শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৫:০৩ অপরাহ্ন


ছাতকে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি

ছাতকে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি

  • 3
    Shares

প্রতিদিন ডেস্ক::

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বড়কাপন পয়েন্টে কলেজ ছাত্রীদের হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এলাকায় শতাধিক ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসক বরাবরে গত ২৯ অক্টোবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়- ছাতক থানাধীন জাউয়া বাজার ইউনিয়নের কপলা, সুড়িগাঁও, মোগলগাঁও, সুরুজপুর, চরমহল্লা ইউনিয়নের কামরাঙ্গি, আহারগাঁও, মনিয়ার সের, পান্ডারগাও ইউনিয়নের জলসী, নলুয়া, উশাইর গাঁও, মছলন্দরগাঁও সহ আশপাশ এলাকার জনসাধারণ দীর্ঘদিন যাবত শ্রীপুর হতে কপলা ও বড়কাপন হয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে তথাকথিত বড়কাপন পয়েন্টে গাড়ী সংগঠন নাম করে মাঝপথে যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে অন্য গাড়িতে জাউয়া বাজার পাঠায়। এতে কৈতক হাসপাতালগামী রোগী ও কলেজের ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ জনগন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অথচ যাত্রীরা সরাসরি জাউয়াবাজারগামী, মাঝপথে নামার কোন প্রয়োজন নেই। তবুও বিনা কারণে গাড়ী সংগঠন তাদের নিজস্ব ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে যাত্রীদের ভুগান্তি দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে। যার কারণে কলেজ শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ধারিত সময়ে কলেজে পৌঁছতে পারেন না। হাসপাতালগামী রোগীও ঠিক এমন ভুগান্তির শিকার হচ্ছেন। লাইসেন্সবিহীন ও প্রশিক্ষণ বিহীন ছাড়া বখাটে গাড়ী চালকরা কলেজ ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছে।

বিগত ২০১১ সালে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ মুহিবুর রহমান মানিককে এ বিষয়ে অবহিত করলে তিনি ছাতক-দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন। সিদ্ধান্ত হয় যে- শ্রীপুর থেকে জাউয়াবাজার পর্যন্ত একটানা গাড়ি চলবে। পথিমধ্যে যাত্রী নামিয়ে হয়রানি না করার জন্য গাড়ী চালকের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুরুতে কয়েকমাস এ রীতি চললেও পরে তথাকথিত গাড়ী সংগঠন আবারও যাত্রীদের জোরপূর্বক বড়কাপন পয়েন্টে নামিয়ে ভুগান্তি শুরু করে দেয়।

২০১৮ সালের ১৫ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিলেটস্থ ছাতক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন বড়কাপন পয়েন্টে নামলে এক ড্রাইভারকে রিজার্ভ কপলা যাওয়ার জন্য বললে সে ৬০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা দাবি করে। পরে রিক্সা যোগে যেতে চাইলে রিক্সা থেকেও নামিয়ে দেয়। উক্ত বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবহিত করলেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। এভাবে হাজার হাজার যাত্রীরা হয়রানির শিকার হলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।
গত ২০ অক্টোবর কপলা গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ মুন্সি জামাল আহমদ গাড়ি চাইলে ড্রাইভার বলে, তোকে গাড়ী দেবনা, তুই পায়ে হেঁটে যা।

গত ২৩ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় ৩জন মুরব্বি ও ১জন মহিলা যথাক্রমে হাজী আলকাছ আলী, হাজী জমির আলী, হাজী সিরাজ আলী এবং খয়রুন্নেছাকে ড্রাইভার সমিতির সমিতির অফিসে জোর করে ঢুকিয়ে ড্রাইভার আলী, আব্দুল মালিক ও কপিল উদ্দিন গং ঘরের সাঁটার বন্ধ করে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি এবং ঠেলা ধাক্কা দেয় ও একটি মোবাইল সেট হাত থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেয়।

উল্লেখ্য যে, কপলা থেকে বড়কাপন পয়েন্টে ভাড়া ১০টা নিলেও বহুদিন ধরে ড্রাইভাররা অযথা ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রী হয়রানি করে আসছে। ড্রাইভারদের ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে অত্র এলাকার যাত্রীরা ভুগান্তির শিকার ও জিম্মি হয়ে আসছেন। ভাড়া নিয়ে ড্রাইভাররা বিভিন্ন সময় অত্র এলাকার যাত্রীদের সাথে অযথা ঝগড়া করে আসছে।
স্মারকলিপি প্রদান করেন মহি উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, মুন্সি জামাল, সরিন্দ্র নাথ, হোছাইন আহমদ, আব্দুল কুদ্দুছ, দেলওয়ার আহমদ, আইন উদ্দিন, মুশাইদ, আব্দুর রহিম, মালিন্দ্র নাথ, নুরুজ্জামান, আব্দুল কাহার, আলকাছ আলী, লুৎফুর রহমান, হাবিব, আব্দুল বারি, জমির আলী প্রমুখ।

সিলেটপ্রতিদিন/এসএ


  • 3
    Shares




পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com