l

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন


রবীন্দ্র স্মরণোৎসব নিয়ে তোলপাড় সিলেট : পর্ব ২

রবীন্দ্র স্মরণোৎসব নিয়ে তোলপাড় সিলেট : পর্ব ২


প্রতিদিন প্রতিবেদক : রবীন্দ্র স্মরণোৎসব উদযাপন নিয়ে এখন তোলপাড় সিলেট। এ নিয়ে সিলেটের সংস্কৃতি অঙ্গনের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনেও চলছে বিস্তর আলোচনা। সিলেটে স্মরণকালের এত বড় আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত নেই অনেক বিদগ্ধজন। একপেশে উদযাপন কমিটি গঠন করে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে-এমন অভিযোগ নগরবাসীর মুখে মুখে। ফলে আয়োজনের সফলতা নিয়ে বেড়ে গেছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ভাটা পড়েছে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতেও। কেউ কেউ বলছেন, পরিকল্পিতভাবে একটি চক্র সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বিতর্কিত করতেই নানামুখী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

শ্রীহট্টে রবি ঠাকুরের আগমনের শতবর্ষকে সামনে রেখে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। উদ্যোগের এই অংশ হিসেবে ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর এই উপলক্ষে ২দিনব্যাপী আড়ম্বর অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে আয়োজন হবে রবীন্দ্র স্মরনোৎসব। আয়োজনের প্রস্তুতি এবং সফলতার লক্ষ্যে গঠন করা হয় ২৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ উদযাপন কমিটি। উদযাপন কমিটি গঠনের পর পরই শুরু হয় নাটকীয়তা। কমিটিতে ২৫ সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি জানান দিলেও আহবায়ক এবং সদস্য সচিব ব্যতিত অন্যদের নাম এখনও প্রকাশ করেনি কমিটি। এমনকি ওই পরিষদের উদ্যোগে কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হলেও উপস্থিতির তালিকায় নাম দেওয়া হয়নি উদযাপন পরিষদ সদস্যদের। ফলে কথা উঠেছে উদযাপন পরিষদের স্বচ্ছতা নিয়ে। বিষয়টি কেনোই বা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে- সে বিষয়টিও পরিস্কার নয় সিলেটের সংস্কৃতি অঙ্গনে।

সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ উদযাপন কমিটির আহবায়ক। এই কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। এই পর্ষদের দুইদিনব্যাপী আয়োজনে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সম্প্রতি নগরীর হাফিজ কমপ্লেক্সে নিজ দায়বোধ থেকে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। সাবেক অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত সভায় উদযাপন পর্ষদ সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি স্মরণ করা হয় সকল সংস্কৃতি কর্মীদের। সভায় সদস্যসচিব পদ পরিবর্তনের দাবি তোলেন, সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের নগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সেই সাথে সিলেটে এত বড় আয়োজনে দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কেনো উপেক্ষিত এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি ওই সভায় এও বলেন, দলীয় নয়-সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট হিসেবে এই দাবি উত্থাপন অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। সাবেক মেয়রের এমন বক্তব্যকে উপস্থিত সকলেই হাততালি দিয়ে সমর্থন করেন। এমন অবস্থায় সভার সভাপতি এবং আয়োজক কমিটির আহবায়ক আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, উদযাপন বিষয়ে এখনও কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে, কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাবেক মেয়রের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে এসময় তিনি বলেন, সদস্য সচিবের জায়গায় নতুন নাম প্রস্তাব করা হোক । এ সময় উপস্থিত সকলের মধ্য থেকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বিজিত চৌধুরী এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিষ্টার আরশ আলীর নাম আলোচনায় উঠে আসে। পরে আবুল মাল আবদুল মুহিত পরবর্তী সভায় সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে উপস্থিত সবাইকে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে গঠিত উদযাপন পরিষদে যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন মদন মোহন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ। অভিযোগ রয়েছে- তিনি মদন মোহন কলেজে বসে নিজের অনুগত বাহিনীর একাধিক লোককে এই কমিটিতে যুক্ত করেন। এর সাথে যুক্ত রয়েছেন জাতীয় কুপুত্র তারেক রহমানকে মানপত্র উপহার দেওয়া সাবেক জাসাস নেতা । সিলেটের সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন উদীচী, প্রাচীন সাহিত্য সংগঠন ছড়া পরিষদ, ছড়ামঞ্চ সিলেট, জয়বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটসহ আরো একাধিক সংগঠনকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা উদীচীর সভাপতি বিশিষ্ট কবি ও গবেষক এনায়েত হাসান মানিক বলেন, ‘যেহেতু কমিটির তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি সেহেতু উদীচীকে রাখা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে, আয়োজনকে সামনে রেখে এই কমিটি একাধিক সভা ডাকলেও সভাপতি হিসেবে আমি উপস্থিত থাকার কোনো দাওয়াত পাইনি’। ছড়া পরিষদ সিলেটের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ছড়াকার অজিত রায় ভজন বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের আলোকবর্তিকা। কবিগুরুর সিলেটে আগমনের শতবর্ষ পূর্তিকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন নি:সন্দেহে সিলেটবাসীর জন্য গর্বের। তবে, এই আয়োজনের প্রস্তুতি সভায় ছড়া পরিষদের ডাক পড়েনি কোনোদিন- যা অত্যন্ত দু:খজনক।

ছড়ামঞ্চ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ গাজী বলেন, ছড়ামঞ্চ শুধু সিলেট নয়, জাতীয়ভাবেও সমাদৃত। সিলেটে সাহিত্য সংস্কৃতির এতোবড় আয়োজনে ডাক পড়েনি ছড়ামঞ্চের-এই বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক। তিনি নিন্দা জানিয়ে বলেন, এর সাথে যুক্ত রয়েছেন রবীন্দ্র মতাদর্শবিরোধী কিছু সংখ্যক সাংস্কৃতিক কাউয়া। একই ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে জয়বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদকেও।

অভিযুক্ত বিষয়ে বক্তব্য জানতে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্তের ব্যক্তিগত সেলফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ না করায় মন্তব্য আদায় করা সম্ভব হয়নি।





পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com