l

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৫ অপরাহ্ন


সৌন্দর্যবর্ধনের অজুহাতে বজ্রপাত নিরোধক তাল গাছ কাটছে সিসিক

সৌন্দর্যবর্ধনের অজুহাতে বজ্রপাত নিরোধক তাল গাছ কাটছে সিসিক


প্রতিদিন প্রতিবেদক:: সারাদেশে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে তালগাছ রোপন করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দেশব্যাপী তালগাছ লাগানো ও তালবীজ রোপণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনা অনুযায়ী গত দুই বছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩১ লাখ ৬৪ হাজার তালের আঁটি (বীজ) রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দেশব্যাপী যখন তালগাছ রোপনের কার্যক্রম চলছে তখন সিলেট নগরীতে শুরু হয় তালগাছ কাটার কার্যক্রম। গত সোমবার নগরী পাঠানটুলা থেকে ২২টি তালগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। শুধু তালই নয়, ওইদিন সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঠানটুলার সড়ক বিভাজকে ফলদ ও ঔষধি মিলিয়ে মোট গাছ কাটা হয়েছে ৪৮টি। আর গাছগুলো কেটেছে খোদ সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

তবে সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ফুলগাছ রোপণ করতে এ গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে ফুলগাছ লাগানোর জন্য ঔষধি ও ফলদ গাছ কাটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ কর্মীরা।

পরিবেশবাদীরা বলছেন- যেখানে তালগাছ বজ্রপাত, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে, সেখানে ফুলগাছ লাগানোর কি দরকার। ফুলগাছ তো আর বজ্রপাত থেকে রক্ষা করবেনা। এটা নিতান্তই মেয়রের স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

পাঠানটুলা এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক বিভাজক তৈরি করার পরই সেখানে ফল, ফুল ও ঔষধিসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগান ওই এলাকার মৃত নায়েক মো. আব্দুল বাতেন। তাল, রেইনট্রি, নিম, আকন্দ, পেয়ারা, জাম ও বরইসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৫০টি গাছ লাগান তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি গাছগুলোর পরিচর্যা করেছেন। অথচ গত সোমবার হঠাৎই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়রা এ সময় বাধা দিলেও কোনো কাজ হয়নি।

প্রয়াত আব্দুল বাতেনের ছেলে মো. আবুল হাসান নেওয়াজ বলেন, আমার বাবা গাছগুলো লাগিয়েছিলেন। এর মধ্যে তালগাছ ছিল ২২টি। তিনি সন্তানের মতো গাছগুলোর যতœ নিতেন। হঠাৎ করেই সিটি করপোরেশনের লোকজন গাছগুলো কেটে ফেলল। আমরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলেছে, গাছ কাটার জন্য তাদের অনুমতি আছে। আগে জায়গাটা সবুজ ছিল। কিন্তু গাছগুলো কাটার পর স্থানটি কেমন বিরান হয়ে গেছে।

পাঠানটুলা এলাকার বাসিন্দা আলীউল বলেন, গত বছরও এই ডিভাইডারের গাছের জাম ও বরই খেয়েছি। এখানে নিমের গাছও ছিল। সবগুলো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। দিনের বেলায় গাছ কেটে রাতে ঠেলা গাড়িতে করে নিয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় এসব গাছ কেটে সেখানে ফুলগাছ রোপণের কোনো যুক্তি নেই।

বর্তমানে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের নগরীর ভেতরের অংশের বিভাজকের সংস্কারকাজ চলছে। এ কাজের ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমরা শুধু ডিভাইডারের কাজ করছি। গাছ কে এবং কেন কাটছে আমরা জানি না।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের উপসহকারী প্রকৌশলী ইসমালুর রহমান বলেন, অফিসের নির্দেশেই ওই গাছগুলো কাটা হয়েছে। জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, গাছগুলো অনেক বড় ছিল। এগুলো ডিভাইডারের উপযোগী গাছ না। পথচারীদের গায়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ত। তাই গাছগুলো কাটা হয়েছে। এখানে কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া গাছ লাগানো হবে।

গাছ কাটার এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, সিসিকের উদ্যোগে গাছ কাটার এ ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। তার ওপর সেখানে ২২টি তালগাছ ছিল। ফুলগাছ লাগানোর জন্য বড় তালগাছ কাটার কোনো যুক্তি নেই।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, একটি তালগাছের বীজ থেকে চারা হতেই এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। এ গাছ আমাদের বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে। অথচ সিলেট নগরীতেই ২২টি তালগাছ কাটা হলো। বিষয়টি দুঃখজনক।

সিলেটপ্রতিদিন/এসএ





পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com