বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন


বেকায়দায় মেয়র আরিফ

  • 1.8K
    Shares

প্রতিদিন প্রতিবেদক : প্রচণ্ড বেকায়দায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। শুরুর দিকে নগর উন্নয়নে নাগরিকদের প্রশংসা কুঁড়ালেও ক্রমেই থলের কালো বিড়াল বের হয়ে আসছে। আওতার বাহিরে কাজ করে এমনতিইে তহবিল সংকটে ফেলেছেন সিসিককে। নগরীর ড্রেণ সংস্কার কাজেও রয়েছে সিসিকের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।

সড়ক ও জনপথের আওতাভুক্ত নগরীর ঐতিহাসিক কিনব্রিজকে সংস্কারের নামে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া নিয়েও ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি। নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত নিয়ে অভিযানের নামে মেয়রের নাটকীয়তাও এখন নগরবাসীর কাছে স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ভালো যাচ্ছেনা সিসিক মেয়র আরিফুল হকের দিনকাল।

এদিকে, বৃহস্পতিবার মেয়রের নামের পাশে ৪২০ যুক্ত করে দিয়েছেন সঞ্জয় রায় নামের এক ঠিকাদার। যাকে বলে ফোর টোয়েন্টি। শুধু ফোর টোয়েন্টিই নয়, অর্থ আত্মসাতকারীও। এমন একটি অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার ঢাকায় মামলা করেছেন ঠিকাদার সঞ্জয় রায়। মামলার আসামী সিলেট সিটি কর্পোরেশেনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মামলায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের পরিচালক শেখ মোস্তাফিজুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে ৪২০, ৪০৬ ও ৫০৬ পেনাল কোডে মামলা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল জাহিদ। তিনি জানান, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলা করা হয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মেয়র আরিফুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রদীপ্ত সিলেটবাসীর ব্যানারে ওই মানববন্ধনের উদ্যোক্তা ছিলেন ‘আমার এমপি ডটকমের’ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুশান্ত দাস গুপ্ত। সেদিন মানববন্ধন চলাকালে কাফনের কাপড় ও ফুলের মালা পড়ে প্রতীকী আত্মাহূতি কর্মসূচি পালন করেন ঠিকাদার সঞ্জয় রায়। পাশাপাশি সেদিন সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল।

অভিযোগ সঞ্জয় রায় উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনে নগর ভবন নির্মাণের জন্য একটি ওয়ার্ক অর্ডার হয়। ওয়ার্ক অর্ডারটি ১৬ কোটি আট লাখ টাকা মূল্যে মাহবুব ব্রার্দাস প্রাইভেট লিমিটেডকে প্রদান করা হয়। মাহবুব ব্রাদার্স কাজটি সম্পাদনের জন্য ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর সম্পা-তপা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর সঞ্জয় রায়ের সঙ্গে চুক্তি করে। এই কাজের বিপরীতে নগর ভবন মাহবুব ব্রাদার্সের নামে বিল ইস্যু করত এবং তারা সম্পা-তপা এন্টারপ্রাইজকে টাকা দিত। মোট কাজের আনুমানিক ৫ শতাংশ কাজ বাকি থাকাবস্থায় সঞ্জয় রায়ের লিভার সিরোসিস রোগ ধরা পড়লে তিনি চিকিৎসা নিতে ভারতে যান। এই সময় মেয়র আরিফুল মূল ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্সকে জিম্মি করে দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকার চূড়ান্ত বিল সঞ্জয় রায়ের অগোচরে রেখে আত্মসাৎ করেন।

পরে দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে মেয়র আরিফ ঠিকাদার সঞ্জয় রায় প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় মামলার ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিলেট প্রতিদিন/এসএল


  • 1.8K
    Shares




পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com