বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১১ অপরাহ্ন


অস্থির পেঁয়াজের বাজার, বেপরোয়া ব্যবসায়ীরা

অস্থির পেঁয়াজের বাজার, বেপরোয়া ব্যবসায়ীরা


প্রতিদিন ডেস্ক : দিনে দিনে অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের পেঁয়াজের বাজার। ব্যবসায়ীরাও বেপরোয়া। তারা রীতিমতো মূল্য বাড়ানোর প্রতিযোগিতা লিপ্ত হয়েছেন। ধাপে-ধাপে বাড়াচ্ছেন পেঁয়াজের মূল্য। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। শুক্রবার (০১ নভেম্বর) প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি দরে। ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের কাছে তারা এক ধরনের জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসছে না। বিষয়টিতে রীতিমতো বিব্রত সরকার। রাজধানীর একাধিক বাজারে ও মহল্লায় খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত সপ্তাহে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১১৫ টাকায়। এর আগের সপ্তাহে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে, ভারত সরকার শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিয়েছে। সংবাদটি জানার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির ভাব এলেও তা মিলিয়ে যায়। কারণ সীমিত আকারে হলেও পেঁয়াজ রফতানির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য কোনও সুসংবাদ বয়ে আনেনি। জানা গেছে, ভারতের কর্নাটক রাজ্যে ব্যাঙ্গালুরুতে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ায় দেশটির কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুধু মালয়েশিয়ায় রফতানির জন্য পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ রফতানির অনুমতি না থাকায় সেখানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৬ থেকে ১০ রুপি দরে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যে, ব্যাঙ্গালুরু থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ চেন্নাই সমুদ্রবন্দর দিয়ে জাহাজে নিতে হবে। যা অনেকটাই ব্যয়বহুল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি ২/৩টি ব্যাবসায়িক গ্রুপকে দিয়ে পেঁয়াজের বড় চালান আনার উদ্যোগ নিলেও তা এখনও দেশে এসে পৌঁছায়নি। ওই পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছাতে আরও তিন/চারদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা। যদিও মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, বড় চালানের পেঁয়াজ আসছে। এছাড়া নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। এত সুসংবাদের পরেও লাগামহীনভাবে বাড়ছে পেঁয়াজের মূল্য। বর্তমানে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যংকের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কোনও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কেন দেড়শ টাকা দিয়ে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হবে? বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা উৎসবের মেজাজে বেচাকেনা করছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে একই বাজারের ক্রেতা মমিন হোসেন বলেন, ‘বাজারের চিত্র দেখলে কি মনে হয়, দেশে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে? ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বাজারে পেঁয়াজ সংকট, এ তথ্য কি বিশ্বাস করতে হবে? দেশের প্রতিটি বাজার পেঁয়াজ আছে। অথচ বিক্রেতারা পেঁয়াজের বস্তার ওপরে শুয়ে বসে আছেন। থরে থরে পেঁয়াজের বস্তা সাজিয়ে রেখেছেন। কিন্তু মূল্য কমছে না।’

কোনাপাড়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা মূল্য বাড়াচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের মূল্য যে কয়দফা বেড়েছে, তার হিসাব নেই। প্রতি দফায় কেজিতে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের মূল্য। অস্বাভাবিক মূল্য বাড়ার পেছনে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে বলেও জানান তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজী আবদুল মাজেদ জানিয়েছেন, ‘অভিযাগটি ঠিক নয়। আমরা পেঁয়াজের মূল্য বাড়াই না। যে দরে আমদানি করি, সেই দরের সঙ্গে পরিবহন খরচ ও মুনাফা যোগ করে বিক্রি করি।’

জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘২/৪দিনের মধ্যেই মেঘনা, সিটি ও এস আলম গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজ দেশে আসবে। একইসঙ্গে চলতি নভেম্বরের শুরুতে ভারতেও নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। অন্যদিকে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশও নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। তখন এমনিতেই ভারতের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। পেঁয়াজের বাজারের এমন চড়াভাব আর থাকবে না।’

এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমের পাশাপাশি সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এরপরও কোনও সবজির মূল্য কমেনি। উল্টো কিছু সবজির মূল্য বেড়েছে।

চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি শিম, মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি, লাউ, করলা, ঝিঙে, বরবটি, পটল, ঢেরস ধুন্দুলসহ সব ধরনের সবজি। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি। চিচিংগা, ঝিঙা, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।

সিলেট প্রতিদিন / এফ এ





পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com