বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন


ভবন ধসে চাপা পড়ার ৪৭ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

ভবন ধসে চাপা পড়ার ৪৭ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

  • 11
    Shares

প্রতিদিন ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় চার তলা ভবন ধসে ভেতরে চাপা পড়া ওয়াজিদের (১২) লাশ ঘটনার ৪৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে দমকল বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা লাশটি উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।

তিনি জানান, হয়তো সে (ওয়াজিদ) বের হতে গিয়ে দেয়ালের নিচে চাপা পড়েছিল। আমরা ভবনের দেয়াল কেটে কেটে আসবাবপত্র সরিয়েও তার সন্ধান পাচ্ছিলাম না। নিচের কাঁদা পানির কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়েছে।

নিহত ওয়াজিদ ধসে পড়া ভবনটির পাশের বাড়ীর রুবেল মিয়া ও কাকলি বেগমের সন্তান। সে বেপারিপাড়ার সানরাইজ স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

নিহত ওয়াজিদের পিতা রুবেল মিয়া জানান, ভবনটির নিচতলায় সোনিয়া নামে এক মহিলা আরবি পড়ান। ওই দিন দুপুরের পর আমার ছেলেসহ অন্যরা আরবি পড়ার জন্য সেখানে যায়। আরবি পড়তে এসে আমার ছেলে আটকা পড়েছিল। আমি ফায়ার সার্ভিসকে বারবার বলেছি, ভেতরে অক্সিজেন দেন, নীচে আটকা পড়েছে কিনা দেখেন। আমার সন্তান এখানেই আছে। তারা আমার কথা শোনেনি। আজকে দুদিন পর আমার ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করল।

গত রবিবার বিকেল সোয়া চারটায় ফতুল্লা থানার এক নম্বর বাবুরাইলের শেষ মাথায় মুন্সিবাড়ি এলাকার এইচএম ম্যানশন নামে চর তলা ভবনটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় শোয়েব নামে এক স্কুলছাত্র নিহত ও ২ জন আহত হয়। ঘটনার সময় ভবনের ভেতরেই ছিল ওয়াজিদ। সে ওই ভবনের নিচ তলায় আরবি পড়তে গিয়েছিল। ধসে পড়ার সময় ওই ভবনে ওয়াজেদের সঙ্গে ছিল আরেক শিশু স্বপ্না (১৩)।

স্বপ্না জানায়, প্রতিদিনের মতো ওই দিনও আমি, ওয়াজিদ ও শোয়েব আরবি পড়ছিলাম। তখন হঠাৎ শিক্ষক তাদের বলেন, ভবনটি কাঁপছে। এ কথা শোনার পরপরই আমরা তিনজন পড়া রেখে উঠে দাঁড়াই। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভবনটি বিকট শব্দে ধসে পড়ে। মুহূর্তেই আমরা পানিতে তলিয়ে যাই। পরে অন্যরা কোনোমতে পানি থেকে উপরে উঠতে পারলেও ওয়াজিদ পারেনি।

স্বপ্নাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রায় দুই ঘণ্টা চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। পরে স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখান থেকে রাত ১০টায় দমকল বাহিনীর কর্মীরা তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। স্বপ্না ফায়ার সার্ভিসকে আরবি পড়ার রুমটি দেখিয়ে দেয়। স্বপ্নার দেখানো তথ্যমতে উদ্ধার কাজ চালায় দমকল বাহিনীর উদ্ধার কর্মীরা। ঘটনার ৪৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ ওয়াজিদের লাশ উদ্ধার করেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, ধসে ভবনটি মূলত একটি ডোবার ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানকার মানুষও এ ব্যাপারে অনেকবার নিষেধ করেছে। ভবনটি কোন সয়েল টেস্ট বা রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পাইলিং না করেই নির্মাণ করা হয়েছিল। ছিল না কোন ফাউন্ডেশনও। ভবনটি তিনতলা করার পরও লোড নিতে পারছিল। সম্প্রতি ভবনটিতে চারতলার ছাদ ঢালাই দেয়া হয়। আর এ লোড নিতে না পেয়ে রোববার ভবনটি ধসে পড়ে।

ভবন ধসে পড়া ও দুই স্কুলছাত্রের নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিলেট প্রতিদিন / এফ এ


  • 11
    Shares




পুরানো সংবাদ

Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  


© All rights reserved © 2017 sylhetprotidin.com