মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন


ক্যাসিনো থেকে ১৫ লাখ টাকা পেতেন মেনন

ক্যাসিনো থেকে ১৫ লাখ টাকা পেতেন মেনন


সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযানটি চালানো হয় ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে। ওই দিন অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১৪২ জনকে আটক করে র‌্যাব। এছাড়াও আনুমানিক ২০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। পরে ক্লাবের সভাপতি যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে ৭ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। রাশেদ খান মেননকে খালেদ প্রতিদিন পাচ লাখ টাকা মাসোয়ারা দিতেন। খালেদ আরও বলেন, এমনকি যখন নতুন নতুন ক্যাসিনো সামগ্রী এসেছে, সেটাও রাশেদ খান মেননকে অবহিত করা হতো।

এ বিষয়ে ইয়ংমেন্স ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান স্থানীয় সাংসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, তিনি ২০১৬ সালে একদিনই ওই ক্লাবে গিয়েছেন, ফিতা কেটেছেন। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান পদটি আলংকারিক, দায়িত্বের পদ না।

পরবর্তীতে রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২৫ সেপ্টেম্বর উকিল (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়, ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন ইয়ংমেন্স ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে তিনি লালফিতা কেটে ক্যাসিনো উদ্বোধন করছেন এবং তার সেই ছবি ক্লাবের চেয়ারম্যানের কক্ষেও আছে।

এছাড়াও ঢাকায় ক্ল্যাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতার  হওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জানা যায়, প্রতিদিন উপাজির্ত অর্থের ভাগ পেতেন স্থানীয় সাংসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ সুবিধাভোগী একাধিক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা।
সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

এ ছাড়া পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্টের ৩, ৪ এবং ১৩ ধারা অনুসারে এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্য জুয়া আইনের ৩, ৪, ১৫ ধারা অনুযায়ী দায়ী করা যায়।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল নগরীর টাউন হলে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, ‘গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিও নির্বাচিত হয়েছি। তারপরও আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি পরবর্তীতে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেনি দেশের মানুষ।

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে সম্পৃক্ততা পাওয়া সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন একদিকে যেমন ইমেজ সংকটে আছেন। ঠিক তেমনি এবারে মন্ত্রীত্ব বঞ্চিত হওয়াতে তার মনে কিছু ক্ষোভ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। বিদেশী পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে সব দলের অংশগ্রহনে গ্রহনযোগ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন,তা ইতিমধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
(১) হঠাৎ রাজনীতির ময়দানে সাক্ষ্য দিলেন একাদশ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি! তিনি এজন্য এখন বিদ্রোহ করে উঠলেন কেন? এসব কি তার চতুর বক্তৃতা?

(২) ক্যাসিনো বাজিকররা আটক হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে তার মাসোহারাদানের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে। যার কারণে ক্যাসিনো বিতর্ক থেকে নিজেকে রক্ষার কৌশল হিসাবে সরকার বিরোধী কথাবার্তা বলছে। তাহলে রাশেদ খান মেনন কি কোন পূর্ভাবাস/আলামত টের পেয়েছেন?
(৩) ক্যাসিনো ভাগের ও দুর্নীতির জন্য সরকার তাদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে গেলে যেন বলতে পারে সরকার বিরোধী কথাবার্তার জন্য এ্যাকশন নেয়া হয়েছে। এজন্যই কি সরকার বিরোধী কথাবার্তা বলছেন?





পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com