে জেলা কমিটিতে। তৃণমূলের এই দাবির সাথে সমর্থন রয়েছে কেন্দ্রের। কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, সিলেটে কোন্দল এবং গ্রুপিং রাজনীতিতে দলীয়ভাবে কোনটাসা আওয়ামী লীগ। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন রয়েছে কেন্দ্রের।

জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান জেলা কমিটিতে থাকছেননা-এমন তথ্য প্রায় নিশ্চিত। তাই সভাপতি পদ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের রয়েছে উৎসুক দৃষ্টি। এই পদে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এর মধ্যে একজন মন্ত্রীও। রয়েছেন বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য। একই ভাবে সাধারণ সম্পাদক পদে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক কয়েকজন ছাত্রনেতা। ত্যাগী এবং ক্লিন ইমেজের নেতারাও সাধারণ সম্পাদক পদে নিজেদের প্রস্তুত রেখে চালাচ্ছেন প্রচারণা। তবে, বিগত দিনে একাধিক কর্মকান্ডে বিতর্কিত ব্যক্তিরা স্থান পাচ্ছেননা জেলা আওয়ামী লীগে- এমনটি প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায়।

সিলেট প্রতিদিনের তথ্যানুসন্ধানে সভাপতি পদে এই পর্যন্ত যাদের নাম পাওয়া গেছে-তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বৈদেশিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা সহ-সভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, জেলার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও অপর সহ সভাপতি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ । তবে, সম্মেলনের আগে এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে আরো দু’একটি নাম।

সাধারণ সম্পাদক পদে এই পর্যন্ত যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান সহ-সভাপতি এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ও দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুহেল।

জেলা সভাপতি পদে মন্ত্রী ইমরান আহমদ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সমর্থন পেতে পারেন-এমনটি জানিয়েছেন দলীয় কর্মীরা। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, জেলা যুবলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইমরান আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো গ্রুপ থাকতে নেই। গ্রুপ সবার একটাই। গ্রুপের নাম শেখ হাসিনা। মন্ত্রীর এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টিতে চোখ পড়ে কেন্দ্রের। তাছাড়া, গ্রুপ রাজনীতির বাইরে এবং ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ থাকায় তিনি রয়েছেন অনেকটা সুবিধাজনক স্থানে।তবে, দলীয় প্রধানের বক্তব্যের সূত্র নিয়ে অনেক কর্মী বলেছেন, রানিং মন্ত্রীকে সংগঠনের দায়িত্ব না দিতে নেত্রীর নির্দেশ রয়েছে। সেই নির্দেশ সিলেটের ক্ষেত্রে বহাল থাকলে, ইমরান আহমদ সভাপতি পদ নাও পেতে পারেন।

এই পদে সভাপতি প্রার্থী বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীও গ্রহণযোগ্য তৃণমূলে। জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বার্ধ্যক্যজনিত কারণে দলীয় কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলেও বিগত দিনে জেলার সকল ধকল একাই সামলে নিয়েছেন শফিক চৌধুরী। কাজ করেছেন তৃণমূলেও।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দলীয় কর্মসূচির বাহিরেও শফিক চৌধুরী সমান সরব থেকেছেন। কর্মীর স্বজনের মৃত্যু, বিয়ে, মিলাদ মাহফিল সবকিছুতেই সামিল থেকেছেন তিনি।তৃণমূলের নেতারা বলেন, শফিক চৌধুরী বীজ রোপন করতে জানেন কিন্তু ঘরে ফসল নিতে পারেননা-এমনটি অকপটে বলছেন তারা।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ সামাদ কয়েস চৌধুরীকেও সভাপতি পদে যোগ্য মনে করছেন অনেকেই। কয়েস চৌধুরী সমর্থকরা জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেলে জেলা কমিটি শতভাগ সফল এবং কোন্দলমুক্ত থাকবে বললেও বিরোধী পক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। বিরোধীদের বক্তব্য জেলা কোন্দল নিরসন পরবর্তী ব্যাপার। এর আগে তো নিজ উপজেলাকে কোন্দলমুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু কয়েস চৌধুরীর নিজ উপজেলায় কোন্দল চলমান বলে দাবি করছেন তারা।

সভাপতি পদে অপর শক্তিশালী প্রার্থী বর্তমান সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাশুক উদ্দিন আহমদ। তিনিও নেতাকর্মীদের কাছে ত্যাগী হিসেবে সমধিক পরিচিত।দল ও দেশের স্বার্থে অনেকবারই ত্যাগ শিকার করেছেন । সম্মুখ সমরের একজন যোদ্ধা এবং কর্মীবান্ধব হিসেবে সভাপতি পদে এই নামটিও আলোচিত হচ্ছে জোরেসোরে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদেরও শক্তিশালী একটি ভিত রয়েছে তৃণমূলে। সেই হিসেবে জেলা সভাপতির তালিকায় এই নামটিও বেশ শক্তিশালী বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দলের একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন,দীর্ঘদিন দলে থাকায় জনপ্রিয়তার দিক থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই আশফাক আহমদ।

সভাপতি পদে নিজের প্রার্থীতা বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সহ সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে দলের হয়ে কাজ করছি, আমৃত্যু কাজ করে যাবো। তিনি বলেন, সভাপতি পদে তৃণমূল থেকে দাবি উঠেছে, আমি তাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছি। আশা রাখছি- দলীয় কর্মীদের ভালোবাসার প্রতিদান দিবে কেন্দ্র।

দলের সাথে আছি ৫২ বছর ধরে-এমনটি জানিয়ে অপর সভাপতি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, জেলা কমিটির চলমান অচলাবস্থা নিরসন হওয়া উচিত। সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত না হলে সংগঠনি ঝিমিয়ে পড়ে, দেখা দেয় দলীয় কোন্দল। তিনি বলেন, দলে ছিলাম-দলের প্রয়োজনে আগামীতেও কাজ করতে চাই বলে জেলায় সভাপতি পদে নিজের নাম ঘোষণা করেছি। তিনি দলীয় প্রদানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীর মন্তব্য জানতে ব্যক্তিগত সেলফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য আদায় করা সম্ভব হয়নি।





পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com